মাহাবুবুর রহমান ॥ কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) থেকে ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। এ উপজেলার কৃষকরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি তাদের পতিত জমিতে বানিজ্যিক ভিত্তিতে খেজুর বাগান গড়ে তুলছে। ফলে কালীগঞ্জ উপজেলায় খেজুরের গুড় ও পাটালী দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শীত মৌসুমে গাছিরা সেই পুরাতন নিয়মে গুড় পাটালী উৎপাদন করে আসছেন। কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে কি পরিমান খেজুর গাছ আছে এবং তা থেকে কি পরিমান গুড় ও পাটালী উৎপাদন হচ্ছে তার কোন সঠিক হিসাব নেই। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সু-মিষ্টি, সু-স্বাধ খেজুরের রস,গুড় ও পাটালী প্যাকেট জাত করে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে ভূক্তভোগী মহলের ধারনা। বৃটিশআমলে ইংরেজ শাসকরা ্অঞ্চলের কৃষকদের জমিতে নীল চাষ করতে বাধ্য করেছিল। নীল চাষের কুফল সর্ম্পকে কৃষকরা যখন বুঝতে পারলো তখন তারা নীল চাষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করে। তাদের নীল চাষের উপযোগী জমিতে হাজার হাজার খেজুর গাছ রোপন করা শুরু করেন। জনশ্রতি আছে খেজুর গাছ থেকে অতীতে চিনি তৈরী করা হতো। যে কারনে চীনারা চিনি তৈরীর পদ্ধতি শেখাতে এে শে এসেছিল। ঝিনাইদহের কোটচাঁদ উপজেলায় এ শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল। নির্ভরযোগ্য একটি সূএে জানা গেছে, তৎকালে খেজুর গুড় থেকে উৎপাদিত চিনির পরিমান ছিল ১২ ল ২১ হাজার ৪শ” টন। ইংরেজরা সে সময় ভারত থেকে বিপুল পরিমান চিনি রপ্তানী করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করে। চিনি রপ্তানী করে অনেক লাভ হওয়ায় তারা খেজুরের গুড় থেকে চিনি উৎপাদনের জন্য এ অঞ্চলে কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মিঃ বালকে সর্বপ্রথম ভারতের বর্ধমান জেলার ধোবা নামক স্থানে এ ধরনের কারখানা স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ধোবা সুগার কোম্পানী কোটচাঁদ উপজেলায় আরো ২টি খেজুর গুড় থেকে চিনি উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করেন। ১৮৮২ সাল পর্যন্ত এ ব্যবসা অত্যন্ত সফলতার সাথে চলে বলে জানা যায়। পরে আখ থেকে চিনি উৎপাদন শুরু হলে প্রতিযোগীতায় খেজুরের গুড় পিছিয়ে পড়ে। ১৯০১ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর কুষ্টিয়া, যশোর-ঝিনাইদহ অঞ্চলের গুড় থেকে চিনি তৈরির জন্য ১১৭টি কারখানা ছিল এবং ১৯২৪ সালে তা কমে ৫০ এর কোটায় নেমে আসে। আস্তে আস্তে খেজুর গুড় থেকে চিনি তৈরির কারখানা গুলি সম্পূর্ন রুপে বিলুপ্ত হয়ে যায়। সেই থেকে আর কেউ খেজুর গাছের গাছের প্রতি যত্নবান হয়নি। তবে বন জঙ্গলে অযত্ন আর অবহেলায় বেড়ে ওঠা গাছ গুলিই আজো তার বংশ বিস্তারে অস্বিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। তবে সম্প্রতি উপজেলার কৃষকদের মাঝে তাদের পতিত জমিতে বানিজ্যিক ভিত্তিতে খেজুর বাগান তৈরির প্রবনতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার ঈশ্ববার গ্রামের রুস্তম আলী ও চাঁচড়া গ্রামের আক্কাচ আলী জানান, খেজুর গাছের বাগান তৈরি করতে যত্নবান হওয়ার প্রয়োজন হয়না। খেজুর গাছ কাটা যুক্ত হওয়ায় গরু-ছাগলের উৎপাত কম হয়। একটি খেজুর গাছ ৪/৫ বছর বয়স থেকে রস দিতে শুরু করে এবং তা ৪০/৫০ বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। শীত মৌসুমে শুরু হলেই গাছিরা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে ব্যস্ত থাকে। একটি খেজুর গাছ থেকে এক মৌসুমে ১৫/১৬ কেজি গুড় পাওয়া যায়। শীত মৌসুমে কালীগঞ্জ প্রচুর পরিমানে গুড় উৎপাদন হয়। এই গুড় এই অঞ্চলের চাহিদা পূরন করে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চেলে সরবরাহ করা হয়। শীত মৌসুমে এ উপজেলা থেকে প্রতি সপ্তাহে ১০/১২ ট্রাক গুড় দেশের বিভিন্ন শহরে চালান হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহায়মেন আক্তার জানান, আগের তুলনায় বর্তমানে কৃষকরা খেজুর বাগান গড়ে তুলতে আগ্রহী হচ্ছেন। তাই সরকারী ভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খেজুর রস,গুড় ও পাটালী প্যাকেটের মাধ্যমে রপ্তানি করলে প্রতিবছর প্রচুর পরিমানে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।















