বি এম ফারুক : যশোর সদরের দেয়াপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ন-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি স্কুলে চার কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চার কর্মচারি নিয়োগে করাকে কেন্দ্র করে এসব অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। আর সেই সাথে স্কুলটি তাদের পৈতিক সম্পদে পরিণত করেছে। স্কুলের সভাপতি আব্দুল মান্নান ও প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আপন ভাই। স্কুলের সম্পাদ লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন তারা দুই ভাই। তাদের হাত থেকে স্কুলটি রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৯ সাল থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহজাহান এবং সভাপতি হিসেবে তার আপন বড় ভাই আব্দুল মান্নান দায়িত্ব রয়েছেন। মাঝে গত বছর (২০২১) সালে ১৯ মে থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আহবায়ক কমিটি দায়িত্ব পালন করে। ১৩ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করাকে কেন্দ্র করে সভাপতি স্বৈরাচারি হয়ে উঠেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলের অগোচরে গত ২৪ ডিসেম্বর একটি দৈনিক পত্রিকায় চারজন কর্মচারি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়। ইতিমধ্যে চার কর্মচারি নিয়োগের চুড়ান্ত করেছেন তারা। অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদের জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহানের ছেলে নাঈম হাসানকে। অফিস সহায়ক পদের জন্য সভাপতি আব্দুল মান্নানের ফুফুতো ভাইয়ের ছেলে আজিজুর রহমান লিটনকে। পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে একরামুলকে এবং আয়া পদে নিয়োগের জন্য বেশ কয়েকজনের সাথে দর কষাকষি চলছে। ইতিমধ্যে আয়া পদের জন্য আট লাখ টাকা দর উঠেছে।
তবে নিয়োগ বাণিজ্যের কথা অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক শাহজাহান। তিনি বলেন, এখানে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। আর এটি দেখভাল করছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী ও মেহেদী হাসান মিন্টু।
সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আগে বিভিন্ন বিষয়ে সাতজন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। নিজস্ব লোক দিয়ে বিদ্যালয়ের চারটি গাছের টেন্ডার করিয়ে আটটি গাছ বিক্রি করে দিয়েছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের গাছ দিয়ে প্রধান শিক্ষক নিজের বাড়ির আসবাবপত্র বানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শাহজাহান বলেন, ওই সাত শিক্ষককে ১১ বছর আগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এলাকার দু’তিনটি ছেলে এ নিয়োগ করাকে কেন্দ্র করে এসব অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী আলতাফ হোসেনের নাম মাত্র নিয়োগ দিয়ে তার বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন প্রধান শিক্ষক শাহজাহান। বেতনের পুরো টাকাই শাহজাহান নিজে আত্মসাৎ করে চলেছেন।
নৈশ প্রহরীর বেতনভাতা উত্তোলনের কথা অস্বীকার করেন প্রধান শিক্ষক শাহজাহান।
সূত্র জানায়, শাহজাহান দেয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন। সভাপতি থাকাকালীন সময় প্রাইমারী স্কুলের একটি শিশু গাছ বিক্রি করে নিজে আত্মসাৎ করেন। যা এলাকার সকল মানুষ জানে।
প্রাইমারী স্কুলের গাছ বিক্রির টাকা আত্মসাৎ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক শাহজাহান বলেন, একটি স্কুলের সভাপতি সব কিছু না। স্কুলের শিক্ষকসহ আরো অনেক থাকে। তারাই সব কিছু করে। এককভাবে কিছুই করা যায় না। একটি মহল এসব বলে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
অভিযোগের ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, কে অভিযোগ করেছে। তাদের প্রমাণ দিতে বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনেকে অনেক কথা বলে তার কোন ভিত্তি আছে। কিছু সমাজচুত্য মানুষ রাতের আধারে এসব করে বেড়াচ্ছে।
স্কুলের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়োগ বাণিজ্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান মো. জাহাঙ্গীর হুসাইন মিয়া বলেন, কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত একটি তারিখ হয়েছে। তবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে সে সম্পর্কে কিছু জানা নেই।
Home
খুলনা বিভাগ দেয়াপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় চার কর্মচারি নিয়োগ নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে...














