স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের মণিরামপুর উপজেলা এলাকার ভবদহের কারণে জলাবদ্ধ একটি বিলের পানি অপসারণ করে বোরো চাষের চেষ্টা করছেন কৃষকরা। গেলো একমাস ধরে হাজরাইল-ভোমরদহ বিলে দুই স্থানে ২২টি সেচ যন্ত্র বসিয়ে পানি সরানোর কাজ চলছে। কৃষকরা যৌথভাবে ব্যক্তি খরচে পাঁচ বছর ধরে এভাবে পানি সেচে বোরো চাষ করলেও সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাননি তারা। চলতি বছর বিলের ১ হাজার ১০০ বিঘা জমির পানি সরানোর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। সে েেত্র কৃষকদের বিঘা প্রতি দেড় হাজার থেকে ৩,১০০ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। কৃষকরা জানান, ভবদহের কারণে ২০ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে হাজরাইল-ভোমরদহ বিলে পানি জমে থাকছে। আগে পানি আপন গতিতে মুক্তেশ্বরী নদী দিয়ে সরে যেতো। আমন চাষ না হলেও বোরো চাষ করা যেতো। এখন মুক্তেশ্বরী নদীতে স্রোত থাকে না। নদীর পানির উচ্চতা বিলের চেয়ে বেশি হওয়ায় পানি সরে না। গত পাঁচ বছর ধরে আমাদের খরচে বিলের পানি সরিয়ে বোরো চাষ করতে হচ্ছে। কৃষি অফিসের কেউ কোনদিন আমাদের খোঁজ নেয় না। হাজরাইল-ভোমরদহ বিলের মাঝে শ্রীপুর নামে একটি খাল রয়েছে। এ খাল হয়ে বিলের পানি পাশের মুক্তেশ্বরী নদীতে পড়ে। সে পানি ভবদাহ হয়ে পার হতো। মুক্তেশ্বরী, টেকা ও শ্রীহরি নদীতে পলি জমায় এখন ভবদহের স্লুইসগেট দিয়ে পানি সরে না। ফলে উপজেলার কুলটিয়া ও হরিদাসকাটি ইউনিয়নের অধিকাংশ বাড়ি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি জমে এ অঞ্চলের বিলগুলোতে। বর্ষার শুরু থেকে শীত মৌসুমের মাঝামাঝি পানি জমে থাকায় এসব বিলে কোন ফসল হয়না। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের ফলে টানা বৃষ্টিতে এসব অঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার শীত পার হতে চললেও পানি এখনো নামেনি।
শ্রীপুর গ্রামের মনির হোসেন নামে একব্যক্তি হাজরাইল-ভোমরদহ বিলের কৃষকদের একত্রিত করে গেল পাঁচ বছর কেশবপুর অঞ্চল থেকে সেচ মেশিন ভাড়া করে এ বিলের পানি সরানোর কাজ করে চলেছেন। এ মৌসুমে ১ জানুয়ারি থেকে ২২ টি মেশিন বসিয়ে বিলের পানি সেচে মুক্তেশ্বরী নদীতে ফেলা শুরু করেছেন তিনি। দিনরাত অনবরত পানি সেচার কাজ চলছে। আরো ২০-২২ দিন সেচার পর বিলে ধান লাগানোর উপযোগী হবে, এমনটিই জানিয়েছেন কৃষকরা। পানি সেচ্কর্মী মেহেদী হাসান বলেন, হাজরাইল পয়েন্টে ১২ টি ও ভোমরদহ পয়েন্টে ১০ টি মেশিন লাগানো হয়েছে। প্রতিটি মেশিনের জন্য দিনে ৬০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। প্রতি মেশিনে দিনে ৩৫ লিটার তেল লাগে। ২০ জন শ্রমিক দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে এ কাজে নিয়োজিত। শ্রমিক শিকদার বলেন, হাজরাইল, ভোমরদহ, শ্রীপুর, সমসকাটি ও চান্দুয়া গ্রাম মিলে বিলে ১,১০০ বিঘা জমি রয়েছে। বিলের মাঝখানে নয় ফুট পানি ছিলো। অর্ধেকের বেশি পানি সরানো সম্ভব হয়েছে। আরো ২০/২২ দিন সেচ করতে হবে। তিনি আরো জানান, বোরো চাষের জন্য পানি সরানোর পাশাপাশি শ্রীপুর খালের পাড় বাঁধতে হচ্ছে। এ জন্য কৃষকদের কাছ থেকে মোট ৩,১০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। এ কাজে সরকারি কোনো সহায়তা আসে না। চান্দুয়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, একবিঘা জমিতে আমন ধান হয়নি। পানিবন্দি থাকায় লতাপাতায় খেত ভরে গেছে। এবার পানি সেচার জন্য দেড় হাজার টাকা দেয়া লাগবে। পানি প্রায় সরে গেছে। এখন খেত পরিস্কার করতেছি। তিনি আরো জানান, আগে পানি এমনিতে সরে যেতো। আমন না হলেও ইরি ধান লাগানো যেতো। এখন বিলের চেয়ে নদীতে পানি বেশি হওয়ায় পানি সরছে না। ৫-৬ বছর ধরে পানি সেচে ধান লাগাতি হচ্ছে। খরচ যা হয় তাতে লাভ নেই। একসাথে কয়ডা ধান আর বিচালি পাওয়া যায়। এজন্যি চাষ করি। মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, হরিদাসকাটি ও কুলটিয়া এলাকায় পানি এবার অনেক বেশি। জলাবদ্ধতার জন্য অন্যবার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো হতো না। পানি বেশি থাকায় এবার এসব অঞ্চলে বোরোর আবাদ আরো কমবে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপকে লিখে জানানো ছাড়া আমাদের কিছু করার নেই। পানি সরানোর জন্য আমরা কোন বরাদ্দ দিতে পারি না। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পরেশনের (বিএডিসি) সহকারী পরিচালক ও মণিরামপুর-কেশবপুর অঞ্চলের সেচ কমিটির সদস্য সচিব সোহেল রানা বলেন, হাজরাইল-ভোমরদহ বিলে পানি সেচার জন্য আমাদের কোনো সেচ যন্ত্র কাজ করছে না। পানি নিষ্কাশনে আমরা একটি প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছ। আবেদনটি কৃষি মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সেটা পাশ হলে এ বিলের কৃষকদের সহায়তা দেয়া যাবে।















