ঝিকরগাছায় আমনে কারেন্ট পোকার আক্রমণ বিলিন হয়ে গেছে কৃষকের শেষ স্বপ্ন

0
256

জসিম উদ্দিন : যশোরের ঝিকরগাছায় আমন ধানে কারেন্ট পোকার আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। বিঘা বিঘা ফসল নষ্ট হওয়ায় শেষ স্বপ্নটুকু বিলিন হতে চলেছে তাদের। কৃষকরা বলছেন রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে কীটনাশক ব্যবহার করলেও কোনরকম সুফল পাচ্ছেন না তারা।
সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ঝিকরগাছা উপজেলার কলাগাছি সহ বিভিন্ন এলাকার আমন ধানে কারেন্ট পোকার মাত্রাতিরিক্ত আক্রমণ হয়েছে। কোন কোন জমিতে অল্প পরিমাণ পোকার আক্রমণ হলেও পুরো জমির ধান হারিয়েছে কেউ কেউ।
উপজেলার কলাগাছি এলাকায় সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ দেখে চোখ জোড়ালেও এখানেই বিলীন হয়ে গেছে কৃষকের একচিল্তে স্বপ্ন। ধানের প্রাণঘাতি কারেন্ট পোকার আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেক কৃষক।
একাধিক বার কীটনাশক ব্যবহার করেও ধানের একটি দানাও বাঁচাতে পারেননি কেউ কেউ। তাদেরই একজন কলাগাছি গ্রামের ইউনুস আলী। চলতি মৌসুমে নিজের চাষ করা আড়াই বিঘা জমির ধান কারেন্ট পোকার প্রাণঘাতি আক্রমণে পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে।
ইউনুস আলী বলেন পোকার কারনে খড়কুটা ছাড়া এখন আর কিছুই মিলবে না। তবে কৃষি বিভাগের যথাযথ নজরদারি থাকলে এমন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হতোনা বলে জানান তারা।
ইউনুস আলীর মতো অনেক কৃষক কারেন্ট পোকা এবং ধান গাছের রস শোষণকারী ক্ষতিকর পোকার আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। ফলে দেখা যায় অধিকাংশ ভাল জমির ধানের বোল শুকিয়ে চিটা হয়ে গেছে। গাছের রং পরিবর্তন হয়ে মরার উপক্রম হচ্ছে।
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া, প্রয়োজনীয় পরামর্শ, ক্ষেতের পোকামাকড় নিধনে আলোক ফাঁদ সহ প্রনোদনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ।
তিনি বলেন, কারেন্ট পোকা সহ ক্ষতিকর পোকার আক্রমণে কিছু কিছু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসমস্ত কৃষকদের তালিকা করে কৃষি বিভাগ থেকে প্রনোদনা সহ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সহযোগিতা করা হবে।
বর্ষা মৌসুমের শেষাংশ থেকে অনেক কৃষকের আমন ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ হয়েছে। ক্ষেতের ধান গাছ দেখলে পাকা ধান মনে হলেও ক্ষতিকর এই পোকার আক্রমণে শেষ হয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন। কৃষি বিভাগ থেকে অচিরেই প্রনোদনা পেয়ে ঘুরে দাঁড়াবে ইউনুস আলীর মতো ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা এমনটাই প্রত্যাশা এই অঞ্চলের শত শত কৃষকের।
চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ১৮ হাজার ১শ ৩৫ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা থেকে ৬৯ হাজার মেট্রিকটন চাল উৎপাদন হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here