চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের চৌগাছার একটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের পাশ ও মাঠের সমতল ভূমি হতে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে বসত বাড়ি ফসলি জমি ও পাকা সড়ক। অবৈধ পন্থায় বালি উঠিয়ে এক শ্রেনীর ব্যক্তি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছে আর সমতল ভূমি হয়েছে গভীর জলাকার।
উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের অধিকাংশ জমিই হচ্ছে বালুময়। বিশেষ করে চৌগাছা কোটচাঁদপুর সড়কে পাতিবিলা বাজার পার হলেই প্রধান সড়কের দুই পাশই ছিল বালুময় সমতল জমি। এ সব জমিতে সে ভাবে ফসলাদি না হলেও বিভিন্ন ধরনের গাছ গাছালিতে ছিল ভরা। শরতের বিকেলে বালিময় জমিতে ফুটত কাশফুল। স্থানীয় শিশু কিশোররা কাঁশবনে মেতে উঠত খেলায়। সেই সমতল ভূমি এখন গভীর জলাকার। যুগযুগ ধরে এ সকল জমি হতে বালি উঠানোর কারনেই এমন পরিস্থিতি বলে জানান এলাকাবাসি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম, আলমগীর হোসেন, কবির উদ্দিন, সাহেব আলী জানান, পাতিবিলা ও মুক্তদাহ গ্রামের কতিপয় ব্যক্তি অন্তত দু’দশক আগে থেকে বালি তোলা শুরু করে। সে সময়ে প্রতিদিন ট্রাকের পর ট্রাক বালি উঠিয়ে তারা বিক্রি করেছে। সমতল জমি হতে বালি তোলার কারনে এখন সেখানে সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্তের। বছরের বার মাসই এই গর্তে পানি থাকে। বর্তমানে বালি তোলার কারনে সৃষ্ঠ জলাশয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। যুগযুগ ধরে বালি তুলে বিক্রি করে তারা অনেকেই এখন হয়েছে কোটিপতি। কেউ বিভিন্ন মাঠে বিঘার পর বিঘা জমি কিনেছে, আবার কেউ কিনেছে চৌগাছা শহরে বাড়িসহ জমি। ভূগর্ভের বালি তুলে গুটি কয়েক ব্যক্তি লাভবান হলেও এ অঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের শতশত মানুষ চরম হুমকির মুখে। স্থানীয় পাতিবিলা বাজার, স্কুল, সরকারী ভূমি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্্র ঝুকির মধ্যে। সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ্য হবে চৌগাছা-কোটচাঁদপুর সড়ক। কেননা এই সড়কটির দু’পাশ থেকেই উঠানো হয়েছে বালি। যদি কখনর মাটি দেবে যাই তখন প্রথমে ক্ষতির মুখে পড়বে সড়ক। বাস চালক নজরুল ইসলাম, ইজিবাইক চালক সলেমান হোসেন বলেন, পাতিবিলা বাজার পার হলেই অত্যান্ত শতর্কতার সাথে বাহন চালাতে হয়। কেননা সড়কের পূর্ব পাশে যে জলাকার সৃষ্টি হয়েছে তা অত্যান্ত ভয়ংকার। এলাকাবাসি জানান, অসাধু ব্যক্তিরা স্থান পরিবর্তন করেছে মাত্র, তারা এখনও অবৈধ ভাবে বালি তোলার কাজে মগ্ন আছে। পাতিবিলার হয়াতপুর গ্রামের পাশে মর্জাদ বাওড় ও পাশের ফসলি জমি থেকে তোলা হচ্ছে বালি। এছাড়া জগদীশপুর মাঠে সরকারী খাস জমি থেকেই বালি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পাতিবিলা ভূমি অফিসের নায়েব গোলাম রসুল বলেন, আমি এখানে যোগদানের পর অবৈধ বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। বালি তোলার কারনে যে সব জলকার সৃষ্টি হয়েছে তা অবশ্যই এলাকাবাসির জন্য হুমকির। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাফি বিন কবির জানান, অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন বরাবরই কঠোর অবস্থানে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করার পাশাপাশি যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে। এরপরও যারা বালি তোলার কাজে নিয়োজিত আছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।















