মালিক্জ্জুামান কাকা, যশোর : দরিদ্র প্রবীণ আহমেদ আলী দফাদারের জমি বন্ধক, গরু ছাগল, গাছ গাছালি বিক্রি, এনজিও ঋন এর ওর কাছ থেকে সুদে টাকা ধার নিয়ে জমির মূল্য পরিশোধ করার এক বছর পরেও জমি মালিকরা তাকে জমি রেজিস্ট্রি করে দিচ্ছেনা। অথচ প্রতি মাসে তাকে ধার করা টাকা কড়াই গন্ডায় পরিশোধ করতে হচ্ছে ষোলআনা। মানবেতর জীবন যাপন করছেন ভূক্তভোগী আহমেদ আলী। একই সাথে জমি রেজিস্ট্রি না করে দিলে টাকা ফেরত দাও- একথা বলায় উল্টো যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার উলাকোলের ৮০ উর্দ্ধো এই প্রবীণ ব্যক্তি প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়ে জীবনের শঙ্কায় ভয়ে চলাফেরা করছেন। টাকা গ্রহনকারী চক্রের সদস্যরা এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদেশ পরিপত্রকেও আমলে আনছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার বিবরনে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর নাগাদ উপজেলার ১০ শঙ্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং উলাকোল ওয়ার্ডের মৃত খালেক দফাদারের পুত্র আহমেদ আলী দফাদার প্রয়োজনীয় বিধায় ১৭ শতক জমি ক্রয় রেজিস্ট্রির শর্তে তিন লক্ষ টাকা দেন একই উপজেলার ১. আমেনা খাতুন, স্বামী- মৃত আব্দুর রহিম ২. আনিছুর রহমান, পিতা- মৃত আফছার আলী ৩. রুহুল আমিন, পিতা- সেকেন্দার আলী সর্ব সাং পোদেউলিয়া ৪. সাখাওয়াত হোসেন, পিতা- আব্দুল জলিল, সাং- রাজবাড়ীয়া গং কে। সেই জমি বাবদ তারা নগদ তিন লক্ষ টাকা গ্রহন করেন। আহমেদ আলী দফাদারের আমেনা খাতুন গং অর্থ প্রদানের স্বাক্ষী তিনি নিজে, বড় পোদাউলিয়ার ছলেমানের পুত্র হাফিজুর, আহমেদ আলী দফাদারের স্ত্রী ছায়রা খাতুন, উলাকোল গ্রামের মুজিবরের পুত্র আতিয়ার রহমান ও উলাকোলের মৃত ইসতুল্যা মল্লিকের পুত্র মিজানুর রহমান মিজান। তবে সকল টাকা পরিশোধের পরও আমেনা গং অদ্যাবধি জমি রেজিস্ট্রি করে দেননি। এদিকে দরিদ্র আহমেদ আলী দফাদার জমি বন্ধক, বাঁকড়া ব্রাক এনজিও থেকে ঋন, নিজ বাড়ির গরু ছাগল বিক্রি এবং সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার পিছলাকোল গ্রামের ফারুখের স্ত্রী সাহিদার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে জমির মূল্য পরিশোধ করেন। এর মধ্যে শেষোক্ত নারী আহমেদ আলীর শ্যালিকা। দরিদ্র ও হতভাগা বিধায় ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও আরাফাত রহমান এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে চলতি বছরের ২৯ মার্চ একটি পরিপত্র আদেশ জারি করেন। এর স্মারক নম্বর-০৫.৪৪.৪১১২.০০৬.০৫.০০১.২১-৭২১। কিন্ত আমেনা খাতুন-আনিছুর গং বা তাদের দোসররা ইউএনও’র কোন কথা আমলে নিচ্ছেনা বলে অভিযোগ উটেছে। ইউএনও’র পরিপত্র আদেশ জারির পর সাত মাসেরও বেশি সময় পার হলেও অভিযুক্তরা জমি রেজিস্ট্রি করে দিচ্ছেনা। অথবা তারা আহমেদ আলী দফাদারকে অর্থ ফেরত দিতে উদ্যেগী হচ্ছেননা। ১০ নং শঙ্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেছার উদ্দীন, ৮নং উলাকোল ওয়ার্ডের মেম্বর মোহাম্মদ বিষয়টি জানে। উলাকোল গ্রামবাসী জানায়, আমেনা-আনিছুর গং এলাকায় চিহ্নিত প্রতারক ও ভূমিদস্যু। একই সাথে তারা শত অন্যায় করেও প্রভাবশালী বিধায় গামের নিরীহ সাধারন মানুষ তাদের নানা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারেনা। সমাজে হেন অন্যায় নেই যে, এরা তা করেনা। এই চক্রের সদস্যরা ইতিপূর্বে পাঁচটি জাল দলিলে শুধুমাত্র রেকর্ডের বুনিয়াদে সরকারি জমি কয়েকবার বিক্রি করেছে। ১৪৬ উলাকোল মৌজার এসএ খতিয়ান ভূক্ত ১০০৯ দাগের একটি জমিতেও এরা প্রতারনা করেছে। এ ছাড়া ১১/০৯/১৯৯৬ তারিখে ৫৫৭৯ নং দলিলে একটি, ২৯/০১/২০০২ তারিখে ৯৬১ নং কোবলা মূলে একটি, ১২/০৬/২০০৪ তারিখে ৩৭৫০ কোবলা মূলে একটি এবং ২৮/১০/২০২০ তারিখে ৬৬১১৩/২০ দলিল মূলে প্রতারনার আশ্রয়ে দূর্নীতি করেছেন। বাস্তবে তারা রেকর্ড বুনিয়াদির মাধ্যমে যে জমি রেজিস্ট্রি করেছে তার মালিক বাংলাদেশ সরকার। অর্থাৎ সেই জমি খাস খতিয়ান ভ্ক্তূ।
ভূক্তভোগী আহমেদ আলী দফাদার (৮১) জানান, আসামীরা ভন্ড ও প্রতারক। দরদাম ঠিক হওয়ার পর জমি ক্রয়ের নগদ অর্থ পরিশোধ করা থেকেই তারা টালবাহানা করছে। আমেনা গং তাকে আর জমি রেজিস্ট্রি করে দিচ্ছেনা। আবার তারা টাকাও ফেরত দিচ্ছেনা। এ কারনে তিনি ঋন গ্রস্থ হয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। পাশাপাশি জমি না পেয়ে টাকা ফেরত চেয়ে তার জীবনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই এলাকার চিহ্নিত প্রতারক ঠগ জোচ্চোর। তাদের বিরুদ্ধে এক জমি ৩/৪ বার করে বিক্রি, মানুষজনকে মারধোর, প্রভাবশালী ব্যবহারে প্রতিপক্ষ দমন, জাল কাগজ পত্র তৈরি করে সরকারি জমি বিক্রি সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তিনি ও তার পরিবারের লোকজন কর্ম করে সংসার চালাতে যেয়ে গ্রামের মানুষের সাথে ঠিকমত উঠাবসা করার সুযোগ পাননা এ কারনে কে কোন ধরনের মানুষ তা তাদের জানা নেই। এই প্রতারক চক্র সেই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে বলে তিনি মতামত প্রকাশ করেছেন। আর ঋন কৃত টাকা তাদের দিয়ে তিনি চারিদিকে অন্ধকার দেখছেন। এনজিও ঋন, এর ওর কাছ থেকে ঋনকৃত অর্থ পরিশোধ করতে করতে তিনি হাপিয়ে উঠেছেন। এই সাথে যোগ হয়েছে টাকা গ্রহনকারী আমেনা-আনিছুর গঙের হুমকি ধামকির টেনশন। জ্বরাজ্বীর্ন হয়ে, নাওয়া খাওয়া ছেড়ে জীবনের টেনশনে থাকা এই প্রবীণ ব্যক্তি এখন নিজের অপমূত্যু বা হত্যার আশঙ্কা করছেন। শুধু তিনি একাই নন তার পরিবারের সদস্যরাও এই আশঙ্কার মধ্যে চরম টেনশনে দিন কাটাচ্ছেন। জমি কিনতে টাকা দিয়ে এখন এই পরিবারটি না পাচ্ছে জমি না পাচ্ছে টাকা। টাকা গ্রহনকারিরা জমি অথবা টাকা ফেরতের পরিবর্তে তাদের প্রতি মুহুর্তে নানা পন্থায় হয়রানি করছে। দিচ্ছে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি।















