সড়ক বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতায় চৌগাছার শতাধিক একরের পাকা ধান পানির নিচে

0
320

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোর সড়ক বিভাগের স্বেচ্ছাচরিতায় চৌগাছার কয়েকটি গ্রামের তিনশতাধিক বিঘা (শতাধিক একর) জমির কেটে রাখা ধান ৩ দিন ধরে পানির নিচে। কৃষকদের মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বিষয়টি সুরাহা করা হবে বলে আশ^াস দিলেও কালভার্টটি খুলে না দেয়ায় বিলের প্রায় তিনশ বিঘা জমির কেটে রাখা রোপা আমন ধান এখন পানির নিচে ডুবে রয়েছে। জানাগেছে চৌগাছা-যশোর সড়কের কয়ারপাড়া থেকে টালিখোলা এলাকার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দুটি কালভার্ট ছিলো। যা দিয়ে সড়কের পাশের একটি (স্থানীয় নাম বুড়োর বিল) বিলের পানি নিস্কাশন হয়ে মুক্তেশ^রী নদীতে পড়তো। তবে সম্প্রতি সড়ক সংস্কার করার সময় স্থানীয়দের সাথে কথা না বলেই প্রকৌশলীরা একটি কালভার্ট বন্ধ করে দেন। এতে সিংহঝুলি, লস্কারপুর, কয়ারপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের বর্ষার অতিরিক্ত পানি এই বিলে জমা হয়ে কৃষকের ফসল নষ্ঠ হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি যশোর-চৌগাছা সড়কের চুড়ামনকাঠি থেকে চৌগাছা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরা হয়েছে। সংস্কার কাজের সময় সড়কে থাকা পুরাতন ছোট ছোট কার্লভাটগুলো পুনঃনির্মাণ করা হয়। তবে সড়কের সিংহঝুলি ও কয়ারপাড়া গ্রামের মাঝে অবস্থিত টালিখোলা নামক স্থানের বুড়োর বিল নামের ছোট বিলের পানি বের হওয়ার কার্লভাটটি বন্ধ করে দেয়া হয়। চৌগাছা সদর ইউনিয়নের লস্কারপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ইয়াকুব আলী বলেন মহান মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে সড়কটি প্রথম পাকা করার সময় থেকেই এখানে কার্লভার্ট করা হয়। এটি দিয়ে এই বিলের পানি নিস্কাশন হয়ে মুক্তেশ^রী নদীতে পড়তো। ফলে এখানে অতিরিক্ত পানি জমতো না। এবার সড়ক সংস্কারের সময় প্রকৌশলীরা স্থানীয়দের সাথে কথা না বলে নিজেদের মতো করে কালভার্টটি বন্ধ করে দেন। এতে বর্ষার অতিরিক্ত পানি বের হতে না পেরে ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা হয়েছে। তিনি বলেন এই মাঠে আমার ১০/১২ বিঘা জমিতে ধান কাটা রয়েছে। যা এখন দুই থেকে তিনফুট পানির নিচে। সিংহঝুলি ইউনিয়ন পরিষদের সিংহঝুলি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য খোকন মন্ডল বলেন, আমরা বংশ পরস্পরায় কার্লভাটটিতে মাছ ধরতাম। সড়ক প্রশস্ত করার সময় কার্লভাটটি কেনো বন্ধ করা হলো জানিনা। ইয়াকুব আলী, খোকন মন্ডল, সিংহঝুলি গ্রামের জেষ্ঠ সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট নেতা ইমরান হোসেনসহ স্থানীয়রা জানান, গতবছর আমন মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা চৌগাছা কৃষি অফিস ও উপজেলা নির্বাহী অফিসে আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাননি। তাঁরা বলেন গত তিনদিনের টানা বর্ষণে আবারও বিলে পানি জমে গেছে। ফলে বিলের মাঠে কৃষক যে পাকা ধান কেটে জালি দিয়ে রেখেছিলেন তা সব পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে কেটে রাখা ধান ভাসছে পানিতে। সিংহঝুলি গ্রামের তিগ্রস্থ কৃষক গোলাম মোস্তফা, ইমরান খান, সাইফুল ইসলাম, পলাশ, শহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলি, মফিজুর রহমানসহ অর্ধশতাধিক কৃষক বলেন যুগ যুগ ধরে যে কার্লভাট দিয়ে পানি নিস্কাশন হয় সেটি হঠাৎ করে কেন, কিভাবে বন্ধ করে দেয়া হলো আমরা বুঝতে পারিনি। এটা বন্ধের ফলে গত আমন মৌসুমের মত এবারও ক্ষতিগ্রস্থ হলাম। যশোর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ওই স্থানে কার্লভাট থাকলে তা বন্ধ করার কথা নয়। আমি আমার অফিসের লোক পাঠিয়ে বিষয়টি সর্ম্পকে খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবো। তবে গত বছর কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের এই কর্মকর্তা একই কথা বলেছিলেন। তবে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here