পিবিআই যশোরের ঝটিকা অভিযান আন্ত:জেলা প্রতারক ও ছিনতাইকারীচক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

0
388

স্টাফ রিপোর্টার : পিবিআই যশোরের একটি দল এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে আন্ত:জেলা প্রতারক ও ছিনতাইকারী চক্রেও ৩ সদস্যকে আটক করেছে। আটককৃতরা হচ্ছেন গোপালগঞ্জ জেলার সদও উপজেলার ঘুনসি গ্রামের মজিবর শেখের পুত্র তুষার শেখ,মুকসেদপুর থানার আকদিয়া গ্রামের হাসমত মল্লিকের ছেলে আসাদ মল্লিক ও মাদারীপুর জেলার শিচর থানার বৈকুন্ঠপুর গ্রামের আঃ কাদের মোল্যার ছেলে টুটুল মোল্যা। আটককৃতদের গতকাল যশোরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রে ৩য় এর আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবাবনবন্দি প্রদান করে। পওে আদালতে আটককৃত ৩ প্রতারক ও ছিনতাইকারীকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, এই আন্ত:জেলা প্রতারক ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা গত বছরের ১০ নভেম্বর ওষুধ কেনার জন্য চাচড়া ডালমিল এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী মিলন কান্তি ব্যাপারীর দোকানে আসে। কিছু টাকার ওষুধ নিয়ে তুষার শেখ মিলন কান্তিকে ১০০ সৌদি রিয়েলের একটি নোট দেয়। মিলন কান্তি ব্যাপারী সৌদি রিয়েল ভাঙিয়ে ওষুধের দাম নিতে অপারগতা প্রকাশ করে। ওই ১০০ রিয়েল মিলন কান্তির কাছে রেখে তুষার শেখ চলে যায়। পওে মিলন কান্তি তার এক বন্ধুর মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক যশোরের প্রধান শাখা থেকে ভাঙিয়ে ওষুধের দাম রেখে বাকী ২ হাজার টাকা তুষার শেখকে পর দিন ফিরিয়ে দেন। এ ভাবে মিলন কান্তি ব্যাপারীর সাথে তুষার শেখ সখ্যতা গড়ে তোলে। একদিন তুষার শেখ মিলন কান্তিকে জানান তার কাছে ওই রকম ৩৫০ টি ১০০ টাকার নোটের সৌদি রিয়েল রয়েছে । কিন্তু তিনি ওই সৌদি রিয়েল ভাঙাতে পারছেন না। মিলন কান্তির যদি কোন সুযোগ থাকে তাহলে ওই সৌদি রিয়েল গুলো ভাঙিয়ে দিলে তুষার তাকে কমিশন বাবদ একটা মোটা অংকের টাকা দিবে। বাদী সরল বিশ্বাসে বিবাদী তুষার শেখের কথা বিশ্বাস করে নেন। ওই কথা মতো গত ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় তুষার শেখ মোবাইল ফোনে তুষার কান্তি ব্যাপরীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে বলেন তার জরুরী টাকার প্রয়োজন। সে ২০ শতাংশ কমে হলেও ওই রিয়েল বিক্রি করে দিতে চায়। অফারের কথ শুনে মিলন কান্তি ব্যাপারী সরল বিশ্বাসে ওই রিয়েল কেনার জন্য রাজি হয়ে যায়। ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় তুষার শেখ মিলন কান্তি ব্যাপরীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে ফোন কওে তাকে ওই রিয়েল কেনার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা নিয়ে কোতয়ালী মডেল থানার জর্জ কোর্ট মোড়ের পশ্চিম পার্শ্বে মসজিদের গলিতে আসতে বলেন। মিলন কান্তি ব্যাপারী একটি সাইড ব্যাগে নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা নিয়ে রাত ৮টার দিকে উক্ত স্থানে পৌঁছালে
মিলন কান্তির সাথে অভিযুক্ত তুষার সহ আরো ২ জনসহ মোট ৩ ব্যক্তির সাথে দেখা হয়। অভিযুক্তরা মিলন কান্তি ব্যাপারী’কে কৌশলে কোর্ট মোড়স্থ মসজিদের দক্ষিন পাশের্^ একটি ফাঁকা গলিতে সৌদি রিয়াল ভাঙ্গানোর কথা বলে নিয়ে যায় এবং তাকে একটি ব্যাগ দেয়। মিলন কান্তি বেপারী অভিযুক্তদের দেওয়া ব্যাগটি ভারী দেখে তাদের জিজ্ঞেস করে ব্যাগ ভারী কেন ? সে সময় অভিযুক্ত তুষার মিলন কান্তি ব্যাপারী’র গলায় ধারালো ছুরি ধরে এবং টুটুল মোল্যা ও আসাদ মল্লিক দুই হাত চেপে ধরে। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা মিলন কান্তি ব্যাপারী’র হাতে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয় যায় । এ ঘটনায় মিলন কান্তি ব্যাপারী বাদী হয়ে যশোর কোতয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেন। এবং পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বরাবর একটি লিখিথ অভিযোগ করেন।
পিবিআই জানানয়, অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে অনুসন্ধানকালে বাদীর আনিত অভিযোগের সত্যতা পায় পিবিআই। তার প্রেক্ষিতে উক্ত মামলাটি রুজু হয় এবং পিবিআই, যশোর স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এসআই শরীফ এনামুল হক এর উপর অর্পণ করেন। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শরীফ এনামুল হক সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ যশোর জেলার আভিযানিক দল পুলিশি অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে অভিযুক্ত তুষার শেখ, আসাদ মল্লিক ও টুটুল মোল্যা’দেরকে যশোর কোতয়ালী থানাধীন জনৈক সুমন হোসেন এর বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে। তাদেরকে পর দিন ৯ ফেব্রুয়ারি যশোরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রে ৩য় আদালতের বিচারক মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম এরর আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামীরা ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। মামলার তদন্ত অব্যহত রয়েছে বলে জানান পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here