স্টাফ রিপোর্টার : গণতন্ত্র পুনুরুদ্ধার, মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করে এই দলের নেতাকর্মীরা আর ঘরে ফিরবে না। আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। এখন সময় সামনে লড়াই করার। হয় বাঁচবো না হয় মরবো – এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে কর্মীদের রাজপথে থাকার আহবান জানান বিএনপির অন্যতম নীতি নির্ধারক মীর্জা আব্বাস। গতকাল দুপুরে যশোর টাউন হল ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীর্জা আব্বাস এই আহবান জানান। জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আলহাজ¦ মশিউর রহমান। পুলিশী বাঁধা উপেক্ষা করে হাজারো জনতার এই সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, অমলেন্দু দাশ অপু, জেলা বিএনপির নেতা এ্যাড সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, মারুফুল ইসলাম মারুফ, মফিকুল হাসান তৃপ্তি,আবুল হোসেন আজাদ, নাজনীন আক্তার মুন্নী প্রমুখ। সমাবেশটি পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ¦ মিজানুর রহমান খান ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহম্মেদ সিদ্দিকী বাচ্চু।
এদিকে দীর্ঘ দিন পর যশোর জেলা বিএনপি পুলিশী বাঁধা সত্বেও একটি সফল জন সমাবেশ করায় দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দারুন উজ্জীবিত। বিএনপি আয়োজিত এই সমাবেশে নানা শর্তজুড়ে পুলিশ প্রশাসন টাউন হল মাঠের পরিবর্তে বিডি হলে করার নির্দেশ দেন। কিন্তু বিএনপি নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সাফ জবাব সমাবেশ টাউন হল ময়দানেই হবে। প্রয়োজনে আমার লাশের ওপর দিয়ে কর্মীরা ওই সমাবেশে অংশ গ্রহণ করবে। বিএনপি নেতা অমিতের এই ঘোষনার মধ্য দিয়ে গতকাল ভোর থেকে যশোর টাউন হল ময়দানে দলে দলে বিএনপির নেতাকর্মীরা সমবেত হতে শুরু করে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ প্রশাসনও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। রাত থেকে শহরের বিভিন্ন প্রবেশ মুখে পুলিশী কড়া প্রহরা বসানো হয়। বাস চলাচল সীমিত করার ফলে জন চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও শহর বা শহরতলীর কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শহরের প্রবেশ দ্বার গুলোসহ বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে বিএনপির কর্মীরা পুলিশী বাঁধার সম্মুখিন হলেও শেষ পর্যন্ত তা উপক্ষে করে টাউন হল ময়দানের সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে। বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলা এই সাবেশে কোন প্রকবাল বিশ্খৃঙ্খলতার লেশ মাত্র ছিল না। বহুদিন পরে এরকম একটি জনসমাগম ঘটায় শহর জুড়ে ছিল বিএনপি নেতাকর্মীদের বাঁধাহীন চলাচল।















