দুর্নীতির আখড়া মহেশপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস

0
533

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে মহেশপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। একশ্রেণির দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাতে¦্য অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সেবা প্রত্যাশীরা। দলিল লেখক ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত এ সিন্ডিকেটের যোগসাজশে সাব-রেজিস্ট্রার সঞ্জয় কুমার আর্চায্য জড়িয়ে পড়েছেন নানা অনিয়মে। অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার সঞ্জয় কুমার সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন দেখিয়ে, সাব-কবলা দলিলের পরিবর্তে হেবাবিল এওয়াজ, অসিয়ত নামা, ঘোষণাপত্র, আমমোক্তার নামা দলিল রেজিষ্ট্রি করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। তিনি এ অফিসে যোগদানের পর থেকে দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতি দলিল মূল্যে লাখে ১ হাজার করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ টাকা সিন্ডিকেটের সমন্বয়ে ভাগ ভাটোয়ারা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন ম্যানুয়াল-২০১৪ মানছেন না মহেশপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার সঞ্জয় কুমার আর্চায্য। নিবন্ধন ম্যানুয়াল অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নিজেদের কাজ ওমেদার দিয়ে করাচ্ছেন। দলিল চেক করার কাজ সাব-রেজিস্ট্রার করার নিয়ম থাকলেও তা মানছেন না তিনি। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন ম্যানুয়াল-২০১৪-এর অধ্যায়-২৬-এ উল্লেখ আছে যে, ওমেদার, অফিস সহকারীগণ কর্তৃক দলিল পরীাকরণ কাঙ্খিত নয়, এই কাজটি অবশ্যই স্বয়ং সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক সম্পাদিত হতে হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলিল লেখকরা জানান ওমেদার এবং অফিস সহকারীদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না। মহেশপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ অফিসে সপ্তাহে তিনদিন রোববাব, সোমবার ও মঙ্গলবার দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। এর মধ্যে বেশির ভাগ দলিল হেবাবিল এওয়াজ,আমমোক্তার নামা, দানপত্র ও ঘোষণাপত্র দলিল। এতে বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে। গত বছর রেজিস্ট্রি করা দলিল পরীা করলে এর সন্ধান পাওয়া যাবে। সরেজমিন গিয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, দলিলের ফি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করলেও শেরেস্তা (অতিরিক্ত ফি) ছাড়া সাব-রেজিস্ট্রার কোনো দলিল রেজিস্ট্রি করেন না। তার চাহিদা মতো টাকা না পেলে বিভিন্ন কাগজপত্রের অজুহাতে হয়রানি করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দলিল লেখক জানিয়েছেন, শেরেস্তা না দিলে জমি রেজিস্ট্রি তো দূরের কথা সীমাহীন হয়রানির শিকার হতে হয় ভুক্তভোগীদের। তাই বাধ্য হয়েই শেরেস্তা (অতিরিক্ত ফি) দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করতে হয়। তবে কাগজপত্রে ঝামেলা থাকলে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রত্যেক দলিল থেকে শেরেস্তার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হলেও সিন্ডিকেটের ভয়ে এ নিয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হচ্ছে না। ইউনিয়ন পর্যায়ের দলিল করতে আসা হাফিজুর নামে এক ব্যক্তি জানান, সরকারি সকল ফি বাদ দিয়ে তার প্রতি লাখে অতিরিক্ত ৪ হাজার টাকা করে গুনতে হয়েছে। এর মধ্যে দলিল লেখক সমিতির আর বাকি টাকা অফিস খরচের জন্য দেয়া হয়েছে। শুধু হাফিজুর নয় দলিল রেজিস্ট্রি করতে আসা প্রত্যেক লোকের কাছ থেকে এভাবেই টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।এছাড়াও দলিলের নকল তুলতে গেলে সরকারি ফির দ্বিগুন টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এ বিষয়ে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সঞ্জয় কুমার আচার্য্য বলেন, অফিসে কোনো সিন্ডিকেট নেই। দলিল লেখকের মাধ্যমে আমার নিকট দলিল আসে। শেরেস্তা আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, অফিসে কোনো শেরেস্তা আদায় করা হয় না। দলিল লেখকরা চুক্তি করে দলিল রেজিস্ট্রি সরকারি মূল্যের বেশি টাকা নিয়ে থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here