গাজী আব্দুল কুদ্দুস, ডুমুরিয়া : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপো করেই কৃষি জমিতে একের পর এক গড়ে তোলা হচ্ছে শিল্প কল কারখানা, আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনা। এতে ক্রমেই কমছে কৃষি জমি, ফলে উৎপাদন কমছে কৃষিপণ্যের। সরকারী খাল জলাশয় ভরাট হলে ভূমি অফিসের এক শ্রেণির কর্মকর্তার সহযোগিতায় ভূমিহীন সেজে অনেকেই বরাদ্দ নিয়ে বেআইনীভাবে বিক্রি করছে প্রভাবশালীদের কাছে। সরকারি এ নিদের্শনার মাঝেই খুলনা জেলার সর্বত্র এ নির্দেশনা উপো চলছে বালি ও মাটি দ্বারা কৃষি জমি ভরাট করে সরকারী বেসরকারী ও ব্যক্তি মালিকানার প্রতিষ্ঠান ও বসতি। কৃষি অধিপ্তরের হিসেব মতে প্রতিবছর উন্নয়নমূলক কাজ, বসতি, শিল্প কল-কারখানা স্থাপনে আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দখলবাজি ও সরকারী খাল জলাশয় ভরাটের ঘটনা ঘটছে শহর সংলগ্ন ডুমুরিয়া উপজেলায়। শহরের পাশ্ববর্তী হওয়ায় এ উপজেলার চক আসানখালী, বিলপাবলা, জিলেরডাঙ্গা, ভেলকামারী, উপজেলা সদরের জোয়ারের বিলসহ প্রায় প্রতিটি এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জমি কিনে তা বালি দিয়ে ভরাট করছে। একই সাথে খুলনা- সাতীরা সড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের খাল ভরাট করা হচ্ছে। জিরোপয়েন্ট থেকে পুরো ডুমুরিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের দুপাশে দখল হয়েছে। যে যার মত ভরাট করে রাস্তা তৈরির ফলে পানি নিষ্কাশন হতে পারেছে না। ভেলকামারী বিলের গুটুদিয়া ব্র্যাক হ্যাচারীর পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে চলা খালটির উপরে এক প্লট ব্যবসায়ী ছোট একটি কালভার্ট তৈরি করছে। হ্যাচারীর দণি পাশে অপর এক প্লট ব্যবসায়ী বিলের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা আঁকাবাঁকা খালটির উপরে ইট বিছিয়ে রাস্তা তৈরি করছে। ওই খালটি দোয়ানিয়া খাল থেকে উৎপত্তি যা ভরাট হয়ে যায়। ভূমিহীন হিসেবে এক ব্যক্তি এটি বরাদ্দ নিয়ে ওই প্লট ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছে বলে দাবি তাদের।
স্থাণীয়দের অভিমত এসব দখলবাজরা প্রভাবশালী তাই প্রশাসনকে জানানোর পরও দখলবাজি বন্ধ হয় না। এক সাথে কয়েক বিঘা জমি ক্রয় করার পর তা ভরাট করে প্লট আকারে তৈরি করছে। এতে নষ্ট হচ্ছে আবাদি জমি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও তাদের। ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, সরকারী খাল ভরাট করা বেআইনী। এরুপ যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। খুলনা কৃষি সম্প্রারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, কোন অবস্থাতেই কৃষি জমির শ্রেণির পরিবর্তন করা যাবে না। যদি বিশেষ কারণে শ্রেণি পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে তবে যথাযথ কর্তৃপরে অনুমোদন সাপেে তা করতে হবে। কৃষি জমি ভরাট করে দেদারছে আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন খুলনা জেলায় ২২শত কিলোমিটারের মত সরকারী খাল রয়েছে যার মধ্যে ৫৬০ কিলোমিটার খাল ভরাট হয়ে বেদখল হয়েছে। এসকল খাল উদ্ধার করে সেটি খনন করে জলাধার সৃষ্টি করলে কৃষি পণ্য উদপাদনে ভূমিকা রাখবে। খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, সরকারী খাল ও জলাশয় ভরাট করা আইনতঃ দন্ডনীয় অপরাধ। যারা এ কাজের সাথে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, সরকার দু ধরনের খাস জমি বরাদ্দ দিযে থাকে। এর মধ্যে কৃষি ও অকৃষি। কৃষি জমি বরাদ্দ নিয়ে সেটা কেউ বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবে না। এমন কোথাও হলে তদন্ত করে বরাদ্দ বাতিল করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।















