যশোর প্রতিনিধি : ভবদহ ও তৎসংলগ্ন বিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করাসহ ছয় দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো যশোর কালেক্টরেট ভবনের (ডিসি অফিস) সামনে অবস্থান নিয়েছেন জেলার সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে সেখানে অবস্থান নেন তারা। লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে আসা মণিরামপুরের কুশখালী এলাকার ৭০ বছর বয়সী সুলপান গোলদার বলেন, ৯ জনের সংসার। দুই ছেলে পরের জমিতে কিষেন দিতো। এখন তারা বিদেশে (বাইরের জেলায়) গিয়ে দিনমজুরের কাজ করছে। ঘরে-বাইরে-রাস্তায় পানি। এই অবস্থা থেকে আমরা মুক্তি চাই। একই কথা বলেন কুলটিয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গা মহিষদিয়া গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব রাশিদা বেগম। ঘর-বাড়ি-রান্নাঘরে পানি থই থই করছে। আমাদের এলাকায় পানিতে ডুবে চার শিশু মারাও গেছে। এইরকম অবস্থায় মানুষ কীভাবে বেঁচে থাকতে পারে। তাই পানি সরানোর এই দাবিতে আমরা ডিসি অফিসে আসছি। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির মনোহরপুর আঞ্চলিক শাখার আহ্বায়ক শেখর চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মাননীয় হাইকোর্টের রায় রয়েছে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন- নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কিন্তু আমরা দেখছি, এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি জল নিষ্কাশনের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি টিআরএম (জোয়ারাধার) প্রকল্প বাদ দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী হত্যার জন্যে সেচ প্রকল্প চালু করেছে। আমরা অবিলম্বে এই সেচ প্রকল্প বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছি। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে জাতীয় কর্মশালায় গৃহীত ৯৬ শতাংশ মানুষের দাবি ছিল- বলি কপালিয়া টিআরএম চালুর। কিন্তু সেই দাবি অগ্রাহ্য করে পাউবো (পানি উন্নয়ন বোর্ড) নদীকে হত্যা করতে সেচ প্রকল্প চালু করেছে। আমরা বলেছি, এই সেচ প্রকল্প ভবদহ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনে কোনও কাজে আসবে না। একমাত্র কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে টিআরএম চালু। আমরা চাই আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগেই বিল কপালিয়ায় টিআরএম চালু করা হোক; আমডাঙ্গা খাল সংস্কার, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি ৬ দফা নিয়ে আমরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পাল করছি।
তিনি বলেন, আগামী ২/১ দিনের মধ্যে আমাদের প্রাণের দাবি যদি মেনে নেওয়া না হয়; তাহলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃবৃন্দ। সংগঠনের সভাপতি সুকুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খানসহ নেতৃবৃন্দ ভবদহবাসীকে গণসংগীতের মাধ্যমে উজ্জীবিত করেন। অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে অন্যদের মধ্যে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, গাজী আব্দুল হামিদ, চৈতন্য কুমার পাল, অধ্যাপক অনিল বিশ্বাস, রাজু আহমেদ, উত্তম গাইন, আব্দুল আজিজ, নাজিমউদ্নি প্রমুখ বক্তৃতা করেন। প্রসঙ্গত, গত ৯ জানুয়ারি থেকে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি তাদের ছয় দফা যথাক্রমে—সরকারকে মিথ্যা তথ্য প্রদান, নদী হত্যা, জনপদের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা, ফসল-বসতবাড়ি, জানমালের য়তির সঙ্গে জড়িত পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। দুই. প্রস্তাবিত প্রায় ৪৫ কোটি টাকার ‘ভবদহ ও তৎসংলগ্ন বিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ’ অবিবেচনাপ্রসূত প্রকল্প বাতিল। তিন. ক্র্যাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে মাঘী পূর্ণিমার আগেই বিল কপালিয়ায় টিআরএম (জোয়ারাধার) চালু। চার. আমডাঙ্গা খাল সংস্কার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন ও কাজের স্বচ্ছতা আনতে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সেনাবাহিনীর তদারকিতে সম্পন্ন করা। পাঁচ . ভবদহ স্লুইসগেটের ভাটিতে পাইলট চ্যানেল করতে ৫-৬টি স্কেভেটর লাগানো। ছয়. ২১, ৯ ও ৮ ভেন্টের গেট উঠানামা করানোর ব্যবস্থা এবং এই জনপদের মানুষের তিপূরণ, কৃষিঋণ মওকুফ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি আদায়ে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে।















