ইরি-বোরো রোপণ শুরু/ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় রাজগঞ্জের তিগ্রস্ত কৃষকেরা

0
372

হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ প্রতিনিধি : কিছুদিন আগে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাত হয়। এ বৃষ্টিপাতের কারণে মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকার অনেক কৃষক আমনের ফলন ঘরে তুলতে পারেননি। নষ্ট হয়েছে অনেক কৃষকের আমন ধান। লোকসানও হয়েছে অনেক কৃষকের। এই লোকসান পুষিয়ে নিতে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে রাজগঞ্জ এলাকার কৃষকেরা দিনভর গা-গতরে খাটছেন, শুধু একটু ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায়।
সরেজমিনে দেখা যায়- আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা নিয়ে এবার ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ শুরু করেছে কৃষক, আবার রোপণের জন্য জমিও প্রস্তুত করছে অনেকে। পাতাখোলা থেকে ধানের চারা তুলে রোপণের উপযোগি করছেন রাজগঞ্জ এলাকার কৃষকেরা। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলছেন- এবছর রাজগঞ্জ অঞ্চলে উচ্চফলনসীল হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করা হয়েছে বেশি। যাতে কৃষকের লোকসান না হয় সেচেষ্টায় করা হচ্ছে। তবে এখনো কিছু নিচু জমিতে পাতাখোলা রয়েছে। সেই পাতাখোলায় পানি ও সার দেওয়াসহ পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছে অনেক কৃষক। মশ্বিমনগর ইউনিয়নের কাঁঠালতলা গ্রামের একজন গরিব চাষী নাজিম উদ্দিন গাজী (৬০) বলেন- আমার নিজের জমি নেই। তাই অন্যের জমি ভাগে চাষ করি। এবার প্রায় দেড় বিঘা জমিতে ইরি-বোরো আবাদ করবো বলে জমি প্রস্তুত তৈরি করেছি। এখনো রোপণ শুরু করিনি। আশা করছি, কয়েক সপ্তাহ পরে রোপণ শুরু করতে পারবে। একই এলাকার চাষী আব্দুল আলীম (৪০) বলেন- শ্রমিক, সার, কীটনাশকসহ কৃষি কাজে ব্যবহৃত সকল পণ্যের দাম বেশি হওয়াতে ধান উৎপাদন খরচ প্রতিবছর বাড়ছে। এবছর কি হবে জানিনা। শত বাঁধা পেরিয়ে একটু ঘুরে দাঁড়াতে চাই আমরা। রাজগঞ্জের চালুয়াহাটি ইউনিয়েনের মোবারকপুর গ্রামের কয়েকজন চাষী বলেন- চাষাবাদ করেই সংসার, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচসহ সকল খরচ চালাতে হয় আমাদের। যখন কোনো দুর্যোগে, কোনো ফসল নষ্ট হয়ে যাই, তখন আমাদের খুব কষ্ট হয়। সেই লোকসান দুই/তিন বছরেও উঠানো যাই না। স্থানীয় উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা ভগীরত চন্দ্র জানান- আমরা সার্বনিক কৃষকের পাশে থেকে কৃষি বিষয়ক পরামর্শ দিচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here