স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়াউল হকসহ ৩ প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন ৭নং নাভারন ইউনিয়নে সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভোট ডাকাতির অভিযোগ

0
434

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার রক্তাক্ত জখম তিনজন প্রার্থী পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে বৃহস্পতিবার প্রেসকাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এরা প্রত্যেকেই উপজেলার ৭নং নাভারন ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থী। আহতরা যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া স্বর্ত্তেও আহতরা অন্যের সহায়তায় সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্য পেশ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঝিকরগাছা উপজেলার গুননগর গ্রামের আজিজুল হক গোলদারের পুত্র মোহাম্মদ জিয়াউল হক। তিনি স্বতন্ত্র ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী। তার প্রতীক চশমা। তিনি অভিযোগ করেন নাভারন ইউনিয়নের সকল কেন্দ্রে প্রতিপক্ষ শাহাজাহান আলী ও তার লোকজন ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভোট কেটে নিয়েছে। শাহাজাহান আলীর প্রতীক নৌকা। এর প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার লোকজনকে মারধোর করেছে। শাহাজাহান আলী ও তার সর্মথকরা শুধু তাকে একাই আহত করেনি, আরো দুইজন মেম্বর প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদেরকেও রক্তাক্ত জখম করে প্রকাশ্যে ভোট ডাকাতি করেছে। মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, ১নং ওয়ার্ড দেওলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২নং ওয়ার্ড নাভারন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আকিজ কলেজিয়েট স্কুল, ৩নং ঢাকা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪নং ওয়ার্ড রঘুনাথপুর বাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কুন্দিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮নং হাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬নং ওয়ার্ড রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫নং ওয়ার্ড পাঁচপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র সহ ইউনিয়নের সকল ভোট কেন্দ্রে চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাজাহান আলী ও তার সাথে থাকা সন্ত্রাসীরা অস্ত্র সস্ত্রসহ ব্যাপক সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভোট ডাকাতি করে তার সুনিশ্চিত বিজয় কেড়ে নিয়েছে। এসব কেন্দ্রে এদিন সকাল থেকেই ভোটাররা হাজির হয়ে লাইনে দাড়িয়ে যথারিতী ভোট দিচ্ছিলেন। এরপর একেক কেন্দ্রে সন্ত্রাসীরা হাজির হয়ে ভোট ডাকাতি করেছেন। তিনি এর আগেও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এদিন আহত হয়ে তিনি পালিয়ে প্রাানে রক্ষা পান। এরপর তিনি এবিষয়ে থানায় জিডি করেছেন। একই সাথে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও’র কাছে অভিযোগ করেন। এই প্রার্থী পুনরায় ভোট দাবি করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালে ভর্তি আহত মেম্বর প্রার্থী শেখ আব্দুল মাজেদ (৫৪), প্রতীক ফুটবল, সংরক্ষিত সদস্য বা মহিলা মেম্বর প্রার্থী হেনা বেগম, প্রতীক সূর্যমুখী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আরো ছিলেন ফুটবল এজেন্ট আহত শামিম হোসেন (২৩), মনির হোসেন (৪৭), মোয়াজ্জেম হোসেন (৪৮), সাহাবুদ্দিন (৩৭), খোদেজা বেগম (৩৪) প্রমুখ। আহত মনিরুল ইসলাম (৩৫) এর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় তাকে সংবাদ সম্মেলনে আনা যায়নি। সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থী হেনা বেগম বলেন, তাকে মারধোর করে প্রতিপক্ষ তার ভোট দিয়েছে প্রকাশ্যে। তিনি অসহায় অবস্থায় এই ভোট ডাকাতি দেখেন। ৩নং ওয়ার্ড ঢাকা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে এই সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভোট ডাকাতি হয়েছে। এই ওয়ার্ডের ফুটবল মার্কার মেম্বর প্রার্থী শেখ আব্দুল মাজেদ বলেন মোরগ মার্কার প্রার্থী মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তাকে ও তার অনুসারিদের ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেন। তার পোলিং এজেন্টদেরও বের করে দেওয়া হয়েছে। দুপুরের মধ্যেই এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ৩নং ওয়ার্ড ঢাকা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে রড, রামদা, বাশের লাঠি, চায়নিজ কুড়াল, আগ্নেয়াস্ত্রসহ প্রায় অর্ধশত সন্ত্রাসী চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাজাহান আলীর সাথে ভোট ডাকাতি শুরু করে। এসময় সন্ত্রাসীরা ফুটবল মার্কার পোলিং এজেন্ট শামিম হোসেন কে পিস্তল ঠেকিয়ে উঠিয়ে নিয়ে পাঁচঘন্টা আটকিয়ে রাখে। মতলেবের পুত্র হানু তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে ভোট কেন্দ্র থেকে উঠিয়ে অন্যত্র নিয়ে যায়। তার পকেটে থাকা পাঁচ হাজার টাকাও তারা ছিনতাই করে তার কাছে আরো ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চায় বলেও তিনি সংবাদ সম্মেলনে জানান। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, চায়নিজ কুড়াল, লাঠি, রড ব্যবহার করলেও প্রশাসন নিশ্চুপ ছিল। তাদের কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি সেসময়ে। এই কেন্দ্রে প্রায় ২৮০০ ভোট রয়েছে। এখানে প্রিজাইডিং অফিসার আবুল কালাম আজাদ ও রিটার্নিং অফিসার এ্স এম জিল্লুর রশিদ দায়িত্ব পালন করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here