কালীগঞ্জে জমিজমা নিয়ে মামলা আদালতে চলমান: জোর করে গাছ কাটা

0
379

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ঃ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও একটি পক্ষ ঐ মামলাকৃত জমির গাছ জোরপূর্বক কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ত্রিলোচনঁপুর ইউনিয়নের বড় ঘিঘাটি গ্রামে। সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ঐ গ্রামের মৃত-শামসদ্দিন মল্লিকের ছেলে শাহাজান আলী ও স্ত্রী রাবেয়া খাতুনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির পাশের একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই জমি নিয়ে আদালতে মামলা করেন শাহাজাহান আলী। ঐ জমিতে অনেকগুলো গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে রাবেয়া খাতুনের লোকজন। এই জমিতে মামলা চলছে। মামলা চলমান অবস্থায় গাছ কাটার কারন জানতে চাইলে রাবেয়া খাতুন বলেন, আদালত থেকে আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন সেই কারনে আমরা জমির গাছ বিক্রয় করে দিয়েছি। রায়ের কপি দেখতে চাইলে তিনি বলেন আমার ছেলে ঢাকাতে চাকুরী করে তার কাছে এই রায়ের কপি আছে। এই বিষয়ে তার ছেলে আসাদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আশিক রায়ের কপি দেখেছেন। দেখার পর তিনি আমাদেরকে গাছ কাটাতে আর কোন সমস্যা হবে না বলে জানান। আসাদের কাছে রায়ের কপি চাইলে তিনি দেবেন বলে তিনদিন অতিবাহিত হলেও রায়ের কপি দেননি। এ বিষয়ে শাহাজাহান আলী জানান, সরকারি নথি অনুযায়ী বালিয়াডাঙ্গা মৌজায় ৯৯১ নং খতিয়ানে ৫৩ নং দাগে মোট জমির পরিমান ৫৯ শতক। এরমধ্যে ক্রয়সূত্রে ৩৫ শতক জমির মালিক আমি এবং আমার স্ত্রীর নাসিমা বেগম। আর বাকী ২৪ শতক জমি রাবেয়া খাতুনের। প্রায় ১৫ বছর আগে আমাদের ৩৫ শতক জমিতে নারকেল গাছ, কাঁঠাল, তেতুঁল, মেহগনিগাছ সহ বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ রোপন করি। এতো বছর পর সেই গাছগুলো রাবেয়া খাতুনের লোকজন জোরপূর্বক কেটে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এই জমিতে মামলায় আদালত থেকে তাদের পক্ষে রায় দিয়েছে তারা বলছে কিন্তু রায়ের কপি দেখাতে পারেনি। এই মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আশিক জানান, মামলায় আদালত থেকে রাবেয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন বলেই আমি গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছি। ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম রিতু জানান, আদালতে মামলা চলমান আছে তবে বিষয়টি নিয়ে বসাবসি করে সমাধানের সুযোগ থাকলে করা যেতে পারে। আগামী ১০ তারিখ ত্রিলোচানপুর ইউনিয়ন পরিষদে এ বিষয়ে বসাবসের কথা আছে আর কর্তনকৃত গাছ ইউনিয়ন পরিষদের হেফাজতে থাকবে থাকলে দুই পক্ষ বিবাদে জড়িয়ে না পড়ে সেই কারনে করা য়ায় এমনটি জানান ইউপি চেয়ারম্যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here