৬ বছর অতিক্রান্ত/ দশমিনায় কার্গোর ধাক্কায় বিধ্বস্ত সেতু খেয়া নৌকায় পারাপার

0
293

নাসির আহমেদ,দশমিনা (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের সুতাবাড়িয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি প্রায় ছয় বছর আগে ভেঙ্গে গেছে। এলাকার ১০ হাজার মানুষের দূর্ভোগ চরমে। আর নতুন সেতু নির্মাণের জোরাল দাবি এলাকাবাসীর। বর্তমানে খেয়া নৌকায় করে এলাকাবাসী পারাপার হচ্ছে।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, নতুন সেতু নির্মাণে নদীর দুই পাড়ে মাটি পরীা-নিরীায় শক্ত লেয়ার না পাওয়ায় ঐ স্থানে নির্মাণ কাজ বাতিল করে দিয়েছে জাইকা। তাই নতুন সেতু কবে নির্মাণ করা হবে তা কেউ জানে না। ফলে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুই পাড়ের মানুষের। ঝুঁকি নিয়ে বৃদ্ধ ও শিশুরা নৌকায় করে সুতাবাড়িয়া নদী পারাপার হচ্ছে। জানা গেছে, খারিজা বেতাগী হাট সংলগ্ন জমিন মৃধা বাজারের সেতুটি দিয়ে উপজেলা সদর, খারিজমা বাজার, বড় গোপালদী বাজার, ঠাকুরের হাট বাজার, সানকিপুর বাজার, বেতাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বড় গোপালদী দাখিল মাদ্রাসাসহ তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন কয়েক শ’ ছাত্র-ছাত্রী ও কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করত। সেতুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি ছোট ডিঙি নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুতাবাড়িয়া নদী পারাপার হচ্ছে। করোনাকালে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও অ্যাসাইনমেন্ট ও পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য নদী পার হতে হয় শত শত শিার্থীকে।
জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে ২০১৪ সালে এডিপির ১০ লাখ টাকা অর্থায়নে পুরোনো লোহার মালপত্র দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর একটি বালুভর্তি কার্গোর ধাক্কায় সেতুটি বিধ্বস্ত হয়ে নুসরাত জাহান নামে ৫ বছরের এক শিশু নিহত এবং ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছিল। এরপর নতুন করে সেতু নির্মাণের জন্য জোরাল দাবি ওঠে। খারিজমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক রফিকুল ইসলাম বলেন, সেতুটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বর্তমানে ছোট ডিঙ্গি নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ সুতাবাড়িয়া নদী পারাপার হচ্ছে।
বেতাগী সানকিপুর ইউপির সাবেক সদস্য মোঃ মাকসুদুর রহমান বলেন, সেতু নির্মাণ না হওয়ায় নদীর পূর্ব পাড়ের মানুষকে উপজেলা সদরে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দশমিনার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মহিবুল আলম বলেন, নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্নিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানানোর পর জাইকা সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে ছিল। উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মকবুল হোসেন বলেন, নদীর দুই পাড়ের মাটির লেয়ার নতুন সেতু নির্মাণের জন্য উপযোগী না হওয়ায় তারা সেতু নির্মাণ চুক্তি বাতিল করে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে ফান্ড সংগ্রহ করা গেলে মানুষের চলাচলের জন্য সেখানে সেতু নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here