মালিকুজ্জামান কাকা : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে যশোর সদর উপজেলা ১০ নং চাঁচড়া ইউনিয়ন পষিদের আওতাধীন এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার দুপুর থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত সকল ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীম রেজার আনারস প্রতীকের অফিস তান্ডব চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। হামলা চালিয়ে নির্বাচনী অফিস, পোস্টার পোড়ানো ও প্রচার মাইক ভাঙচুর হয়েছে। বিদ্রোহী দমনে চালানো তান্ডবে ইউনিয়ন গুলোতে বর্তমানে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এসব বিষয়ে রোববার দুপুরে প্রেসকাব যশোরের সামনে ভূক্তভোগী চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীম রেজা ও তার আনারস প্রতীকের অনুসারিরা মানববন্ধন করে। তবে অনুমতি না মেলায় সংবাদ সম্মেলন করতে পারেননি। গতকাল চাঁচড়া ইউনিয়নে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরসহ তার পোষ্টার পুড়িয়ে দেয়া হয়। ইউনিয়নটির ভাতুড়িয়া, সাড়াপোল, রুপদিয়া, চাঁচড়া, বাগেরহাট, গোয়ালদাহ, বড় মেঘলা, ছোট মেঘলা, শিমলা, বেড়বাড়ী ও পুলেরহাটে লাঠিাসোটা নিয়ে মহড়া দেয় নৌকার প্রার্থীর লোকজন। এদিন রাতে ভাতুড়িয়ায় আনারস প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। এরপর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ফুলের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আনারস প্রতীকের প্রার্থী শামীম রেজা জানান, সকলের চোখের সামনে নৌকার প্রচার মিছিল থেকে এসে ভাতুড়িয়ার তার একটি নির্বাচনী র্কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়া ইউনিনের বিভিন্ন স্থানে টাঙানো পোষ্টার পুুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আনারস প্রতীকধারী ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী শামিম রেজা বলেন, নৌকা প্রতীকের প্রচার মিছিল থেকেই্ তার সকল নির্বাচনী কার্যালয় তথা আনারসের অফিস ভাংচুর করা হয়েছে। এরা ভাতুড়িয়ায় যেয়ে নিহত মৎস্য চাষী ইমরোজের পিতা নুর ইসলাম নুরো ও কবিরুজ্জামান কাজলকে খুজতে থাকে। চাঁচড়া বাজার মোড়ে তারা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ফুলকে খুজতে থাকে। তার বাড়িতেও তারা তান্ডব চালিয়েছে। বেড়বাড়ী পৌছে তারা আনারস কর্মী মোজাম্মেল হোসেন কো লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। সে বর্তমানে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট্য জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেলিম রেজা পান্নুর নেতৃত্বে ২৪ ডিসেম্বর জিহাদ নামে আনারসের কর্মীকে ছুরিকাঘাত করেছে। সে বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যু শয্যায়। চাঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার আলহাজ্ব ওয়াজেদ আলী মোড়ল জানান, গত রাতে বেড়বাড়িতে ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হককে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। সাড়াপোলে মারপিটের শিকার হয়ে ৫ জন আহত হয়েছে। ভাতুড়িয়ার নুরু মহুরী জানান, নৌকার প্রচার মিছিলকারীরা সাড়াপোল বাজারে এদিন তার ভাইপো প্রাইভেট কার চালক কে মারধোর করেছে। অনেকে ঘটনা প্রত্যক্ষ করলেও সে ঘটনার কেউ কোন প্রতিবাদ করেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নৌকার প্রচার মিছিলে ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুখেন মজুমদার, আওয়ামীলীগের জেলা কার্য নির্বাহী সদস্য কামাল হোসেন, জেলা যুবলীগ নেতা কামাল হোসেন, মারুফ হোসেন বিপুল, জাহিদুর রহমান লাবু, বিপ্লব রায়, রবিউল ইসলাম বাবলু, টপি, সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাজহারুল ইসলাম, শহিদুজ্জামান শহিদ, পৌর ৫নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা সেলিম হোসেন, ইব্রাহিম হোসেন, সাগর ভাষাসহ প্রার্থী সেলিম রেজা পান্নু যথারিতী মোটর সাইকেল বহর সহকারে ইউনিয়ন ব্যাপী ত্রাস চালিয়েছে। এদের মধ্যে ছিল গতবার ইউপি নির্বাচনে ভাতুড়িয়া প্রাইমারী স্কুল ভোট কেন্দ্রের বাইরে অহেতুক হত্যার শিকার ভাজাপোড়া বিক্রেতা আব্দুস সাত্তার বিষে হত্যাকারীদের কেউ কেউ। সেবারও এভাবেই মোটরসাইকেল মহড়ায় সন্ত্রাসীরা একজন নিরীহ দরিদ্র মানুষের জীবন প্রদীপ কেড়ে নেয়। এবারও যেন চলছে তার ট্রায়াল। তাই ভীত সন্ত্রস্থ চাঁচড়ার মানুষ।
মানববন্ধনে আনারস প্রতীকধারী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীম রেজা ছাড়াও বক্তব্য দেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সভাপতি মাস্টার আলহাজ্ব ওয়াজেদ আলী মোড়ল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ফুল, আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ারুল করিম আনু, ব্যবসায়ী জামান, নুরু মহুরী, মৎস্য ব্যবসায়ী আতিয়ার, কামাল হোসেন প্রমুখ। সেখানে মানব বন্ধনে তিনশোর বেশি বিভিন্ন পেশার চাঁচড়া ইউনিয়নবাসী অংশ গ্রহন করেন। তবে অনুমতি না মেলায় শামীম রেজা ও তার অনুসারিরা সংবাদ সম্মেলন করতে পারেননি।















