শার্শার চাষিরা সরিষা চাষে ঝুঁকছে

0
292

শার্শা প্রতিনিধি : যশোরের শার্শা উপজেলার মাঠ জুড়ে সরিষার হলুদ ফুলে একাকার। সরিষার তে গুলোতে মৌমাছির গুনগুন শব্দে চারপাশ মুখরিত। গত কয়েক দিন আগে একটানা বৃষ্টির পরেও যেসব সরিষা তে সতেজ এখনো সেই সরিষা তে নিয়ে কৃষকরা স্বপ্ন দেখছেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত অধিক ফলনশীল জাতের সরিষা চাষে ঝুঁকেছেন যশোরের শার্শার চাষিরা। চলতি মৌসুমে যশোরের শার্শা উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। বেড়ে ওঠা গাছ আর ফুল দেখে অধিক ফলনের স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার ৯০০ কৃষক। উপজেলার শার্শা, ধান্যখোলা, শাখারীপোতা, নাভারন, বেড়ী, নারাযনপুর, বাহাদুরপুর, ডিহি, নিজামপুর লণপুর, পুটখালি, গোগা, গোকর্ন, পাকশী, শালকোনা, কায়বা, কন্যাদহ, জিরেনগাছা, উলাশি, সম্বনন্ধকাঠীসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, যেদিকে চোখ যায় খন্ড খন্ড হলুদ ফুলের চাদর যেন বিছানো রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাটির গুণাগুণ ভেদে বিভিন্ন জাতের সরিষার চাষ করেছেন কৃষকরা। এ বছর বারি-১৪, বারি-১৭, ১৮, বিনা-৯, রায়, টরি-৭সহ দেশীয় জাতের সরিষার চাষ বেশি হয়েছে। স্থানীয় বাজারে গত বছর সরিষার ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষে অধিক আগ্রহী হয়েছেন বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। অল্প দিনে বেশি ফলনের আশায় চাষিরা এটাকে লাভের ফসল হিসেবে দেখছেন। শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৌতম কুমার শীল জানান, চলতি মৌসুমে এ উপজেলার ৪,৪০০ হেক্টর জমিতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত অধিক ফলনশীল জাতের সরিষা চাষ করেছেন চাষিরা। গত মৌসুমে ২,৫৮০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে এবছর ১৯২০ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের কৃষক সব্দুল ইসলাম বলেন, এ বছর দুই বিঘা জমিতে বারি-১৪ ও বিনা-৯/১০ জাতের সরিষা চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে চার হাজার টাকার মত। সরিষার গাছ, সরিষা ফুল ও ফল খুবই ভালো হয়েছে। আশা করছি বাম্পার ফলনের। বেনাপোল গ্রামের কৃষক সোবহান হোসেন ও সাইদ হোসেন বলেন, গত বছর সরিষার দাম ভালো ছিল, চাহিদাও ছিল ব্যাপক, তাই এবারও সরিষা চাষ করেছি ফলন ভালো হবে এমন আশায়। উপযুক্ত দাম পেলে আগামী বছর সরিষা চাষে আরো অনেকেই ঝুঁকে পড়বেন। ঘিবা গ্রামের মহিউদ্দিন বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে দুই বিঘা জমিতে উন্নত জাতের সরিষার আবাদ করেছি। সরিষা ওঠার পর সেই জমিতে ধানের আবাদও ভালো হয় এবং চাষে খরচও কম হয়। বেনাপোলের বারোপোতা গ্রামের বিল্লাল হোসেন বলেন, বারি-১৪ সরিষা গাছ লম্বা হওয়ায় এর পাতা মাটিতে ঝরে পড়ে জৈব সারের কাজ করে, এতে জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ে। এ জাতের সরিষা আবাদের পর ওই জমিতে বোরো আবাদে সারের পরিমাণও কম লাগে। শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৌতম কুমার শীল জানান, কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। বারি-১৪সহ অন্যান্য সরিষা বপনের মাত্র ৭৫-৮০ দিনের মধ্যে এর ফলন পাওয়া যায়। এ সরিষা উত্তোলন করে ফের বোরো আবাদ করতে পারেন বলে এটাকে কৃষকরা ‘লাভের ফসল’ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৌতম কুমার শীল জানান, কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। বারি-১৪ সহ অন্যান্য সরিষা বপনের মাত্র ৭৫-৮০ দিনের মধ্যে এর ফলন পাওয়া যায়। এ সরিষা উত্তোলন করে ফের বোরো আবাদ করতে পারেন বলে এটাকে কৃষকরা ‘লাভের ফসল’ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here