বেড়ী নারানপুরের পুলিশ আব্দুল হাই আদর্শ কৃষক

0
292

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি পুলিশের ব্যস্ত দায়িত্বে থেকেও আব্দুল হাই বাংলার কৃষিকে ধারন করেছেন ষোল আনা। তার ফার্মে এখন দেশী সাগর, চাঁপা, মর্তমান কলার সাথে চাষ হচ্ছে বিদেশী মাল্টা, লাল শাক, সবুজ শাক, বেগুন, ফুল কপি, বাঁধা কপি, লেবু, ঢেঁড়স, পুইশাক, মুলা, মিষ্টি আলু, পেপে, পেয়ারা, ছবেদা। যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বেড়ী নারানপুরে এই কৃষি ফার্মে রয়েছে হাস মুরগী গরু ফার্ম। হচ্ছে দেশী মাছ চাষ। পৈত্রিক ভিটার জমিতে এখন তিনি একজন আদর্শ কৃষক। পড়াশুনা শেষ করে আব্দুল হাই বাংলাদেশ পুলিশের চাকুরিকে পেশা হিসেবে গ্রহন করেন। এর মধ্যে তিনি পেশাগত ব্যস্ততায় বেশিরভাগ সময় নিজ জন্ম স্থানের বাইরে থাকতে বাধ্য হন। তবে নিজ জন্মভূমি ও পিতার কৃষিকে ছাড়তে পারেননি। ছুটি ছাটায় বাড়ি এলেই কৃষি জমি ও ভিটের জমিতে গাছপালা রোপন করতে থাকেন। তবে আর্থিক সমস্যায় কৃষি কাজে ষোল আনা মনোনিবেশ করতে পারেননি। নিজের বেতনের টাকা, ধার দেনা ও ঋন করে তিনি পৈত্রিক ভিটে, ভিটে সংলগ্ন ক্রয়কৃত জমি ১০ বিঘায় একটি মনোরম কৃষি ফার্ম গড়েছেন। দুই পাশে লম্বা খাল সদৃশ পুকুর, গরুর ফার্ম, হাঁস মুরগীর ফার্ম এবং একই সাথে তরি তরকারি ফলমূলের কৃষি ফার্ম স্থাপন করেছেন। তার ফার্মে এখন দেশীয় বিলুপ্ত প্রায় ১৫০০ দেশী সাগর কলা গাছ। এই গাছ গুলোতে মোচা ও কলার কাঁধি এসেছে। জেলার মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা থেকে তিনি ঘুরে ঘুরে বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় এসই সাগর কলার জাতের চারা সংগ্রহ করেছেন। আশা রয়েছে আগামী এক মাসে বেমিরভাগ গাছ থেকে কাঁধি কেটে বাজারে বিক্রি করতে পারবেন। তার কৃষি ফার্মে রয়েছে ৫০০ মাল্টা চারা রোপনকৃত। পয়সা মাল্টা প্রজাতীর এটি। এসব গাছে ফল উৎপাদনের অপেক্ষায় রয়েছে এই পুলিশ চাষী। ২৫০ পেঁপে গাছে ভরপুর ফলন। বেগুন ধরেছে গাছে। মুলা শেষের পথে। বাঁধা কপি, শাক, ফুল কপি, ঢেঁড়স, পুইশাক উৎপাদন হচ্ছে। বেগুন উৎপাদন হচ্ছে ১০ কাঁঠা জমিতে। পাতা কপি, ফুল কপি ১০ কাঠা জমিতে। ওল রয়েছে দেড় বিঘা জমিতে। সেখানে ১০০০ মাদ্রাজী ও দেশী বড় প্রজাতীর ওল চাষ হয়েছে। ছয় মাসে প্রতিটি ওল ৪/৫ কেজি ওজনের হয়েছে। অতি সুস্বাদু এই ওল পাইকরি ৫০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। জানালেন অর্থাভাবে গরু ও মুরগী ফার্ম আপাতত: বন্ধ তার। কয়েক চালান মুরগী সফলভাবে তিনি উৎপাদন করেছেন। তার ফার্মে ১০০ গরু ক্যাপাসিটি রয়েছে। এখন ফার্মে রয়েছে শতাধিক খাকি ক্যাম্পবেল পাতি হাঁস। সেগুলো বড় হয়েছে যথেষ্ট। তার পুকুরে সাত মাস বয়সী জাপানী মিনার রয়েছে যার পরিমান এক লক্ষ প্রায়। উত্তরের মৎস্য ঘেরে এই মিনার কার্প মাছ বড় হচ্ছে। দক্ষিনের মৎস্য ঘেরে দেশী মাগুর ও পাঙাশ মাছ রয়েছে। কোন কোন মাছের ওজন কেজি অতিক্রম হয়েছে।
আব্দুল হাই বেড়ী নারায়নপুরের আবু তাহেরের পুত্র। তার পিতা পরিপূর্ন কৃষক। তার মাতা খুরশিদা খাতুন কৃষি পরিবারের গৃহিনী। ছোট থেকেই তার ইচ্ছে ছিল বড়সড় কৃষক হওয়ার। বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়ায় তার পোষ্টিং। এ কারনে ব্যস্ততা বেজায়। তবে ছুটি ছাটা পেলেই তিনি বাড়ি ফিরে দিন রাত পরিশ্রম করে কৃষি ফার্মে মনোনিবেশ করেন। পাশাপাশি তার পিতা ও মাসিক লোকজন সেখানে নিয়মিত পরিচর্যা করে। পুলিশ চাষী আব্দুল হাই জানান, তিনি এই কৃষি ফার্মের আয়তন আগামী ২/১ বছরেই ২০ বিঘা করতে চান। ঠিক এখনকার দ্বিগুন আয়তনের হবে তা। এজন্য খুবই পরিশ্রম করছেন। একই সাথে তিনি আলাদা প্রস্তুত রাখা দুই বিঘা জমিতে ভেজাল মুক্ত বেকারী ও খাঁটি সরিষার তেল মিল স্থাপন করতে চান। টাকার অভাবে তার এখনো বেকারী ও তেল মিল রেডি হয়নি। নইলে জমি, ইট, খোয়া প্রস্তুত স্থাপনা নির্মানের জন্য। আরো জানান, পেয়ারা, কুল, সফেদা, আম, নারিকেল, জাম, কাঁঠাল, গাছ রয়েছে তবে তা বাজারজাত করার মত ব্যাপক নয়। ব্যক্তি জীবনে পুলিশ আব্দুল হাই স্ত্রী, দুই পুত্র, পিতা-মাতা, ভাইবোন নিয়ে সুখী একান্নবর্তী পরিবারে সুখী মানুষ। সেই সুখ কে তিনি সাথে নিয়ে সবুজ আর কৃষি বিপ্লবে নিজেকে সম্পৃক্ত করে আনন্দিত হচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here