বিদায় ২০২১ স্বাগত ২০২২

0
394

স্টাফ রিপোর্টার : বিদায় ২০২১ আর স্বাগত ২০২২। রাত পোহানোর সাথে সাথে এসে গেলো ২০২২। নতুন বছরের প্রথম দিনে শুভেচ্ছা সবার জন্য। গতকাল ছিল ২০২১ সালের শেষ দিন। সময়ের বৃ থেকে আরও একটি পাতা ঝরে গেছে, নতুন সুর্যোদয়ের সাথে সাথে যবনিকা পতন হয়েছে ২০২১ সালের। শুরু হয়েছে নতুন বছর ২০২২-এর যাত্রা। পৃথিবীর ও বৃহত্তর মানব জীবনের পথ পরিক্রমায় ৩৬৫ দিন নিশ্চিতভাবে পরমাণুসম ুদ্র, একটি দেশ বা সমাজের সার্বিক বিবর্তনেও একটি বছর তেমন কিছু নয়, একজন ব্যক্তি মানুষের পুরো জীবন বলয়েও হয়তো একটি বছরের সামগ্রিক গুরুত্ব তেমন একটা বড নয়, তবু প্রতিটি বছরই তার নিজস্ব তাৎপর্যে ভাস্বর যেমন পুরো পৃথিবীর জন্যে, তেমনি একটি দেশ বা সমাজের জন্য এবং সেই সঙ্গে একজন ব্যক্তি মানুষের জন্যে।
শেষ হয়ে গেল ২০২১। পৃথিবীতে কত বদল হয়েছে এ বছরে, ঘটেছে কত পরিবর্তন নানান দেশে, নানান সমাজে। ঐ সব পরিবর্তন নিয়ে অনেকের মতো ভাবি, ব্যাখ্যা খুঁজি, জানি যে এসবের প্রভাব আমার জীবনেও পড়বে। কিন্তু বাইরের বৃহত্তর পৃথিবীর পরিবর্তনে ততটা আন্দোলিত হই না, যতটা হই আমার নিজস্ব পৃথিবীর বদলে। গত বছর করোনার থাবায় লক্ষ লক্ষ মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে। মানবতা কেঁদে উঠেছে ডুকরে। কতো মানুষ যে এই মরণব্যধীতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে জীবন যুদ্ধে জয়ী হয়েছে তার সঠিক কোন হিসাব নিকাষ নেই কারোর কাছেই। পৃথিবীর সাথে পাল্লা দিয়ে অর্থিৈনতক বিরুপ প্রভাব মোকাবিলা করতে হয়েছে গোটা দেশের মানুষকে। দ্রব্যমুল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি দেশের অধিকাংশ মানুষের জীবনে নাবিশ^াস উঠেছে। দেশের শিল্প খাত বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টরে ঘটে গেছে মহা প্রলয়। বেসরকারী চাকুরীজীবীদের কথা না বলায় ভালো। লাখ লাখ শিক্ষিত চাকুরীজীবী রাতারাতি কোভিড-১৯ এর প্রভাবে বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। মহা বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে আমাদের শিক্ষা খাতে। কোরানা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারন করায় দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। করোনা কিছুটা হালকা হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা হয়েছে। দেশের ব্যবসা বাণিজ্যে মহাধ্বসের পরও দেশের রেমিটেন্স বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। গত কয়েক মাস ধরেই দেশের রিজার্ভ রেকর্ড ছাড়িয়ে ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অত্রিকম করেছে। ২০২১ তে ঘটেছে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন। দেশের সর্ববৃহত পদ্মা সেতুতে স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। ৪১তম স্প্যান বসানোর মাধ্যমে পদ্মার দুই পাড় সংযুক্ত হয়েছে এক সেতুতে। ঢাকার উড়াল রেল, চট্রগ্রামের ট্যানেল, দেশের গভীর সমুদ্র বন্দও, রোহিঙ্গাদেও ভাসানচওে স্থানান্তরসহ নানা উল্রেখযোগ্য ঘটনার স্বাক্ষী ২০২১। পৃথিবীর সভ্যতার ইতিহাসে ২০২১ নিজস্ব জায়গা করে নিয়েছিল মহামারি করোনার । পৃথিবীর চিকিৎসা শাস্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোভিড-১৯ এখনো সারা দুনিয়ায় দাপটের সাথে বিরাজ করছে।
এই বছরেই পৃথিবীর মানুষ মানবতার নতুর চিত্র দেখেছে। কিভাবে মানুষ জীবন বাজি রেখে কোভিড মোকাবিলায় ঝাপিয়ে পড়েছে তা আর নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। আমাদের পৃথিবীর বদলগুলো আমাদের ধরা-ছোঁয়ার মধ্যে বাস্তব বিষয় বলে মনে হয়; বাইরের পৃথিবীর ঘটনাগুলো বুদ্ধিবৃত্তি দিয়ে আমরা অনুধাবন করতে পারি, আমাদের পৃথিবীর জিনিসগুলো হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে পারি। তাই যে কোনও বছরকে আমরা মূলত: দেখি আমাদের পৃথিবীর আরশিতে। ২০২১ তে আমরা হারিয়েছি বহু প্রিয়মানুষ, সতীর্থবন্ধু ও চেনাজনকে। কোভিড-১৯ তো ছিনিয়ে নিয়েছে বহুজনকে। তাঁদের স্মরণ করি পরম মমতায়। মনে পড়ে যায় সেইসব স্বজন-প্রিয়জনদের যাঁরা অনেক আগেই চলে গেছেন আমাদের জীবন থেকে। সবার কাছে ঋণ আমাদের অনেক। কিন্তুকোনও কোনও ঋণ মানুষকে রিক্ত করে না, তাকে সমৃদ্ধ করে। তাই ঋণ শোধ করার কথা ভাবি না, কারণ কোনও কোনও ঋণ শুধবার নয়, আর সব ঋণ শোধ করাও যায় না এক জীবনে। তাই ২০২২ কে বলতে ইচ্ছে হয়, ‘যা পেয়েছি, তাও থাক, যা পাইনি তাও, যা কখনও চাইনি, তাই মোরে দাও’। জয়তু: ২০২১ এবং সুস্বাগতম ২০২২।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here