ঝিনাইদহে বাঁশ দিয়ে তৈরী হলো সেতুর রেলিং

0
328

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহে ভুটিয়ারগাতী এলাকায় বাঁশ দিয়ে তৈরী করা হয়েছে সেতুর রেলিং । অন্যদিকে চাকলাপাড়ার অন্য সেতুটির রেলিং ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে । অনেকদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের নজর না থাকায় এমন নাজুক অবস্থায় সেতু দুটির । এই সেতুর ওপর দিয়ে নিয়মিত চলাচল করছে বিভিন্ন দূরপাল্লা ও লোকাল বাস ও যানবাহন। এই সমস্যা সমাধাণে দ্রুত পদপে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন পথচারীরা। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, খুলনা হয়ে এসে ঝিনাইদহ থেকে কুষ্টিয়া হয়ে রাজশাহী বিভাগের যাওয়ার একমাত্র মহাসড়ক এটি। এ সড়কের ঝিনাইদহের চাকলাপাড়া এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতুর এক পাশের রেলিং দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে আছে। ভাঙা অংশে দুর্ঘটনা এড়াতে লাগানো হয়েছে বাঁশের রেলিং। এদিকে ঝিনাইদহ বাইপাস এলাকার ভুটিয়ারগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় একই নদীর ওপরে আরেকটি সেতুর রেলিংও দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে আছে। এমন নাজুক অবস্থায় সেতু দুটির ওপর দিয়ে দিন রাত চলাচল করছে দূরপাল্লা ও স্থানীয় রুটের সব ধরনের যানবাহন। তবুও গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ দুটি মেরামতে নেই সড়ক বিভাগের কোনো উদ্যোগ। শহরের চাকলাপাড়া এলাকার আমিনুল হক নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির রেলিং ভেঙে পড়ে আছে। এ সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও মেরামত করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, এক বছর আগে চাকলাপাড়া এলাকার এ সেতুতে সন্ধ্যার দিকে মোটরসাইকেল ও চাল বোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সে সময় ট্রাকটি সেতুর রেলিং ভেঙে নদীর মধ্যে পড়ে যায়। এর কিছুদিন পর থেকেই দুর্ঘটনা এড়াতে ভাঙা অংশে বাঁশ বেঁধে দেয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সেটি মেরামত করা হয়নি। ভুটিয়ারগাতী এলাকার সলিম উদ্দিন লস্কার বলেন, আমাদের এলাকার সেতুটির ফুটপাত ও এক সাইডের রেলিং দীর্ঘ দিন ধরে ভেঙে পড়ে আছে। এতে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন এক প্রকার ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সেতুতে রাতে আলোর ব্যবস্থা নেই। দেড় বছর আগে একটি ট্রাক রেলিংয়ে ধাক্কা দিয়ে ঝুলে থাকে। সে সময় থেকে এটি এ অবস্থায় পড়ে আছে। এ দুর্ঘটনার পর থেকে ছোটখাটো যানবাহন গেলেও সেতুটি প্রচণ্ড কাঁপে। এছাড়া এ সেতুর ওপর দিয়ে খুলনা বিভাগের সঙ্গে রাজশাহী বিভাগের সব ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এমনকি রাজধানী ঢাকা যেতেও সেতুটি ব্যবহার করা হয়। গড়াই পরিবহনের চালক উজ্জল বিশ্বাস বলেন, বাঁকযুক্ত পবহাটি সেতুটি পার হতে বেশ বেগ পেতে হয়। এখানে সেতুর সাইড ভাঙা। কোন কারণে একটু ভুল হলেই সেতুর সাইডে গাড়ি পড়লে নিশ্চিত বড় তির মুখোমুখি হবে। বেনাপোল বন্দর থেকে মালামাল নিয়ে রাজশাহী যাওয়ার পথে ট্রাক চালক আকাউল হক বলেন, নিয়মিতই বন্দর থেকে মালামাল নিয়ে রাজশাহীসহ অন্যান্য স্থানে যেতে হয়। যখন এই সেতুর ওপরে ট্রাক ওঠে তখন কাঁপতে থাকে। মনে হয় কখন যেন ভেঙে পড়ে। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, আমরা ঝিনাইদহের বেশ কিছু সেতুর রেলিং মেরামতের তালিকা তৈরি করেছি। এ তালিকার মধ্যে এ দুটি সেতু আছে কি না তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না। তবে দ্রুতই এ রেলিং ঠিক করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here