ভবদহ কারণে মণিরামপুরের মাঠে কোমর পানি থেকে ধান কাটচ্ছে কৃষক, বিঘা প্রতি ৯ হাজার টাকা তি, কৃষকের মাথায় হাত

0
334

মান্তজ হোসেন, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি : মণিরামপুর উপজেলার জয়পুর মাঠে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছে কৃষক। ফসলের জমিতে সব খরচ শেষে যখন ধানে থোড় হয়ে দাড়িয়েছে ঠিক সে সময় অনাবৃষ্টিতে ভবদহে পলি জমাটের কারণে খাল-বিলে পানি জমে কৃষকের বাম্পার ফলন পাওয়ার আশা পানিতে মিশে গেছে। এ কারণে মাঠে কোমর পানির মধ্য থেকে ধানের আঁিট কেঁটে রাস্তায় উঠাছে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক। গ্রামের সলিং ও পিচের রাস্তা পাকা থাকায় কিছুটা স্বস্তিও পাচ্ছেন তারা। স্বর্ণ ধান প্রতি ২০ কাটা জমিতে ১০/১১ মণ ধান পাচ্ছে কৃষক। এলাকার কৃষকদের বিঘা প্রতি ৮/৯ হাজার টাকা তি হচ্ছে বলে জানায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার জয়পুর, হুরগাতি, ব্র‏হ্মনডাঙ্গা, ঢাকুরিয়া, চান্দুঁয়া, সুবলকাটি ও হোগলাডাঙ্গা গ্রামের মাঠে ধানি, স্বর্ণ, মুনোর ধানসহ বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছে কৃষক। এসব ফসলের জমিতে রোপন থেকে শুরু করে সব খরচের শেষে ধানে থোড় এসেছে ঠিক সেই সময় অনাবৃষ্টিতে ভবদহে পলি জমাতে ফসলি জমি পানিতে ডুবে কৃষকের সোনার ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমান জয়পুর, হুরগাতী, ব্র‏হ্মনডাঙ্গা ও ঢাকুরিয়া মাঠে কোমর পানিতে কৃষক ধান কেটে দড়িতে আঁটি (হালি বেধে) ও নৌকায় করে পানির মধ্যে দিয়ে টেনে রাস্তায় উঠাচ্ছে কৃষক। প্রতি বিঘা জমির ধান কাটতে ১২ জন লোক করছে। ১জন দিন মুজুরীকে ৪/৫শত টাকা দিতে হচ্ছে। টলি, আলমসাধু ও অটোভ্যানে করে যে এলাকায় পিচের রাস্তা আছে সেখানে ছড়ায় দিচ্ছে আবার কেউ বাড়ি নিয়ে পাওয়ার থ্রেচার (ফুক্কা ম্যাশিন) দিয়ে ধান ঝেড়ে নিচ্ছে নারী-পুরুষ ছেলে, মেয়েরা সবাই মিলে ব্যস্ত সময় পার করছে। জয়পুর মাঠে স্বর্ণ ও মুনোর ধানের বাম্পার ফলন পাওয়ার আশায় বেশি জমিতে ধানের চাষ করেছে কৃষক। বর্তমান স্বর্ণ ধান ২০ কাটা (১বিঘা জমিতে) ১০/১১ মণ ও মুনোর ধান ৭/৮ মণ ধান পাচ্ছে। কাঁদা মাটি মাখানো ধান বাজারে আড়ৎদারেরা কিনবে কিনা তাও কৃষকদের মনে চলছে ব্যাপক আলোচনা। এবার আমোন ধান চাষ করে এলাকার কৃষকদের বিঘা প্রতি ১৮/২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিঘা প্রতি ৮/৯ হাজার টাকা তিগ্রস্ত হয়েছে বলে কৃষকদের দাবি। কৃষক ইব্রহিম, বজলু রহমান, সোহরাফ আলী, বিল্লাল হোসেন জানায়, ছোট বেলায় দেখে আসছি বাপ দাদারা জয়পুর মাঠে তরমুচ ও কোমড়ার চাষ করতো। তারপর ইরি ধান আসলো, সে থেকে মাঠ জুড়ে আমোন ধানের চাষ হয়। ইরি ধানের মৌসুমে সারা মাঠে বিভিন্ন হাইব্রিট ধানের চাষ করে আসছি। কোন বছর ধানের দাম কম থাকলেও বিচলি বিক্রি করলে তি পূরণ হয়ে যেতো। গত ৩/৪ বছর ধরে আমাদের মাঠে কোন ধানের ফসল হচ্ছে না শুধু ভবদহ বিলে পলি জমার কারণে। তারা আরো বলে আগামি ৩/৪ বছর পর আমাদের বাড়ি ঘরে পানি বন্ধি হয়ে থাকতে হবে। আমরা প্রধানন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here