আগামীকাল ঝিকরগাছায় ইউপি নির্বাচন

0
289

ঝিকরগাছা প্রতিনিধি : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ১১ ইউনিয়নে আগামীকাল ১১ নভেম্বর ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ১১জন প্রার্থী। এদের প্রতীক নৌকা। নৌকা প্রতীক ধারী প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নিজ দলীয় একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রয়েছেন। জেলা নির্বাচন অফিস থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝিকরগাছায় নৌকা প্রতীক ধারী প্রার্র্থী ছাড়াও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪৬ জন। ৪নং গদখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ নৌকা মার্কার প্রার্থী আশরাফ উদ্দিনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন, প্রিন্স আহম্মেদ, শাহাজান আলী, সহিদুল ইসলাম, শফিউল্লাহ খান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আ: আজিজ। ৪নং গদখালী ইউপির সকল চেয়ারম্যান প্রার্থী শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশা করেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সাথে গোলযোগ হয়েছে একই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ওরফে ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলমের। তিনি তার ওয়ার্ডে চেয়ারম্যান নৌকা মার্কার প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী চশমা মার্কার শাহাজান আলীর নির্বাচনী পোস্টারের উপরে নিজের তালা মার্কার পোস্টার লাগিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। মেম্বারপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ওরফে ডা. জাহাঙ্গীর আলমের এলাকায় গেলে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন এটি অবশ্যই নির্বাচনী আচারণ বিধি লঙ্ঘন। নির্বাচনী আচারণ বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে এলাকার সচেতন মহল যথাযথ প্রশাসনের হস্তপে কামনাও করেছেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ২০১৬ সালের গেজেট অনুসারে এসআরও নং ৩০-আইন/২০১৬। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬১নং আইন) এর ধারা ২০ এর উপধারা (১) এ প্রদত্ত মতা বলে নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপনের ৪নং কলামে উল্লেখ রয়েছে, ‘দেওয়াল’ অর্থ বাসস্থান, অফিস, আদালত, শিা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাকেন্দ্র, শিল্প কারখানা, দোকান বা অন্য কোন স্থাপনা, কাঁচা বা পাকা যাহাই হোক না কেন, এর বাহিরের ও ভিতরের দেওয়ালে বা বেড়া বা উহাদের সীমানা নির্ধারণকারী দেওয়াল বা বেড়া এবং বৃ, বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি, থাম্বা, সড়ক দ্বীপ, সড়ক বিভাজক, ব্রিজ, কালভার্ট, সড়কের উপরিভাগ ও বাড়ির ছাদও ইহার অন্তর্ভূক্ত হইবে। একই প্রজ্ঞাপনের ৩১নং কলামে বিধিমালার বিধান লঙ্ঘন শাস্তি যোগ্য অপরাধের ১নং কলামে উল্লেখ রয়েছে, কোন প্রার্থী বা তাহার পে অন্য কোন ব্যক্তি নির্বাচন-পূর্ব সময়ে এই বিধিমালার কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে অনধিকার ৬ (ছয়) মাসের কারাদন্ড অথবা অনধিকার ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হইবেন। কোন দেওয়াল ও গাছে পোস্টার লাগনো যাবে না। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরুর পরে ঝিকরগাছা ইউপি নির্বাচনী এলাকায় পৃথক সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। নির্বাচন উপলে নৌকা মার্কার নির্বাচনি জনসভা থেকে ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন, ‘নৌকা মার্কায় যারা ভোট দেবেন না, তারা যেন সেদিন ভোটকেন্দ্রে না আসেন।’ এমন অভিযোগ করেছেন উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. বারিক। মো. বারিক ৭ নভেম্বর নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং তার পরে নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা চেয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে যশোরের জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। ওই আবেদনের সঙ্গে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বক্তব্যের একটি অডিও কিপ জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনে মো: বারিক উল্লেখ করেছেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ৫ নভেম্বর বিকালে ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের লাউজানি স্কুল মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন, ‘কেউ নৌকা মার্কায় ভোট না দিলে তাদের ভোটের মাঠে আসার প্রয়োজন নেই। আর যদি কেউ আসে, তাহলে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে।’ ১২ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের ওই অডিও কিপে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামের বক্তব্যের সার কথা, ‘১১ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আমির হোসেনকে ভোট দিতে হবে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: বারিককে উদ্দেশ করে বলেছেন, তিনি যেন খুব শিগগির সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন এবং নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন দেন। ১১ তারিখের পর আর তাকে নৌকায় নেওয়া হবে না। বক্তব্যের এক পর্যায়ে মনিরুল বলেন, বারিকের পেছনে স্থানীয় একজন বিএনপি নেতা ও একজন জামায়াত নেতার ইন্ধন রয়েছে। তিনি ওই দুই নেতার উদ্দেশে বলেন, আপনারা ভিন্ন ভিন্ন দল করেন। কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচন বর্জন করেছেন, আপনারা ভোটের মাঠে থাকবেন না। দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলার জন্যে তিনি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন। তিনি নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা সবাই জামায়াত-বিএনপি নেতাদের বাড়িঘর চেনেন। সবাই তাদের বাড়ি বাড়ি যাবেন, তাদের মিষ্টি করে বলবেন, ভোটের দিন মাঠে আসার দরকার নেই। তাদের বলবেন, ওইদিন আপনারা বাড়িতেই অবস্থান করবেন, না হলে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে চলে যাবেন। সেখানে গিয়ে মুরগির মাংস খাবেন। উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বিএনপি-জামায়াত নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আমরা অশান্তি চাই না। আপনারা যদি অশান্তি সৃষ্টি করেন, তাহলে এই যে এখন আপনারা ভালোভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ব্যবসা বাণিজ্য করছেন সেখানে সমস্যা হবে। তবে উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামের দাবি, এটি তার বক্তব্য নয়। তিনি বলেন, আমি এ ধরনের বক্তব্য দিইনি। আমার বক্তব্য টেম্পারিং করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মো. মাহবুবুল হক জানান, জেলা প্রশাসকের কাছে এমন একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তার অনুলিপি আমার কাছে এখনও আসেনি। অনুলিপি পত্র এলে আমার ওপর যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনেক জায়গা থেকে কম-বেশি অভিযোগ আমার কাছে আসছে। প্রতিটি অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ঝিকরগাছায় নৌকা মার্কার ১১ স্বতন্ত্র ৪৬ জন প্রার্থী। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ১২ জন মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন। এদিন সাধারণ সদস্য পদে ২৮ জন এবং মহিলা সদস্য পদে একজন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। ২৬ অক্টোবর ছিলো প্রত্যাহারের শেষ দিন। ১১ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে ৪৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে আছেন। উপজেলা নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগ নেতা রেফেজ উদ্দিন ও যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান। পানিসারা ইউনিয়নে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন তিনজন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগ নেতা মীর বাবরজান বরুণ, আব্দুর রাজ্জাক ও মনিরুল ইসলাম। ঝিকরগাছা ইউনিয়নে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন ও শিমুলিয়া ইউনিয়নে যুবলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম ও নাভারণ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা আওরঙ্গ জেব তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। শংকরপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়জুর রহমান মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। নির্বাসখোলা ইউনিয়নে মাহবুবুল আলম ও হাজিরবাগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়া সদস্য পদে হাজিরবাগ ইউনিয়নে নয় জন, নির্বাসখোলায় তিনজন, শংকরপুর, বাঁকড়া, পানিসারা ইউনিয়নে দুইজন করে, মাগুরা ইউনিয়নে একজন ও ঝিকরগাছা ইউনিয়নে একজন মহিলা সদস্য পদে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। ২৭ অক্টোবর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ি নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে। ১১ নভেম্বর ভোটগ্রহণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here