দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলার রাখাইল বেগুন বা বারি-১২ বেগুন চাষ করে একজন কৃষক সফলতা অর্জন করেছে। এই বেগুন চাষ করে ফলন ভাল হওয়ায় তারা বেশ আশাবাদি হয়ে উঠেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহ আলম পেশায় একজন কৃষক। পরিবারের ভরনপোষন হয় কৃষি উৎপাধন পন্য থেকে। তিনি নতুন নতুন সবজি চাষে সবসয়ই নিজেকে বিভিন্ন সময় ব্যস্ত রাখেন। শীতকালীন সবজির চাহিদা সব সময়ই বেশি। তার সবজি চাষে আগ্রহ বেশি। গত বছর তিনি বান্দরবন পাহাড়ি এলাকায় যান ব্যবসার প্রয়োজনে সেখানে তিনি রাখাইল বেগুন বা বারি বেগুন-১২ এর চাষের ব্যবস্থাপনা দেখে আসেন এবং খোজ খবর নেন কি ভাবে পাওয়া যায় এ রাখাইল বেগুনের চারা। মোঃ শাহ-আলম পটুয়াখালীর দুমকি কৃষি ইনস্টিটিউট থেকে রাখাইল বেগুন বা বারি-১২ বেগুনের দুই হাজার চারা সংগ্রহ করেন । তার প্রায় ১ একর জমিতে এই চারা রোপন করে থাকেন।
শাহ আলম বলেন, আমি একজন সবজি চাষি শীত মৌসুমে বিভিন্ন সবজি ফলিয়ে থাকি। ব্যবসার কারনে বান্দরবন যাই সেখানে রাখাইল বেগুন দেখি এবং চাষের জন্য মন স্থির করি। এই বেগুন প্রায় এক থেকে দেড় কেজি হয়ে থাকে। আমি প্রথমবার এই বেগুন চাষ করি আধা একর জমিতে ভালো ফলন পাই এবং বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক তাই এই বছর দুমকি কৃষি ইনস্টিটিউট থেকে ২হাজার চারা এনে এক একর জমিতে রোপন করি। এই বছর গাছের ফলন অধিকতর ভালো আশা করছি। আমার বেগুন বিক্রি করতে বাজারে যেতে হয় না। পাইকাররা আমার ক্ষেত থেকে এসে নিয়ে যায়। এই বেগুন খুবই সুস্বাধু তাই বাজারে এর চাহিদা বেশি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে অফিসারেরা এসে বিভিন্ন পরামর্শ ও সার দিয়ে থাকেন। এই বছর কোন রোগ বালাই নাই । আমি বেগুন বাজারজাত শুরু করেছি । এখন বাজারে ৪০-৫০ টাকা কেজি প্রতি বেগুন বিক্রি করছি। আমার বেগুন ক্ষেত দেখতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে সবজি চাষিরা আসে। আমার মনে হয় আগামী বছর দশমিনা উপজেলায় অনেক চাষিরা এই বেগুন চাষ করবে। তার নিকটতম সবজি চাষি অমল বলেন, আমি এই বছর ২৫ শতাংশ জমিতে বেগুন চাষ করি। শাহ-আলম ভাইর সাথে গিয়ে তিন শত চারা আনছি । উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন সময় পরামর্শ পেয়ে থাকি। এছাড়া তারা এসে খোঁজ খবর নেয়। এই বছর গাছে ফলন অধিক হয়েছে বাজারজাত শুরু করছি । অধিক লাভ হবে আশা করছি । আগামী বছর ২ একর জমিতে বেগুন চাষ করব। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু জাফর আহমেদ বলেন, বারি-১২ বা রাখাইল বেগুন এই প্রথম উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের সবজি চাষি মোঃ শাহ-আলম চাষ করে সফলতার পেতে যাচ্ছে। আমাদের অফিস থেকে সার্বক্ষনিক দেখাশুনা করা হচ্ছে। এই বেগুন আকারে বড় হয়, খেতে সুস্বাধু ও মজাদার । এই বছর তার ক্ষেতে ফলন অধিকতর ভালো । এই প্রথম বারে দশমিনা উপজেলায় রাখাইল বেগুন বা বারি-১২ বেগুন উৎপাদনের জন্য সফল সবজি চাষি হিসাবে মোঃ শাহ-আলমকে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন করা হয়েছে। উপজেলায় শাহ আলম এর ক্ষেত দেখে আগামীতে বেগুন চাষে চাষিরা ব্যাপক আকারে চাষ করার আগ্রহ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।















