পুলিশের ব্যাপক অভিযানে ভাঙ্গুড়া আওয়ামীলীগ অফিস ভাংচুরকারী দুই আসামি আটক

0
380

স্টাফ রিপোর্টার : বাঘারপাড়া উপজেলার ৯নং জামদিয়া ইউনিয়নের ৪নং ভাঙ্গুড়া বাজারস্থ আওয়ামীলীগ কার্যালয় ভাংচুর ও উপজেলা চেয়ারম্যান ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথীর উপর হামলাকারি দুই সন্দেহভাজন আসামি আটক হয়েছে। সোমবার রাতে আমুড়িয়ার ইসলাম ব্রিকসের সামনে থেকে হাকিম সর্দারের পুত্র সোহাগ (৩২) ও জলিল মোল্যার পুত্র ইউনুস আলী কে ভিটাবল্যা পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এস আই মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ আটক করে। মামলা নম্বর- মামলা নম্বর- ১৬/১৬১, তারিখ- ২৭/১১/২০২১। ধারা- ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৪২৭/৫০৬(২)/ ১১৪ পেনাল কোড-১৮৬০। আটক আসামিদের মঙ্গলবার বিজ্ঞ আদালতে পুলিশ সোর্পদ করেছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জানা গেছে, উল্লেখিত ঘটনায় দূর্বত্তদের হামলায় মারাত্মক জখম লিকু বিশ্বাস বর্তমানে রাজধানির একটি হাসপাতালে আইসিইউ তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে রয়েছেন। অন্যদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান কে ঢাল হিসেবে রক্ষাকারী অন্যান্য জখম আহত ব্যক্তিবর্গ চরম নিরাপত্ত্বাহীন অবস্থায় বসবাস করছেন। মামলা তুলে নিতে হামলাকারীরা বাদি, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত হুমকি ধামকি দিচ্ছে। ২৬ নভেম্বর যশোর জেলার ভাঙ্গুরা বাজারস্থ ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে ৯নং জামদিয়া ইউপির নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী সভার দিনক্ষন নির্ধারিত থাকায় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সেখানে হাজির হন বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথী, বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও তার কয়েকজন অনুসারি। এসময় আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথী’র শশুর, প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম কাজলের পিতা শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস ও জামদিয়া ইউপি ও বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ, যুবলীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসময় সেখানে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র লোহার রড, চাপাতি, চাইজি কুড়াল, রামদা সহকারে উপজেলা চেয়ারম্যানের উপর হামলা করে তাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। হামলার নেতৃত্ব দানকারিরা হচ্ছে ১. কামাল হোসেন মিলন, পিতা- মৃত ফসিয়ার রহমান বিশ্বাস ২. মুরাদ হোসেন ৩. তসিম হোসেন ৪. নাজমুল হোসেন সর্ব পিতা- সিরাজ মন্ডল, সর্ব সাং আমুড়িয়া ৫. লাল্টু ফকির, পিতা- সিরাজ ফকির ৬. আকরাম মোল্যা, পিতা- ইয়াদ আলী মোল্যা, সর্ব সাং আমড়িয়া ৭. মাহমুদ হোসেন জুনা, পিতা- মৃত ইনছার আলী বিশ্বাস, সাং- ভাঙ্গুড়া, সর্ব থানা- বাঘারপাড়া, জেলা যশোর সহ প্রায় অর্ধশত দূর্বত্ত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী। উপজেলা চেয়ারম্যান ভিক্টোরিয়া সাথীকে রক্ষায় এসময় স্থানীয় আওয়ামীল লীগ নেতা-কর্মীরা এগিয়ে এলে দেশীয় অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসীরা তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের হামলায় এসময় মারাত্মক জখম হন ১. লিকু বিশ্বাস, পিতা- হবিবার রহমান বিশ্বাস, ২. শাহীন রেজা, পিতা- তবিবুর রহমান, ৩. ইদ্রিস আলী, ৪. দেলোয়ার হোসেন, উভয় পিতা- ইসমাইল বিশ্বাস ৫. তরিকুল ইসলাম, পিতা- আমিন মোল্যা ৬. আবুল কালাম মোল্যা, পিতা- সৈয়দ আলী মোল্যা ৭. জাহিদ মোল্যার স্ত্রী ৮. স্বপ্না, স্বামী- লিয়াকত মোল্যা ৯. ডাঃ জিল্লু বিশ্বাস সহ নারী পুরুষ ২০-২২ জন। এর মধ্যে লিকু, শাহীন রেজা আপন চাচাতো ভাই। ইদ্রিস আলী ও দেলোয়ার হোসেন আপন দুই ভাই। লিকু শাহীন ইদ্রিস ও দেলোয়ারের ভাইপো। এরা সকলেই আমুড়িয়া গ্রামের নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামীলীগ কর্মী। দূর্বত্তরা ভাঙ্গুড়া ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ কার্যালয় ভাংচুর করে। তারা চেয়ার, টিনসহ অফিসে তান্ডব চালিয়ে ভাংচুর করে। একই সময়ে তারা ডাঃ জিল্লুকে আহত করে তার বিশ্বাস ফার্মেসী ভাংচুর ও লুটপাট করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। ৯নং জামদিয়া ৪নং ভাঙ্গুড়া ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক মেম্বর তবিবুর রহমান বলেন, আহত সকলেই তার পারিবারিক আত্মীয় স্বজন। তার পুত্র শাহীন রেজা। বাকিরা তার আপন ভাই বা ভাইপো। বাঘারপাড়া থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকে আসামিরা তাকেও পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে অপচেষ্টায় লিপ্ত। এই ওয়ার্ডের সাধারন সম্পাদক লিয়াকত আলী মোল্যার ভাইপো তরিকুল, ভাই কালাম মোল্যা, জাহিদের স্ত্রী তার ভাই বধূ। ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক লিয়াকত আলী মোল্যা বলেন, আসামিরা সকলেই এলাকার চিহ্নিত বিএনপির সন্ত্রাসী। এরা হাইব্রীড আওয়ামীলীগ হওয়ার লক্ষ্যে নানা অপকর্মে লিপ্ত। তারা নিবেদিত প্রাণ দীর্ঘদিনের আওয়ামীলীগ। হাইব্রীড ও বিএনপির আঞ্চলিক কয়েক নেতা এক হয়ে যোগসাজশে এই হামলা করেছে। এদের লক্ষ্য জামদিয়া ইউনিয়ন থেকে আওয়ামীলীগ নিশ্চিহ্ন করা। আহতের মধ্যে লিকুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি বর্তমানে রাজধানীতে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানায় তার মেজর অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে তবে এখনো ঝুঁকি কমেনি। তার একটি চোখ সম্পূর্ন বিনষ্ট হয়েছে। সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতার পর দিন বাঘার পাড়া থানায় সাবেক মেম্বর তবিবুর রহমানের ভাগ্নে, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রয়াত নাজমুল ইসলাম কাজলের চাচাতো ভাই মেহেদী হাসান মিঠু (পিতা- মৃত আব্দুল কাদের বিশ্বাস, সাং- ভাঙ্গুড়া) বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। মামলা হওয়ায় আসামিরা বাদি ও আহতদের পরিবার, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি/সাধারন সম্পাদক এবং তাদের অনুসারিদের নিয়মিত মামলা তুলে নিতে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। অন্যথায় পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে বলে তারা আল্টিমেটাম জারি করেছে। জামদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ বলেন, হাইব্রীড ও বিএনপির দূর্বত্তরা এই ইউনিয়ন থেকে আওয়ামীলীগ উপড়ে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা স্বপ্নে বিভোর। ৯ নং জামদিয়া ইউপির নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম তিব্বত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দসহ আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান। তাদের চিকিৎসার সু ব্যবস্থা করেছেন। আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ জামদিয়ায় আওয়ামীলীগ অফিস ভাংচুর কারিদের আটকে সরকারের প্রধানমন্ত্রী, জাতির জনক, আওয়ামীলীগের প্রাণ পুরুষ বঙ্গবন্ধু’র কন্যা শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি চাইছেন। পাশাপাশি তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নইলে এসব বেপরোয়া আসামি সাহস বাড়িয়ে একের পর এক অপকর্ম করেই যাবে বলে নেতৃবৃন্দ আশঙ্কা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here