সবজি মাছ দুধ হিমায়িত পণ্য পরিবহনে চালু হচ্ছে কৃষি ট্রেন যশোরের কৃষক এর আওতায় সুবিধা পাবে

0
282

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : কৃষকদের উন্নয়নে তথা কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত কল্পে কৃষিজাত পণ্য পরিবহনে কৃষি ট্রেন চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগ। চীন থেকে কেনা ১২৫টি বিশেষ কোচে কৃষিজাত পণ্যের পাশাপাশি হিমায়িত পণ্য পরিবহনে থাকবে ফ্রিজিং সুবিধা। আগামী বছরের শেষে কৃষি এক্সপ্রেস সার্ভিস চালু হবে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। এই সুবিধার আওতায় পড়বেন যশোর অঞ্চলের চাষীরাও। জানা যায়, বেশীর ভাগ কৃষকই তার উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করেন গ্রামীণ বাজারে। এছাড়াও অনেক পচনশীল কাঁচামাল দ্রুত বিক্রি না করলে পচে যায় সেজন্য দাম কমে বিক্রি করতে বাধ্য হয় কৃষকরা। পাশাপাশি কৃষকদের বিক্রিত পণ্য দুই তিন স্তরে মধ্যস্বত্বভোগীর হাত ঘুরে চলে যায় রাজধানী ঢাকার বাজারে। ফলে ঢাকার বাজারে উচ্চ দামে বিক্রি হলেও, বেশীরভাগ সময়ই ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন কৃষক। তাই এবার কৃষক কল্যাণে এমন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপপরিচালক বলেন, এ জেলায় ১০ লাখ টন সবজি উৎপাদন হয়। প্রতি হেক্টরে ফলন ২৩-২৫ টন। কৃষি বিভাগ সবজি উৎপাদনে যশোরকে প্রথম ঘোষণা করেছে। এ সাফল্যে আমরা আনন্দিত। তবে মূল কৃতিত্ব সবজিচাষীদের। ভালো উৎপাদনের পাশাপাশি যশোরে গড়ে উঠেছে শাকসবজির একাধিক বাজার। এর একটি হলো বারীনগর, যা শুধু যশোরে নয়, দেশের অন্যতম প্রধান সবজি বাজার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সারা বছরই যশোরে সবজির আবাদ হয়। তবে সবচেয়ে বেশি সবজির আবাদ হয় শীতকালে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যশোরে এবার শীতকালীন মৌসুমে সবজি চাষ হয়েছে ১৮০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে যশোর সদরে ২৪০০ হেক্টর, শার্শায় ১৮০০ হেক্টর, ঝিকরগাছায় ২১১০ হেক্টর, চৌগাছায় ৪২৫০ হেক্টর, কেশবপুরে ১১০০ হেক্টর, মণিরামপুরে ২৩০০ হেক্টর, অভয়নগরে ৭০০ হেক্টর ও বাঘারপাড়ায় ৯২০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হচ্ছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিছুর রহমান প্রদত্ত তথ্য মতে যশোর জেলার উৎপাদিত মাছের মধ্য রয়েছে রুই, কাতল, মৃগেল, বাগদা, বাগদা, গলদাচিংড়ি, পাঙ্গাস, শিং, মাগুর ও কৈ মাছ ইত্যাদী। এই মাছ জেলার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত মাছ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করা হয়। যশোরে মাছের মোট চাহিদা ৬০,৫৬১ মেট্রিক টন। যশোরে মাছ উৎপাদন ক্রম বর্ধমান। বিগত এক অর্থ বছরে মাছ উৎপাদিত হয়েছিল ১,৭৯,৯৯৮ মেট্রিক টন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২,৫৮১১ মেট্রিক টন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২,২৪,৭৬৭ মেট্রিক টন, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ২,৩৬,৪২০ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়েছিল। আর এ অর্থ বছরে মাছ উৎপাদিত হয়েছে ২,৩৮,৫৮৮ মেট্রিক টন। ৫১টি কার্প ও তেলাপিয়া হ্যাচারি এবং ৪১৭৫টি নার্সারিতে যশোর জেলার ক্রমবর্ধমান এ সাফল্য জাতীয় অর্থনীতিসহ পুষ্টি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। গত অর্থ বছরে ৬৯ মেট্রিক টন রেনু পোনা উৎপাদন হয়েছিল। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় গত এবার ৬৮ দশমিক ৭১ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। জেলায় রেনু পোনার চাহিদা রয়েছে ১৫ দশমিক ২৩ মেট্রিক টন। উদ্বৃত্ত রেনু পোনা দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা মিটানো হয়। উল্লেখ্য, শুধুমাত্র কাঁচা সবজি, মাছ, দুধ ও হিমায়িত পণ্য পরিবহনের ব্যবহৃত হবে কৃষি ট্রেন। সারা দেশের কৃষি পণ্যে পৌছাবে রাজধানীর তেজগাঁও রেলস্টেশনে। সেই ল্েয কাজ এগিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। মাছ ও কৃষি পন্য তরি তরকারি উৎপাদনে অন্যান্য জেলা থেকে অনেক এগিয়ে যশোর। পদ্মা সেতুর একটি মোক্ষম পয়েন্ট যশোর। ফলে যশোরের তরি তরকারি বা কৃষি উৎপাদক ও মাছ চাষীরা এই সুবিধার আওতায় নিশ্চিত পড়বেন। যেদিক থেকেই কৃষি পন্য বা তরিতরকারি ও মাছ রাজধানিতে যাক না কেন যশোরে তার স্টপেজ হবে। রেলওয়ে থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here