যশোরে নৌকার মনোনয়নকে কেন্দ্র করে আহত ৫৩

0
593

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে নৌকার মনোনয়নকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক পরিবেশ। বিভিন্ন স্থানে ঘটছে হামলা ভাংচুরের ঘটনা। কোন কোন ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীকে রাজকারের পুত্র আখ্যায়িত করে হয়েছে মানববন্ধন। দলীয় মনোনয়নে স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অর্থ বানিজ্যের অভিযোগও উঠেছে কোন কোন উপজেলায়। বিশেষ করে যশোরের শার্শা, বেনাপোল, বাঘারপড়া, মণিরামপুর ও চৌগাছায় মনোনয়ন বঞ্চিত দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। কোন কোন ইউনিয়নে দলের একাধিক নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহনের ঘোষনাও দিয়েছেন। এসব বিষয় নিয়ে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য নিয়ে একটি ডেক্স রিপোর্ট ।
তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যশোরের শার্শা, মণিরামপুর ও বাঘারপাড়া উপজেলার ৩৫ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। দলের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড থেকে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা। এর আগে বিকালে বাঘারপাড়া উপজেলার ৯ ইউনিয়নের তালিকা প্রকাশ করা হয়। আগামী ২৮ নভেম্বর এসব ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবনে তার সভাপতিত্বে দলের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের মুলতবি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত ও অনুমোদন করা হয়। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী শার্শার ১০ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা হলেন, ডিহিতে আসাদুজ্জামান, ল্মণপুরে আনোয়ারা খাতুন, বাহাদুরপুরে মিজানুর রহমান, পুটখালিতে আব্দুল গফ্ফার সরদার, গোগায় আব্দুর রশিদ, কায়বায় হাসান ফিরোজ আহমেদ, বাগআঁচড়ায় ইলিয়াস কবির বকুল, উলাশিতে আয়নাল হক, শার্শা সদরে কবির উদ্দিন আহম্মদ ও নিজামপুরে আব্দুল ওহাব। মণিরামপুর উপজেলার ১৬ ইউনিয়নের প্রার্থীরা হলেন, রোহিতায় হাফিজ উদ্দিন, কাশিমনগরে তৌহিদুর রহমান, ভোজগাতিতে আসমাতুন নাহার, ঢাকুরিয়ায় এরশাদ আলী সরদার, হরিদাসকাটিতে বিপদ ভঞ্জন পাড়ে, মণিরামপুরে ইয়াকুব আলী, খেদাপাড়ায় আব্দুল আলিম, ঝাঁপায় শামসুল হক, মশ্বিমনগরে আবুল হোসেন, চালুয়াহাটিতে আবুল ইসলাম, শ্যামকুড়ে আলমগীর হোসেন, খানপুরে আবুল কালাম আজাদ, দুর্বাডাঙ্গায় মাজাহারুল আনোয়ার, কুলটিয়ায় শেখর চন্দ্র রায়, নেহালপুরে এম এম ফারুক হুসাইন এবং মনোহরপুরে মশিয়ার রহমান। বাঘারপাড়া উপজেলার ৯ ইউনিয়নের দলীয় প্রার্থীরা হলেন, জহুরপুর ইউনিয়নে আসাদুজ্জামান, বন্দবিলায় সনজিৎ কুমার, রায়পুরে বিল্লাল হোসেন, নারিকেলবাড়িয়ায় বাবুল কুমার সাহা, ধলগ্রামে রবিউল ইসলাম, দোহাকুলায় ওয়াহিদুর রহমান/আবু মোতালেব, দরাজহাটে জাকির হোসেন, বাসুয়াড়িতে আমিনুর সরদার ও জামদিয়া ইউনিয়নে শেখ আরিফুল ইসলাম তিব্বত। এদিকে এসব ইউনিয়নের মনোনয়ন বঞ্চিতরা নানা উপায়ে আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করেছে।
আমাদের শার্শা প্রতিনিধি জানান, যশোরের শার্শা উপজেলার ৬নং গোগা ইউনিয়ানে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রার্থীতাকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ দলীয় নৌকা প্রার্থী ঘোষণা পাওয়ার পর তার সমার্থকরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তবিবর রহমানের সমার্থকদের উপর হামলা চালিয়েছে। শনিবার সকালে তবিবর রহমান ঢাকা থেকে বাগআঁচড়ায় ফিরলে তাকে আনতে তার সমার্থকরা গোগা বাজার অতিক্রম করা কালীন চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদের সমার্থকরা তাদের উপর অতর্কিত হামলা করে। এই হামলায় তবিবর রহমানের প্রায় ৫০ জন সমার্থক আহত হয়, যার মধ্য ১৩ জন গুরুতর আহত হয়েছে। এলাকাবাসীরা বলেন, চেয়ারম্যান প্রার্থীতাকে কেন্দ্র করে ২ পরে মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতা বিরাজ করছিলো। তারই ধারাবাহিতায় ২২ অক্টোবর নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীতা ঘোষণা হলে, দলীয় মনোনয়ন পাওয়া আব্দুর রশিদ চেয়ারম্যানের সমার্থকরা তবিবর রহমানের লোকজনের উপর সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করে। তার ফলশ্রুতিতে আজ এই হামলা হয়। সরেজমিনে তবিবর রহমানের বাসা অগ্রভুলোটে গেলে দেখা যায়, আহত ব্যাক্তিদের আর্তনাদ। প্রত্যদর্শীরা জানান, তবিবর রহমান ঢাকা থেকে বাগআঁচড়া আসলে তাকে বাড়িতে আনতে তার সমার্থকেরা যাওয়ার পথে গোগা বাজার পৌঁছালে চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রসহ তাদের উপর হামলা চালায়। এই হামলায় গুরুত্বর আহত ১৩ জনসহ সর্বমোট প্রায় ৫০ জন আহত হয়। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষ করে, শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও গুরুতর আহতদের যশোর জেনারেল হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। এবিষয়ে শার্শা থানার ওসি বদরুল আলম খান হামলার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরাও বিষয়টি শুনেছি এবং ঐস্থানে আমাদের টিম সকাল থেকেই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে এবিষয়ে থানায় এখনো কোন অভিযোগ হয়নি।
বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, বেনাপোল পুটখালীতে বোমা হামলায় রাশেদ (৩৮) নামে এক যুবকের ডান হাতের কজ্বি উড়ে গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দু’জন। গুরুতর অবস্থায় তাদের যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলো, পুটখালী গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে সোহেল (৩৫), জিয়াউর রহমানের ছেলে রাশেদ (৪০) ও বাগআচাঁড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আশিকুর রহমান (৪০)। আহত জানান, তারা তিন বন্ধু রাত সাড়ে আট টার দিকে পুটখালী মধ্যপাড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত কেউ তাদের উপর বোমা হামলা করে। এ সময় রাশেদের বাম হাতের কজ্বি উড়ে যায়। অপর একটি সূত্র জানিয়েছেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা বোমা তৈরি করছিলো। এ সময় বোমা বিস্ফোরণে তারা নিজ বোমায় আহত হয়েছেন। জরুরি বিভাগের ডাক্তার সালাউদ্দীন স্বপন জানান, বোমায় আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশংকাজনক।
আমাদের বাঘারপাড়া প্রতিনিধি জানান,উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছে ন বিল্লাল হোসেন। কিন্তু তার এই মনোনয়ন মেনে নিতে পারেননি স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। গতকাল সকালে রায়পুর বাজারে দলের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মানববন্ধন করে। তারা নৌকার প্রার্থীকে রাজাকারপুত্র আখ্যায়িত করে বলেন, বিল্লাল হোসনের পিতা মোহাম্মদ আলী ছিলেন স্বাধীনতা বিরোধী শান্তি কমিটির স্থানীয় সভাপতি। স্থানীয় নেতারা টাকা খেয়ে বিল্লালকে নৌকার মনোনয়ন পেতে সাহায্য করেছে। নেতাকর্মীরা আসন্ন নির্বাচনে বিল্লালকে প্রতিহত করার ঘোষনা দেন। এদিকে সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুর রশীদ স্বপন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার ঘোষনা দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here