বাগেরহাট সদরের ৬৫টি ভুমিহীন পেতে যাচ্ছেন আপন ঠিকানা: দ্রুত এগিয়ে চলছে ভবন নির্মাণের কাজ

0
428

আসাদুজ্জামান শেখ, বাগেরহাট ব্যুরো : বাগেরহাট সদর উপজেলার খাঁনপুর ইউনিয়নের চুড়ামনি ও বিষ্ণুপুর কুলিয়াদাড় আশ্রায়ণ প্রকল্পের ৬৫টি ভুমিহীন পরিবার স্থায়ী ভাবে বসবাসের জন্য পেতে যাচ্ছেন আপন ঠিকানা। উপজেলা প্রশাসনের অকান্ত পরিশ্রম ও সঠিক তদারকির কারণে ভবন নির্মানের কাজ দ্রুতই এগিয়ে চলছে। আর একারণে অচিরেই বাস্তহারা পরিবার গুলি তাদের আপন নিড়ে উঠতে পারবেন। এধারা অব্যহত থাকলে দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলে গৃহহীন ও ভমিহীনদের সংখ্যা শূণ্যের কৌটায় পৌছাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার এ মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সকল উপকারভোগীরা তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।
জানা গেছে, মুজিবশর্তবর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ভুমিহীনদের আশ্রয়ের জন্য সারাদেশের ভুমিহীনদের মাঝে ০.৩শতক জমিসহ পাকাঘর নির্মাণ করে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহন করেন। যারই অংশ হিসাবে বাগেরহাট সদর উপজেলার খাঁনপুর ইউনিয়নের চুড়ামনি সরকারী খাস জমিতে ৫৩টি ভুমিহীন পরিবার ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদাড় আশ্রায়ণ প্রকল্প থাকার জন্য ১২টি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার সিধান্ত গ্রহন করেন। যার ৮০ভাগ কাজ এখন সমাপ্তের পথে। কাজ গুলি শেষ করা হলে অচিরেই ভুমিহীনদের হাতে ঘর সহ জমির দলিল ও চাবি তুলে দেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোছাব্বেরুল ইসলাম এর সার্বিক তদারকি ও পর্যাবেক্ষনে ভবনগুলি নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
অনুসন্ধ্যানে গিয়ে জানা গেছে,খাঁনপুর ইউনিয়নের মরা যৌখালী খালের ভরাট হওয়া চরে ৫৩টি ভুমিহীন পবিরবারকে স্থায়ী ভাবে বসবাসের জন্য পাকাঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। যা টেকসই ও উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরনে অনেকটা সহায়ক হবে। আশ্রায়ন প্রকল্পে ঘর পাওয়া মোঃ ওসমান গণির স্ত্রী ফিরোজা বেগম, জাহাংগীর হোসেন এর স্ত্রী নাসিমা বেগম, রজব আলীর স্ত্রী ডালিয়া বেগম, মরহুম হাশেম মোল্লার স্ত্রী আনজিরা বেগম বলেন, আমরা দীর্ঘকাল ধরে রোদ বুষ্টি ঝড়ে মরা খালের চরে ছোট্ট ছোট্ট কুড়ে ঘর বেঁধে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছিলাম। আমরা অতিবৃষ্টিতে ছোট্ট ছোট্ট সন্তানদের নিয়ে খালের চরে অবস্থিত কুড়ে ঘর গুলিতে মানবেতর জীবন যাপন করতাম। কিন্তু সেই দুঃখ দুর্দশা লাঘবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের জমি সহ ঘর দিচ্ছেন। এত আমরা খুব খুশি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যতা কামনা করছি। তারা আরো বলেন, আমরা ঘর পেলে সেই ঘরে থেকে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকের কাজ করে যা উপার্জন করবো, তাই দিয়ে সংসার চালাতে আমাদেরকে কোন কষ্ট হবে না। এতে আমরা আগের চেয়ে অনেক স্বাবলম্বি হবো।
খাঁনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির ফহম উদ্দিনের সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, চুড়ামনি আশ্রায়ণ প্রকল্পে মোট ৫৩টি ভুমিহীন পরিবারের জন্য ৫৩টি পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে আমরা ২৩জন ভুমিহীনকে যাচাই-বাছাই করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি তালিকা প্রনায়ন করেছি। এবং বাকি গুলি রাখালগাছি ইউনিয়ন থেকে তালিকা নিয়ে তাদেরকে আশ্রায়ন প্রকল্পে বসানো হবে। তিনি বলেন প্রতিটি ঘরের বিল্ডিং কনেষ্টাকশন এমন ভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে, যা টেকসই ও স্থায়ীত্ব দীর্ঘাস্থায়ী হবে। অপর দিকে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদাড় গ্রামে ১২টি ভুমিহীন পরিবারের জন্য অনুরুপ পাকাঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। যার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এখানের ৮০ভাগ কাজ প্রায় সমাপ্ত হয়েছে। বাকি কাজ গুলি অচিরেই শেষ করা হলে সরকারের নির্দ্দেশনা মোতাবেক ভুমিহীনদের মাঝে ঘরের চাবি ও স্বামী স্ত্রীর যৌথ নামে কবলাকৃত দলিল হস্তান্তর করা হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অঞ্জন কুমার কুন্ডু বলেন, মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবার-কে পুনঃবাসনের লক্ষে একক গৃহনির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার দু’টি ইউনিয়নে মোট ৬৫টি ভুমিহীন পরিবারকে ঘর দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য ঘর প্রতি সরকারের পক্ষ হতে ২লক্ষ ৪০হাজার টাকা এবং পরিবহন খরচ বাবদ অতিরিক্ত ১৯হাজার টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোছাব্বেরুল ইসলাম এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, আমরা খাঁনপুরের চুড়ামনি আশ্রায়ন প্রকল্পে ৫৩টি ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদাড় আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১২টি সহ মোট ৬৫টি গৃহহীন ও ভুমিহীন পরিবারের জন্য পাকাঘর নির্মাণ করছি। এই ঘরগুলি যাহাতে টেকসই হয়, সেই বিষয়টি মাথায় নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারের ইষ্টিমিট আনুযায়ী আমি নিজে উপস্থিত থেকে সর্বক্ষানিক দায়িত্ব নিয়ে ভবন নির্মানের কাজ গুলি দেখাশুনা করছি। এটির ৮০ভাগ কাজ এখন প্রায় শেষের পথে। বাকি কাজ গুলি অতিদ্রুত সমাপ্ত করা হবে। আর তখন ভুমিহীনদের মাঝে ঘর ও দলিল হস্তান্তর করা হবে বলেও তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here