যশোরে ইজিবাইক-অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে অভিযান শুরু

0
760

মালিক্জ্জুামান কাকা, যশোর : যশোরে অনুমোদন বিহীন ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা বন্ধে মাঠে নেমেছে পৌরসভা। কয়েক দিন আগে শহরে এ নিয়ে মাইকিং করা হয়। চলতি নভেম্বরের শুরু থেকেই এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। সোমবার শহরের সকল সড়কে পৌর কতৃপক্ষ ও প্রশাসনিক সদস্যদের অবৈধ অনুমোদনহীন ঈজিবাইক ও অটো রিক্সা আটকে অভিযান চালাতে দেখা গেছে। ভয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেকে তাদের ঈজিবাইক ও অটো রিক্সা বাড়ি বা গ্যারেজ থেকে বেরই করেননি। পৌর কর্তৃপ বলছে, তিন হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স থাকলেও চলছে প্রায় ১০ হাজার বা তার থেকেও বেশি। এ কারনে যানজট লেগে থাকে প্রতিনিয়ত। তাছাড়া, যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় নিয়েও রয়েছে হাজারো বিতর্ক। যশোর শহর যানজট মুক্ত করতে ২০১৮ সালে ডিজিটাল যশোরে অবৈধ ইজিবাইক শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় কাজ শুরু করে পৌর কর্তৃপ। ওই সময় লাইসেন্সধারী ইজিবাইক মালিক ও চালকদের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডি সংক্রান্ত (আরএফআইডি) স্মার্ট পরিচয় পত্র প্রদান করা হয়। এই পদ্ধতির ব্যবহারে কিছুদিন যানজট ও অবৈধ ইজিবাইক চলাচল কমলেও তা আর বেশি দূর এগোয়নি। ফলে আগের অবস্থা ফিরে এসেছে। পৌরসভার তথ্য মতে, তিন হাজার ইজিবাইক শহরে চলাচলের অনুমতি আছে। কিন্তু প্রতিদিন প্রায় সাড়ে নয় ১০ হাজার ইজিবাইক চলাচল করছে। একই সাথে শহরে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা চলাচল করে। ফলে শহরে বাড়ছে যানজট। কিছু ইজিবাইক ও অটো রিকশা চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ােভ রয়েছে ব্যাপক। এসব কথা মাথায় রেখে নভেম্বর থেকে অভিযানে নামার ঘোষনা দেয় পৌর কতৃপক্ষ। রিক্সা চালক ও মালিকরা জানান, ৩১ অক্টোবর প্রায় শতাধিক অটো রিক্সা ও অনুমোদনহীন ঈজিবাইক আটক করে কতৃপক্ষ। অবশ্য মানবিক কারনে কয়েকটি দরিদ্র অসহায় মালিকের বা চালকের রিক্সা ছেড়ে দিয়েছে পৌর কতৃপক্ষ। পৌর মেয়র ও কাউন্সিলরের কাছে এসব অসহায় দরিদ্ররা ভীড় জমালে বাধ্য হয়ে কয়েকটি ছেড়ে দিতে হয়েছে কতৃপক্ষ। যদিও মালিক ও চালকরা বলেছেন আর্থিক ছোট খাট লেনদেন করেই তাদের রিক্সা ঈজিবাইক ছাড়ানো হয়েছে। আর এই টাকাটা দিতে হয়েছে কাউন্সিলরদের এজেন্ট বা দালালদের। এই লেনদেনের খবর অবশ্য পৌর কতৃপক্ষ জানেনা। তাদের অগোচরেই তা হয়েছে। যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, পৌরসভা সব সময়ই অবৈধ অটো রিকশা ও ইজিবাইক আটকে অভিযান চালায়। কিছুদিন আগে ৫০টি অটো রিকশা আটক করে পৌরসভা। এ গুলোর চলাচল রোধে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অভিযান শুরু হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই এই কার্যক্রমে হাত দিয়েছে পৌর ও পুলিশ প্রশাসন। তবে আগের দিন অভিযান ট্রায়াল চলেছে যথারিতী। সেখানে সফলতা মিলেছে তা বলাই বাহুল্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here