নিজস্ব প্রতিবেদক কুষ্টিয়াঃ কুষ্টিয়ার পান চাষিরা দুরদ্বিন ও হতাশায় পার করছেন প্রতিটা সময় তবে আবারো সুদিন আসবে বলে মনে করছেন জেলার পান চাষিরা। তবে সব মিলিয়ে ভালো নেই এই অঞ্চলের পান ব্যাবসায়ী সহ পান চাষিরা। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে পান রপ্তানি। স্থানীয় বাজারেই পান বিক্রি করতে হচ্ছে চাষিদের। তবে ক্রেতা না থাকায় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কুষ্টিয়ার পান চাষিরা। অনেকই ভেঙে ফেলছেন পানের বরজ। ফলে দিন দিন কমতে শুরু করেছে পান চাষ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশের পানে ক্ষতিকর সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির কারণে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ থেকে সাময়িকভাবে পান রপ্তানির ওপর ইইউ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ধাপে ধাপে এই নিষেধাজ্ঞা ২০২০ সাল পর্যন্ত বর্ধিত হয়।
এরপর ইইউ পান রপ্তানিতে কতিপয় শর্ত জুড়ে দেয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য শর্ত হচ্ছে পান সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া মুক্ত হতে হবে, উৎপাদন হতে শিপমেন্ট পর্যন্ত উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ), গুড হাইজিন প্র্যাকটিসেস (জিএইপপি), গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিসেস (জিএমপি) অনুসরণ করত হবে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অ্যাক্রিডিটেড ল্যাব হতে সালমোন্যালা ব্যাকটেরিয়া মুক্ত সার্টিফিকেট দিতে হবে। কিন্তু করোনা প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এখনো পান রপ্তানি বন্ধই রয়েছে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বিত্তিপাড়া বাজারে সপ্তাহের রবি ও বৃহস্পতিবার বসে সবচেয়ে বড় হাট। এখানকার হাটে দু বছর আগেও পন হিসেবে ৮০ পিচ পানে এক পন পান গুনে কৃষকের হাতে টাকা গুজে দিয়ে যেতেন দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। কিন্তু দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে বাংলাদেশের পানের বাজার বন্ধ হয়ে গেছে। একইভাবে করোনার কারণে দেশের অভ্যন্তরেও পানের চাহিদা ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় গত প্রায় এক-দেড় বছর ধরে পানের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে না। মিরপুর হাজরাহাটি গ্রামের পান চাষি মজনু সরদার বলেন, বাজারে পানের দাম প্রতিনিয়ত কমছে। আগে যেখানে এক পন পান বাজারে প্রকার ভেদে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বিক্রি হয়েছে এখন সেই পানের দাম কমে ৫০ থেকে ৭০-৮০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। আবার পান চাষের উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বছরই উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এ অবস্থায় লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছি না। অব্যাহত লোকসানের কারণে চরম হতাশ হয়ে অনেক পান চাষিই দীর্ঘদিনের পানের বরজ ভেঙে ফেলছেন। পান চাষিরা বলছেন, আগের মতো যদি পান বিদেশে রপ্তানি করা যায় তাহলে তারা হয়তো আবার লাভের মুখ দেখবেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বিগত বছরের চেয়ে জেলায় এ বছর পানের আবাদ কিছুটা কমেছে। কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায়ই কম বেশি পান চাষ হয়ে থাকে। তবে সবচেয় বেশি পান উৎপাদন হয় ভেড়ামারা উপজেলায়। এরপর সদর উপজেলায়। এবার ভেড়ামারা উপজেলায় ৭১৮ হেক্টর জমিতে এবং সদর উপজেলায় ৬০৫ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হয়েছে। কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামানিক কুষ্টিয়ার বাজারে বর্তমানে পানের দাম কিছুটা কম থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, মান ভালো হওয়ার কারণে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশেই কুষ্টিয়া জেলার পানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কাঁচামালের বাজার প্রতিনিয়ত ওঠানামা করে। এ জন্য কুষ্টিয়া কৃষকদের হতাশ হলে চলবে না। পান চাষ খুবই একটি লাভজনক আবাদ দাবি করে তিনি কৃষকদের হতাশ না হয়ে চাষ ধরে রেখে আরো কি ভাবে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠাযায় সেই কাজ করতে হবে।















