পাজিয়া সুফলাকাঠির ১২ গ্রামে মানুষ পানিবন্দী

0
346

মালিকুজ্জামান কাকা : যশোর জেলার ঐতিহ্যবাহী উপজেলা কেশবপুর। গত সাতদিনের বর্ষনে বহু গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সব থেকে বেশী সমস্যা হয়েছে সুফলাকাটি ও পাঁজিয়া ইউনিয়নে। টানা বৃষ্টির কারণে ১২টি গ্রামের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় গ্রামের মানুষ কঠিন দূর্ভোগের শিকার হয়েছেন। আবাল বৃদ্ধ নারী শিশু সকলেই পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। কেশবপুর উপজেলার বাগডাঙ্গা, মনোহরনগর, পাথরঘাটা, বেলকাটি, গড়ভাঙ্গা, ডোঙ্গাঘাটা, সাগরদত্তকাটি, বেতিখোলা, নারায়নপুর, কাকবাধাল, কাটাখালি, কালিচরণপুর গ্রামের অধিকাংশ মানুষের বাড়ির উঠানে পানি থই থই করছে। অনেকেই যাতায়াতের জন্য উঠানে তৈরি করেছেন বাঁশের সাঁকো। তাতেও কুলানো যাচ্ছেনা। কেউ কেউ দূর থেকে মাটি এনে ও ইট দিয়ে উঠানসহ যাতায়াতের রাস্তা উঁচু করে কোন রকমে চলাচলের চেষ্টা করছেন। তিগ্রস্ত গ্রামের মাট-ঘাট ছাপিয়ে পানি বাড়ি ঘরে ঢুকিয়ে পড়ায় গবাদি পশু নিয়ে মহা দূর্ভোগে পতিত হয়েছেন গ্রামবাসী। এখন সেখানে চলছে গোখাদ্যের তীব্র্র সংকট। বেতিখোলা গ্রামবাসী জানান গ্রামের অনেকেই ঘর থেকে পাকা রাস্তায় উঠতে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন। ঘর থেকে রান্না ঘর, বাথরুমসহ সকল কাজে কলার ভেলা ও সাঁকো তৈরি করে অন্যত্র যাতায়াত করছেন গ্রামের মানুষ।
মনোহর নগর গ্রামবাসী জানান আমরা গ্রামবাসি ত্রাণ চায় না, পানিবন্দি থেকে মুক্তি চায়। বাগডাঙ্গা গ্রামবাসী জানান, অনেকের ঘরে প্রায় ১৫/১৬ দিন ধরে বাড়ির উঠানে হাটু পানি। তাদের রান্না ঘরের চুলার ভেতরে পানি উঠেছে। আলাদা চুলা তৈরি করে রান্না করছেন কেউ কেউ। গৃহবধূ রমিছা বেগম বলেন, বাড়িঘরে পানি উঠার পর গোয়াল থেকে গরু বের করা যাচ্ছে না। গোখাদ্য ফুরিয়ে আসায় বাধ্য হয়ে কম দামে গরু বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। বাথরুম তলিয়ে গেছে। ইউপি সদস্য বৈদ্যনাথ সরকার জানান, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে উপজেলার নেহালপুর গ্রামের কাদার খালের গেট থেকে নিয়ে বগার মোড় পর্যন্ত সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। জ্বরাজীর্ন এ সড়কে ১০ চাকার ট্রাক ৩৫/৪০ মেট্রিক টন মালামাল বহন করার কারনে সড়কের সমস্যা আরও বাড়ছে শুধুই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here