মোংলা বন্দরের সহায়তায় এম্বুলেন্স পেলো বানিজ্যিক জাহাজে পন্য খালাস-বোঝাই কাজের শ্রমিকরা

0
383

মোংলা প্রতিনিধি: শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে বন্দরের পন্য খালাস-বোঝাইয়ের কাজে নিয়োজিত মোংলা বন্দরে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য চিকিৎসা সরঞ্জামাদীসহ অত্যাধুনিক এম্বুলেন্স প্রদান করলো মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রয়ারী) সকাল ১১ টায় বন্দর কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তরের সামনে প্রায় ৪২ লক্ষ টাকা ব্যায় টয়োটা হাইয়েস মডেলের এই এম্বুলেন্সের চাবি শ্রমিক প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করেন বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা। শ্রমিক কর্মচারীদের পক্ষে এম্বুলেন্সের চাবি গ্রহণ করেন মোংলা বন্দর শ্রমিক-কর্মচারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সেন্টু ও ষ্টিভিডরস এ্যাসোশিয়েসনের (মোংলা বন্দর বার্থ শিপ অপারেটর এ্যাসোসিয়েশন)’র নেতৃবৃন্দরা।
বন্দর সুত্রে জানায়, মোংলা সমুদ্র বন্দর সৃষ্টির পর শ্রমিকদের কল্যানে ডক শ্রমিক পরিচালনা বোর্ড গঠন করা হয় কিন্ত দেশী-বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীরা কর্মস্থলে আহত বা অসুস্থ্য হয়ে পরলে তাদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য তেমন কোন ব্যাবস্থা ছিল না। যার ফলে দেশী-বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজে কর্মরত অবস্থায় আহত হলে তাদেরকে জাহাজ থেকে উদ্ধার করে কিনারে এনে চিকিৎসা দেয়া হতো। বানিজ্যিক জাহাজ থেকে আহত এসকল শ্রমিকদের আনতেই সময় চলে যেতো প্রায় থেকে ৫ ঘন্টা। এর পরেও তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা বা ঢাকায় নেয়ার জন্য কোন এ্যাম্ভুলেন্স না থাকায় অনেক শ্রমিক পঙ্গুত্বসহ মৃত্যুবরণও করেছে অনেকে। তাই বন্দর কর্তৃপক্ষ ও মোংলা বন্দর বার্থ শিপ অপারেটর এ্যাসোসিয়েশনের কাছে এসকল শ্রমিকদের দীর্গদিনের দাবি ছিল শ্রমিক হাসপাতালে দুইটি এ্যাম্ভুলেন্স ও একটি ওয়াটর শিপ (নৌপথে রুগী পরিবহনের জন্য এ্যাম্ভুলেন্স বা জলযান) প্রদান করার। পরে শ্রমিকদের দাবির ফলে ডক শ্রমিক কল্যান হাসপাতাল নির্মান হলেও ছিলোনা কোন ভাল চিকিৎসা, রুগীদের খুলনায় বা ঢাকায় নেয়ার জন্য কোন এ্যাম্ভুলেন্স।
এছাড়াও ২০০৮ সালে ডক পরিচালনা বোর্ড বিলুপ্তি ঘোষনা হওয়ার পর এখানকার শ্রমিকদের চিকিৎসা সেবাও বন্ধ হয়ে যায়। তাই দীর্ঘদিন দাবির পর বন্দর কর্তৃপক্ষ, ষ্টিভিডরস এ্যাশোসিয়েশন ((মোংলা বন্দর বার্থ শিপ অপারেটর এ্যাসোসিয়েশন) ও শ্রমিক কর্মচারী সংঘ সম্মিলিত ভাবে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সেবার জন্য ২০২০ সালে ১৯ নভেম্বর শ্রমিক কল্যাণ হাসপাতালে নামের একটি হাসপাতাল চালু করে। এছাড়া এ হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জাহাজে কর্মরত অবস্থায় আহত শ্রমিকদের উন্নত চিকিৎসার জন্য এ্যাম্ভুলেন্স ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদীর প্রদানের ব্যাবস্থা করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এম্বুলেন্সটি হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার এন্ড মেরিন) কমডোর মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ তরফদার, সদস্য (প্রকৌশল এন্ড উন্নয়ন) মোঃ ইমতিয়াজ হোসেন, পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ শাহীনুর আলম, হারবার মাষ্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন ও বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগের উপ সচিব মোঃ মাকরুজ্জামানসহ মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।
মোংলা বন্দর শ্রমিক-কর্মচারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সেন্টু বলেন, মোংরা বন্দরে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কর্মচারী বন্দরের দেশী-বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজে পন্য খালাস-বোঝাইয়ের কাজে নিয়োজিত। কর্ম অবস্থায় তারা আহত বা অসুস্থ্য হয়ে পরলে শ্রমিকদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হয়না এবং সময় মতো জাহাজ থেকে দ্রুত কিনারে আনাও সম্ভব না হওয়ায় অনেক শ্রমিক গুরুতর হয়ে মুত্যুর কোলে ডলে পরে।
তাই বন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় শ্রমিক কল্যাণ হাসপাতালে এই এম্বুলেন্সটি যুক্ত হওয়ায় এখন থেকে বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদ-কর্মচারীদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের আরেকটি দাবী রয়েছে, সেটি হলো নদী পথে অসুস্থ শ্রমিক কর্মচারীদের নৌ-পথে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে রিভার শিপ প্রয়োজন। যেটি দেয়ার জন্য অনেকে আগেই কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত হয়ে আছে, সেই জলযানটিও যেন দ্রুত পাওয়া যায় সে জন্য বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে জোর দাবি জানায়।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, বন্দরে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের জন্য তাদের শ্রমিক কল্যান হাসপাতালে বৃহস্পতিবার একটি এম্বুলেন্স প্রদান করা হয়েছে। প্রায় ৪২ লাখ টাকা ব্যায় এ এম্বুলেন্সটি কিনে দেয়া হয়েছে। এছাড়া শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবী ও প্রয়োজনীয়তায় তাদের জন্য একটি রিভার শিপ দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের। কারণ শ্রমিক-কর্মচারীরাই অঅমাদের এ বন্দরের প্রাণ। তাদের জন্য সকল সময়ই আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগীতা দিয়ে আসছি, ভবিষ্যতেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে আমাদের পক্ষ থেকে বলে জানায় বন্দরের চেয়ারম্যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here