দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় আবদুল গনি হাওলাদার নামের এক মুক্তিযোদ্ধার নামে দু’টি সরকারি ঘর দেয়া হড। দু’টি ঘরের একটিতে তিনি বসবাস করছেন। আর অন্যটি উত্তোলনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই নিয়ে ঘর না পাওয়া অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। আর ঐ মুক্তিযোদ্ধার ছেলে বর্তমানে উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য। উপজেলা নির্বাহী অফিস ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলে অস্বচ্ছল গৃহহীন বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের ডিও পত্রের আলোকে প্রতিটি উপজেলার রাজস্ব তহবিল থেকে গৃহ নির্মাণ করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ঐ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের চাঁদপুরা গ্রামের আবদুল গনি হাওলাদারের আবেদনের বিপরীতে তার নামে একটি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। বর্তমানে ঐ ঘরে আবদুল গনি হাওলাদার বসবাস করছেন।
চলতি ২০২১-২২ অর্থ বছরে অসহায় ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকার ঘর নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিলে উপজেলা প্রশাসন বাছাই শুরু করে। কিন্তু ওই বাছাইতে পুনরায় মুক্তিযোদ্ধা আবদুল গনি হাওলাদারের নামে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। তার ছেলে বর্তমানে ইউপি সদস্য এবং উপজেলা যুবলীগের নেতা। এই নিয়ে ঘর না পাওয়া অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এই বিষয় মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমানের ছেলে মাহবুল খন্দকার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি অন্যের দেয়া জমিতে ভাঙাচুরা ঘরে থাকি। উপজেলা পরিষদে আমি ৩বার আবেদন করেও কোন সরকারি ঘর পাই নাই। কিন্তু একজনে দুইটা ঘরও পাইছে।’ মুক্তিযোদ্ধা আবদুল গনি হাওলাদার ও তার ছেলে ইউপি সদস্য ইয়াকুব হোসেন দু’টি ঘর পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে যে ঘরটি আমাদের দেয়া হয়েছে আমরা এই ঘরের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু মুজিববর্ষ উপলে বিভাগীয় কমিশনার স্যারের চিঠির আলোকে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমিন স্যারের অনুরোধে উপজেলা পরিষদ থেকে দেয়া আগের ঘরটি নিয়েছিলাম। আমরা তখন নিতে চাইনি।’ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘একটি নাম দুইবার এসেছে। কিন্তু ঘর একটি হয়েছে, অন্যটি এখনো হয়নি। দুইবার নাম আসায় উর্ধ্বতন কর্তৃপকে বিষয়টি জানিয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপরে নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।














