যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার ত্রাস ইয়াসিন অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত

0
632

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর শহরের বেজপাড়া চোপদারপাড়ার সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান ইয়াসিন আরাফাত (২৮) কে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। গতকাল রাত সোয়া ৮টার দিকে চোপদারপাড়া রেললাইনের পাশে ব্রাদার্স কাবের মধ্যে ঢুকে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা এই হত্যাকান্ড সংঘটিত করে। ঘটনার সময় কাব ঘরে আরো কয়েকজনের সাথে ইয়াসিন তাস খেলছিল। পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা এই হত্যাকান্ড সংঘটিত করে বলে এলাকাবাসী জানায় । নিহত ইয়াসিন আরাফাত ছিল কোরআনের হাফেজ। সে এক সময় এলাকায় শিশু কিশোরদের পবিত্র কোনআন পড়াতো। কিন্তু সঙ্গদোষে মিশে ধীরে ধীরে সে জড়িয়ে পড়ে মাদকসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে। লাইন পাল্টে হয়ে ওঠে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান। সে শংকরপুর আকবরের মোড়ের মাওলানা মনিরুজ্জামানের মেঝ ছেলে। । নিহত ইয়াছিন ৫/৬ মাস আগে প্রতিবেশী মানুয়া মিয়ার মেয়ে নিশাকে বিয়ে করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে ৪/৫জন বডিগার্ডকে সাথে করে বাহিনী প্রধান ইয়াসিন বেজপাড়া চোপদারপাড়া রেললাইনের ধারে অবস্থিত ব্রাদার্স কাবে প্রবেশ করে। সে সময় কাব ঘরে আরো কয়েকজন তাস খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ইয়াসিন সেখানে উপস্থিত হয়ে তাস খেলতে বসে। এর প্রায় ১৫ মিনিট পড়ে মানকি টুপিতে মাথামন্ডল আবৃত করে ১০/১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি হাঁটতে হাঁটতে কাবের মধ্যে প্রবেশ করে। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাস হাতে খেলতে বসা ইয়াসিনকে লক্ষ্য করে এলাপাতাড়ী ছুরি চালাতে থাকে সন্ত্রাসীরা। ৩/৪ জন মিলে এলাপাতাড়ী কুপিয়ে ইয়াসিনকে মারাতœক জখম করে সন্ত্রাসীরা মুহুর্তে রেললাইনের দক্ষিণ পার্শ্ব দিয়ে হেটে এলাকা ত্যাগ করে। ঘটনার আকষ্মিকতায় ইয়াসিনের সাথে বসে যারা তাস খেলছিল তারা এবং তার বডিগার্ডের সদস্যরা হতভম্ব হয়ে পড়ে। কোন প্রকার প্রতিরোধ গড়ে তোলার আগেই সন্ত্রাসীরা ইয়াসিনকে কুপিয়ে মারাতœক জখম করে ফেলে রেখে চলে যায়। এক পর্যায়ে রক্তাক্ত ইয়াসিনকে উদ্ধার করে কাবের অপর সদস্যরা দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সালাউদ্দিন বাবু তাকে মৃত ঘোষনা করেন। চিকিৎিসক জানান, অতিরিক্ত রক্তরক্ষনের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে। এদিকে স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে আতœচিৎকার করতে করতে হাসপাতালে ছুটে যান তার স্ত্রী নিশা আক্তার। তিনি হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জানান, তার স্বামীকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার সাথে বেজপাড়ার কাপড় ব্যবসায়ী রোকনের ছেলে স্বর্ণকার রানা ও তার ভাই হাফিজ এবং আইয়ুবের ছেলে হাফিজসহ তাদের বাহিনীর ক্যাডাররা জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে এই স্বর্ণ রানা ও তার দলের ক্যাডাররা এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইয়াসিনকে হত্যা করার হুমকি দিয়ে আসছিল। বিশেষ করে এলাকার একদল উঠতি বয়সী মাস্তান যারা হেরোইন, গাঁজা, মদসহ বিভিন্ন প্রকারের নেশার সাথে জড়িত তারা ইয়াসিনকে হত্যার পরিকল্পনা করছিল। গতকাল রাতে ওই সন্ত্রাসীরাই আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত রানা হাফিজ, সুমনগংদের ফাঁসি চাই।
এদিকে হত্যাকান্ডের খবর শোনামাত্র যশোর কোতয়ালী পুলিশের একটি স্কোয়ার্ড ঘটনাস্থলে যায় এবং গোটা বেজপাড়া শংকরপুরে চিরুনী অভিযান শুরু করে। অপর একটি দল যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। যশোর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম বলেন, খুনিদের আটকে পুলিশের কম্বিং অপারেশন শুরু হয়েছে। তবে রাত ১০টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি বলে জানান ওসি তাজুল ইসলাম।
এদিকে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান ইয়াসিনকে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যার খবরে গোটা এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকার মুরব্বিদের অনেকেই বলেন, সন্ত্রাসীদের চুল পাকে না তা আরো একবার প্রমানিত হলো। মাওলানা মনিরুজ্জামানের ছেলে ইয়াছিন ছিল কোরআনের হাফেজ। ছোট কালে সে স্থানীয় শিশু কিশোরদের কোরআন পড়াতো। কিন্তু সঙ্গদোষে ইয়াসিন আরাফাত সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ীদের চক্রে মিশে যায়। দিনে দিনে সে হয়ে ওঠে এলাকার মানুষের কাছে মুর্তিমান আতঙ্ক। মাদকের কারবার থেকে শুরু করে চোরাকারবারী, নারী ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, খুন, ডাকাতিসহ এহেন কোন সমাজ ও রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ড ছিল না যার সাথে ইয়াছিন আরাফাত ও তার বাহিনীর ক্যাডাররা জড়িত ছিল না। সর্বশেষ তার নামে যশোর কোতয়ালী থানা ও চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে প্রায় ১ ডজন মামলা ছিল। যার মধ্যে হত্যা, ছিনতাই, মাদক চোরাচালানী, ধর্ষণ, ডাকাতি ও হত্যা মামলাই বেশি। এদিকে রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গেই ছিল। আজ সকালে লাশের সুরোতহাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here