শ্যামকুড়ে ২ চেয়ারম্যান সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ১০

0
232

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বর্তমান ও সাবেক দুই চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার চিনাটোলা বাজারে ঘটনাটি ঘটে। এ সময় দুই চেয়ারম্যান একে অপরকে মারপিট করেছেন বলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হচ্ছে। এতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। তারা সবাই স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে। আহতরা হলো, শ্যামকুড় ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, চিনাটোলা বাজারের মাংস বিক্রেতা জাকির হোসেন, ইউপির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি, তার দুই ভাই আবুল কালাম ও কামরুজ্জামান টুকু, চাচা আতিয়ার রহমান, চাচাতো ভাই আলমগীর হোসেন, ফজলুর রহমান, বোরহান উদ্দিন ও রেজাউল করিম। আহতরা সবাই মতাশীন দলের নেতাকর্মী। চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি শ্যামকুড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০১৬ সালে তিনি নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হন। আর আলমগীর হোসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি ২৮ নভেম্বরের নির্বাচনে নৌকা নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এদিকে দুই চেয়ারম্যানের মারামারির ঘটনায় চিনাটোলা বাজারে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মারামারির পর আতঙ্কে বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে এক ঘন্টা পর ফের দোকান খোলেন ব্যবসায়ীরা। মারামারির ঘটনায় এক চেয়ারম্যান অপর চেয়ারম্যানকে দুষছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের দাবি, সাবেক চেয়ারম্যান মনির লোকজন চিনাটোলা বাজারের মাংস বিক্রেতা জাকিরের কাছ থেকে দীর্ঘ দিন চাঁদা আদায় করে আসছিলো। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের নিভৃত করতে গেলে সাবেক চেয়ারম্যান মনি ও তার লোকজন আমার ওপর হামলা করেন। সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির দাবি, আমার এক চাচাকে চিনাটোলা বাজার থেকে উৎখাত করতে চেয়েছিলো মাংস বিক্রেতা জাকির। আমরা প্রতিবাদ করলে বর্তমান চেয়ারম্যান আলমগীর নিজে আমাকে ও আমার লোকজনকে মারপিট করেছেন। এ ঘটনায় বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত দুই পরে কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ। চিনাটোলা বাজারের মাংস বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, চার বছর ধরে সপ্তাহে পাঁচ দিন আমি চিনাটোলা বাজারে মাংস বিক্রি করি। মনি চেয়ারম্যানের চাচা আতিয়ার দিন ১০০ টাকা করে নিয়মিত আমার কাছ থেকে চাঁদা নিতেন। গত সোমবার টাকা না দেয়ায় মঙ্গলবার বিকালে আতিয়ার আমার কাছে সে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করার চেয়ারম্যান মনির উপস্থিতিতে তার চাচা ও ভাইরা আমাকে মারপিট করে। জাকির আরো জানান, এ সময় চেয়ারম্যান আলমগীর এগিয়ে আসলে সাবেক চেয়ারম্যান মনি তাকে (আলমগীর) লাথি মারেন। শ্যামকুড় ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, জাকিরকে মারার ঘটনা শুনে আমি মেম্বারদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আমি চাঁদাবাজি বন্ধের ঘোষণা দিলে সাবেক চেয়ারম্যান মনির ভাইরা আমার উপর হামলা করে। এতে আমার হাতের একটি আঙ্গুল আঘাতপ্রাপ্ত হয়। মনি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তারা আমার গায়ে হাত তোলে। মনি নিজে আমাকে ধাক্কা দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাতেই আমি দলীয় লোকজন নিয়ে থানায় গিয়ে ওসিকে সব জানিয়েছি।
তবে অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে সাবেক চেয়ারম্যান মনি বলেন, আমার চাচা আতিয়ার চিনাটোলা বাজারে মাংস বেচেন। তাকে বাজার থেকে সরিয়ে দিতে চান অপর মাংস বিক্রেতা জাকির। এ নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে জাকির আমার চাচার দোকানের খাট ভেঙে দেন। খবর পেয়ে আমরা এগিয়ে যাই। তখন বর্তমান চেয়ারম্যান আলমগীর তার লোকজন নিয়ে এসে আমাদের মারপিট করেন। আলমগীর নিজে আমাকে ও আমার দুই ভাইকে মেরেছেন। তার লোকজনের হামলায় আমরা অন্তত ১০ জন আহত হয়েছি। মনিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান বলেন, শ্যামকুড় ইউনিয়নের চিনাটোলা বাজারে সাবেক ও বর্তমান দুই চেয়ারম্যানের মধ্যে গন্ডগোলের কথা শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দুই পরে কেউ এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত বছরের ২৮ নভেম্বরের ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে শ্যামকুড় ইউনিয়নে সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি নৌকা না পেয়ে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। পরে জীবনের শঙ্কা থাকার কথা জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। একই সাথে স্বতন্ত্র আরো তিন প্রার্থী সরে দাঁড়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আলমগীর হোসেন। এরপর থেকে শ্যামকুড় ইউনিয়নে দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে চলেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here