মালিকুজ্জামান কাকা : আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে মাছের অন্যতম জনপ্রিয় একটি জাত মিল্কফিশ। এটি তাজা বা প্রক্রিয়াজাত করা হয়। চিনিডে পরিবারে মিল্কফিশ একমাত্র প্রজাতি। মিল্কফিশ শুধুমাত্র সম্পূর্ণ লবণাক্ত পানিতে ডিম পাড়ে। যদি আপনি একটি পুকুরে মিল্কফিশ বাড়াতে চান তবে আপনাকে পুকুরে ছাড়ার জন্য সমুদ্র থেকে মাছের পোনা ধরতে হবে। নোনাপানির পাশাপাশি পুকুরের মিষ্টি পানিতেও এই মাছ চাষ সম্ভব। চিংড়ি বা ভেনামীর চাষ লাভজনক। তবে বর্তমানে এই মাছের চারা কিনতে হিমশিম কৃষকরা। এমনকি চাষের পরেও তা কেনার লোক বিশেষ পাওয়া যায় না। তাই ক্রেতার অভাবে ব্যবসায় মন্দা মৎস্যজীবীদের। এমন পরিস্থিতিতে সুস্বাদু মিল্ক ফিস চাষের ও বাজারজাত করণের সমূহ সুযোগ রয়েছে মাছচাষীদের কাছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে মিল্ক ফিশ ৫০০ গ্রাম ওজনের হয়। ৪০০ গ্রাম ওজন হলে এই মাছ খাওয়ার উপযোগী হয়। জায়গা নির্বাচন : যে কোনও উন্নত ও কার্যকর ব্র্যাকিশ পানির মাছের খামারে মিল্কফিশ চাষ শুরু করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে নিয়ম সর্বনিম্ন ০.৮ থেকে ১ মিটার গভীরতা থাকতে হবে পানির। ১০ থেকে ৩০ পিপিটি এর সর্বোত্তম লবণাক্ততা, ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তাপমাত্রা, সারা বছরে ৪.০ থেকে ৫.০ পিপিএমের পানির পিএইচ মান ৭.৫ থেকে ৮.৫ ডিগ্রি অক্সিজেন (ডিও) সহ মানের পানি প্রয়োজন। পুকুরের মাটি হবে বেলে বা কাদামাটি। বাজারে পৌঁছানোর জন্য বা মিল্কফিশ চাষের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহও প্রয়োজনীয়। মিল্কফিশের জন্য বীজ সংগ্রহ : মিল্কফিশ পুকুর এবং সীমাবদ্ধ পানিতে প্রজনন করে না। হ্যাচারি প্রযুক্তির উন্নয়ন কঠিন ছিল। যদিও এই প্রজাতিতে প্ররোচিত প্রজনন সফল পরিচালিত হয়েছে। এবং চূড়ান্ত বেঁচে থাকার হার কম হয়েছে এবং হ্যাচারি অপারেশনগুলি অর্থনৈতিক নয়। ভারতের ওড়িশ্যা, তামিলনাড়, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরালা এবং কর্ণাটক উপকূলে ২ থেকে ৭ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের মিল্কফিশ বীজ দেখা যায়। শান্ত উপকূলীয় জলের প্রয়োজন যেখানে তাপমাত্রা প্রায় ২৩ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং লবণাক্ততা ১০ থেকে ৩২ পিপিটির মধ্যে পরিবর্তিত হয়। পানি সরবরাহ ও হ্যাচারি উৎপাদন : ফিশপন্ড সাইটের উপযুক্ততার জন্য পানি সরবরাহ হচ্ছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণত, পানি সরবরাহ একটি নদী, সমুদ্র, বা খাঁড়ী থেকে আসে। এটি অবশ্যই সারা বছর ধরে পুকুরের প্রয়োজনীয় তার গুণমান এবং পরিমাণ পূরণ করতে হবে। যদি জলের উৎস দূষিত হয় এবং আয়তন অপর্যাপ্ত হয় তবে মাছ চাষ করা ব্যর্থ হবে। হ্যাচারি অপারেশনগুলি আধা-নিবিড় (কম মজুদ ঘনত্ব, ন্যূনতম জল বিনিময়, উচ্চ ভলিউম ট্যাঙ্ক, মিশ্র খাদ্যের সাথে খাওয়ানো) বা নিবিড় (উচ্চ স্টকিং ঘনত্ব, উচ্চ ভলিউম ট্যাঙ্ক, দৈনিক খাওয়ানো এবং পানি বিনিময়) সিস্টেম ব্যবহার করে, যার গড় বেঁচে থাকার হার ৩০% (মজুদ করা সদ্য-ফুটে থাকা লার্ভা থেকে)। ডিম ছাড়ার পর, লার্ভা আদর্শভাবে ৫০ লিটারে হ্যাচারি ট্যাঙ্কে রাখা হয় (ফাইবারগ্লাস, কংক্রিট, ক্যানভাস, অথবা পলিপ্রোপিলিন-আচ্ছাদিত মাটির ট্যাঙ্ক) কোরেলার সাথে রণাবেণ করা হয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোটিফার খাওয়ানো হয় এবং পরবর্তীতে মোট চিংড়ী দিয়ে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ। মাছ সংগ্রহ : পুকুরগুলি সম্পূর্ণ নিষ্কাশন করা বা পুরো নেট খাঁচার কাঠামো বন্ধ করে দেওয়া, সাইনিং বা কলমে গিলনেটের ব্যবহার)। এই পর্যায়ে ২৫০ থেকে ৫০০ গ্রামের মাছ পাওয়া যায়। ভেনামী চিংড়ির বিকল্প হিসাবে হারিয়ে যাওয়া মিল্ক ফিশ চাষে জোর দেওয়া হচ্ছে। কাজেই প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন এলাকাজুড়ে নোনাপানির মাছ চাষ শুরু হয়েছে। উপকূলবর্তী ব্রেকিস ওয়াটারে মাছ চাষের েেত্র লাভজনক হিসেবে চিংড়ি কিংবা ভেনামী চিংড়ি চাষকেই বেছে নেন মৎস্যচাষিরা। কিন্তু বর্তমানে নানা কারণে এই চাষে অনেকটাই ভাঁটার টান। অভিযোগ, ভেনামী চিংড়ি চাষের েেত্র উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। তাছাড়া দিন দিন রোগ প্রতিরোধ মতা কমে আসায় এই চিংড়ির চাষ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এবার রুই, কাতলার পাশাপাশি মিল্ক ফিশ চাষের উপর জোর দেওয়া যায়। সূত্রে জানা যায়, চিংড়ির থেকে অনেকটাই সহজ লভ্য এই মিল্ক ফিশ চাষ। আর উৎপাদন খরচ অনেক কম ও চাহিদা বেশি হওয়ায় বাজার যথেষ্ট ভাল। ফলে চাষিরা নিজস্ব পুঁজিতেই এটা চাষ করতে পারেন। তাছাড়া রোগ প্রতিরোধ মতা বেশি থাকায় এই চাষে ঝুঁকিও যথেষ্ট কম। এক একর এলাকায় মিল্ক ফিশের চাষ করলে মাত্র মাস পাঁচেকের মধ্যেই দুই থেকে তিন টন মাছ উৎপাদন সম্ভব। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ থেকে ৮ ল টাকা। এই মাছ চাষে উৎসাহ দিতে প্রশাসনের উদ্যোগে পরীামূলক ফার্মে এক একর এলাকা জুড়ে এই মিল্ক ফিশ চাষ শুরু হয়েছে। কী এই মিল্ক ফিশ? মূলত এই মাছের গায়ের রঙ দুধ সাদা। বিজ্ঞান সম্মত নাম চ্যাণস চ্যাণস। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের এই মাছ স্বাদে অনেকটা ইলিশের মতো। এক সময় স্থানীয় নদীতেই এদের দেখা পাওয়া যেত। প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে মিল্ক ফিশ। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এই মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে কেরল, তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় মিল্ক ফিশ চাষে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা এটা বাংলাদেশেও বানিজ্যিক চাষ হতে পারে। মিল্ক ফিশ ফিলিপাইনের জাতীয় মাছ। সাধারণত প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরে দেখা যায়। সর্বাধিক ১৫ বছর বাঁচে। সর্বোচ্চ ওজন ১৪ কেজি। লম্বা হয় এক থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত। মাছের আঁশ রুপালি রঙের, চকচকে। মিল্ক ফিশ সমুদ্রে পাওয়া গেলেও ডিম পাড়তে উপকূলের খাড়ি, নদীনালায় আসে ইলিশের মতই। ডিম পেড়ে তারা আবার চলে যায় সমুদ্রে। এরা মিষ্টি ও হালকা নোনা জলেও বেড়ে উঠতে পারে। চেন্নাইয়ে অবস্থিত সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব ব্রাকিস ওয়াটার অ্যাকোয়া কালচারের মৎস্য বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে মিল্ক ফিশের কৃত্রিম প্রজনন ঘটাতে সম হয়েছেন। ফলে মাছের পোনা ভবিষ্যতে সহজ লভ্য হবে। বিশেষ করে সমুদ্র উপকূল এলাকায় এই মাছ চাষ সফল হবে। পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে মিল্ক ফিশ ৫০০ গ্রাম ওজনের হয়। ৪০০ গ্রাম ওজন হলে এই মাছ খাওয়ার উপযোগী হয়। চেন্নাইয়ে অবস্থিত সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব ব্রাকিস ওয়াটার অ্যাকোয়া কালচারের মৎস্য বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে মিল্ক ফিশের কৃত্রিম প্রজনন ঘটাতে সম হয়েছেন। ফলে মাছের পোনা ভবিষ্যতে সহজলভ্য হবে। বিশেষ করে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় এই মাছের চাষ সফল হবে।
তালা থেকে কপোতাক্ষ নদে পড়ে যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ পাইকগাছার আগড়ঘাটায় উদ্ধার
কাজী লিয়াকত হোসেন,তালা : সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কপোতাক্ষ নদ পারাপারের সময় নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া রবিউল ইসলাম (৫০)-এর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। রোববার সকালে খুলনার...
বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় মোংলায় দোয়া অনুষ্ঠানে ড. লায়ন ফরিদুল ইসলাম— বিএনপি...
মোংলা প্রতিনিধি : মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব মো: জুলফিকার আলী বলেছেন, লায়ন ড. ফরিদুল ইসলাম বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয়...
নির্বাচনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চৌগাছায় পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ও চেকিং
চৌগাছা পৌর প্রতিনিধিঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরের চৌগাছা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তল্লাশি কার্যক্রম...
ঝিনাইদহে মাটি খুঁড়তে গিয়ে দুটি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড উদ্ধার
স্টাফ রিপোটার,কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বড় গড়িয়ালা গ্রামে বাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে অবিস্ফোরিত অবস্থায় দুইটি হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা...
যশোরে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
যশোর অফিস : যশোর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের...















