দশমিনায় বিদেশী প্রজাতির গাছে সামাজিক বনায়ন পরিবেশে বিরূপ প্রভাব

0
333

নাসির আহমেদ,দশমিনা (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে ক্ষতিকর বিভিন্ন প্রজাতির বিদেশী গাছে সামাজিক বনায়নে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়াসহ পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সড়কের জমিতে চাষাবাদকৃত কৃষকরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কের দুই পাশে দ্রুত বৃদ্ধিকারী ও পরিবেশের ক্ষতিকারী এই ধরনের গাছের বনায়ন করা হচ্ছে। অল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় বন বিভাগ এই ধরনের গাছ দিয়ে বনায়ন করছে। ফলে বনায়নের নামে পরিবেশ তিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে রোপনকৃত গাছগুলো পরিবেশ বান্ধব নয় বলে জানা গেছে। উপজেলা বন বিভাগ থেকে জানা যায়, গত কয়েক দশক ধরে দেশি বিদেশী প্রজাতির গাছ দিয়ে বনায়ন শুরু হয়। অল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য রাস্তার দুই পাশে এসব বনায়ন করা হচ্ছে। কৃত্রিমভাবে সামাজিক বনায়ন এবং ব্যক্তি উদ্যোগে বসত বাড়ির আশেপাশে এই জাতীয় গাছের শোভা পায়। এই গাছগুলো বিদেশী প্রজাতির আগ্রাসী গাছ হিসাবে পরিচিত। এই সকল গাছের ছায়ায় পড়ে ধান গাছে রোগ ও পোকার আক্রমন মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাছের পার্শ্ববর্তী এলাকায় ধানতে বিনষ্ট হয়। আকাশি গাছের পাতা সহজে পঁচে না এবং কৃষিেেত ব্যাপক তি সৃষ্টি করে। প্রকৃতি, পরিবেশ ও কৃষি েেত ব্যাপক তি বয়ে আনা গাছ দিয়ে বনায়ন বন্ধের দাবি তুলেছেন পরিবেশবিদ ও গবেষকরা। উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক ছাড়াও গ্রামগঞ্জের রাস্তার দু’পাশে এই সব গাছের সামাজিক বনায়নে ভরে উঠছে। উপজেলা বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিন দাসপাড়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর রাড়ী, মজিদ হাওলাদার, জামাল হাওলাদার, খালেক রাড়ী ও শংকর চন্দ্রসহ আরও অনেকে বলেন, রাস্তার পাশে এই সব গাছ গাছালি চাষাবাদে কৃষি জমি বিনষ্ট, মৎস্য চাষাবাদে ব্যাপক তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাছের ছায়ায় ধানী জমির জায়গা দখল করে। চাষাবাদকৃত ধান গাছ কেটে গরুর খাদ্য ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। কৃষকরা আরও বলেন, আকাশি গাছের ছায়ায় ধান থেকে শুরু করে কোন ধরনের চাষাবাদ সম্ভব হয় না। একইভাবে মৎস্য খামারের পাশে এইসব গাছের কারনে মৎস্য চাষাবাদেও তির কারন হয়ে দেখা দিয়েছে। দক্ষিন দাসপাড়া আংশিক গছানীর সামাজিক বনায়ন কমিটির সাধারন সম্পাদক মোঃ সামছুল হক ও পরিবেশ কর্মী শাহ আলম বলেন, আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য নয় এমন প্রাতির গাছের বনায়ন শুরু হয়ে আসছে দীর্ঘ সময় ধরে। বিদেশী প্রজাতির এই গাছগুলো স্থানীয় প্রজাতিদের জায়গা দখল করে সেগুলোকে বিপন্ন করে তোলে। এই গাছগাছালি শুধু কৃষিতেই বিনষ্ট করে না, মৎস্য চাষাবাদেও তি করে এবং পশুপাখির খাদ্য তৈরি করে না। তিনি আরও বলেন, যে কোন প্রজাতি ভিন্ন পরিবেশ থেকে এনে বিস্তার ঘটাতে দিলে কালক্রমে তা হয়ে ওঠে আগ্রাসী প্রজাতি। আমাদের দেশেও এই গাছগুলো আগ্রাসী হয়ে উঠছে এবং পরিবেশের তি বয়ে আনছে। এই সব গাছ দিয়ে বনায়ন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই ব্যাপারে উপজেলা বন কর্মকর্তা অমিতাব বলেন, পূর্বে এক সময়ে কাঠের চাহিদা মেটাতে এই সব গাছ দিয়ে বনায়ন শুরু হয়। বর্তমানে এই সব গাছ রোপন এবং সরকারি নার্সারীগুলোতে আকাশমনি, ম্যানজিয়াম গাছের চারা উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here