স্টাফ রিপোর্টার : : দেশদ্রোহী খালেক রাজাকার এবার ভাগ্নে ভ্যানচালকের জমি জবর দখল করে ঘিরে নিয়েছে। একইসাথে অভিযুক্তরা জমিতে থাকা ফলজ কাঁদিসহ কলাগাছ কেটে বহু টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে। যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউপির রুপদিয়ার এ ঘটনায় থানা আদালত পুলিশ ফাঁড়িজুড়ে হৈচৈ হচ্ছে। একদিকে জন প্রতিনিধি নিশ্চুপ অন্যদিকে নিজে দরিদ্র এখন প্রশাসনের দিকে তাকানো ছাড়া আর কোন উপায় নেই ভ্যানচালক আলাউদ্দীনের।
ঘটনার বিবরনে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশদ্রোহী রাজাকারের ভূমিকায় ছিলেন রুপদিয়ার রহমত উল্যাহের পুত্র আব্দুল খালেক। সেসময় যেমন ঘৃনিত কর্মে লিপ্ত ছিলেন এখনো তেমনি সমাজ বিরোধী কর্মকান্ডে ব্যস্ত। দুই দিন আগে সে প্রকাশ্যে দিবালোকে আপন ভাগ্নে ভ্যানচালক আলাউদ্দীনের পাঁচ শতক জমি বেড়া দিয়ে ঘিরে নিয়েছেন। তার মা খালেক রাজাকারের বোন। শুধু তাই নয়, বেড়া দেওয়ার সময় বাঁধা দেওয়ায় খালেক রাজাকার ও তার পুত্ররা ভাগ্নে আলাউদ্দীন ভ্যানচালক, তার ভাই ও পুত্রকে মারধোর করেছে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত থানা পর্যন্ত গড়িয়েছে। থানা পুলিশ মঙ্গলবার বিকালে অভিযোগকারী ও আসামিদের নোটিশ দিয়েছে। এস আই রফিক বিষয়টি তদন্ত করছেন। গ্রাম্য মাতব্বরদের একটি অংশও রহস্য জনক চুপ। এ বিষয়ে গ্রামবাসীর দাবি হয়তো খালেক রাজাকার অর্থের অবৈধ লেনদেন করেছেন কোন কোন মহলে।
ভ্যানচালক আলাউদ্দীনের পুত্র মনিরুল জানান, এর আগেও তার ক্রয়কৃত জমি খালেক রাজাকার জবর দখল করতে চেষ্টা করেছিল। তবে ৩/৪ বছর আগে তৎকালীন মেম্বর মনিরুল, হমায়ুনসহ গ্রামের মাতুব্বররা একটি মীমাংষা করে তাকে ৪২ ফুট চওড়া একটি জমি রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় ধার্য্য করে দিয়েছিল। দাগ চৌহদ্দি অনুসারে উত্তরে রফিকুল ও আলাউদ্দীন, দক্ষিনে রাস্তা, পূর্ব আঃ খালেক ও পশ্চিমে খালেকের অবস্থান ছিল। এখন খালেক রাজাকার লম্বা ১৪ ফুট একটি হাস্যকর জমি ভ্যানচালক আলাউদ্দীনকে দিতে চাচ্ছেন। আদতে জমিটি তাহলে আর আলাউদ্দীনের কোন কাজেই আসবে না। রুপদিয়ার মৃত ফটিক মোড়লের পুত্র দরিদ্র ভ্যান চালক আলাউদ্দীন (৫০) পাঁচ শতক জমি ক্রয় করেন প্রকাশ চন্দ্র বাগচির কাছ থেকে জেএলনং ৬৬ রুপদিয়া মৌজায় খতিয়ান নং ৮১৩ এর স্থলে হাল জরিপের বুজারত খতিয়ান নং ৪৭০ ডিপি ৬৬৯ নং দাগে। অতিকষ্টে পিতা-পুত্র সারা দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে টাকা জমিয়ে বসবাসের জন্য জমিটি ক্রয় করেন। কয়েক দিন ধরে জমিটি দখলে নিতে মরিয়া খালেক গং। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেন ভ্যানচালক আলাউদ্দীন। আর এ খবর পেয়েই শনিবার একই গ্রামের মৃত রহমত উল্লাহর পুত্র খালেক, খালেকের দুই পুত্র নাজমুল হোসেন ও ইমামসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা সকলের সামনেই জমিটি ঘিরে নেয়। ভ্যান চালক আলাউদ্দীন, তার ভাই দিনমজুর সাহাবুদ্দীন, পুত্র দিনমজুর মনিরুল (২৮) প্রথমে বাঁধা দেন। কিন্ত তাদের মারধোর করে খালেক গং ও তার দোসররা জমিটি ঘিরে ফেলে। গ্রামের সাহাবুদ্দীন, মশিয়ার রহমান, বাবলুসহ স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেও তাতে কর্নপাত করেনি জবর দখলকারীরা।
এদিকে একমাত্র সম্বল হাতছাড়া হওয়ায় বিপদের শেষ নেই ভ্যানচালক আলাউদ্দীনের পরিবারের সদস্যদের। তারা পথে পথে ঘুরে জমি থেকে বেড়া তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। রোববার তারা থানা ও আদালতে শুধুই ঘুরে উকিল মোক্তারের কাছে তাদের অসহায়ত্ব ব্যক্ত করেছেন। ভ্যান চালক আলাউদ্দীন জানান, থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে একথা জেনে সকলের চোখের সামনে খালেক গং অন্যের ক্রয়কৃত সঠিক জমি ক্রয় করে এখন বাড়াবাড়ি না করতে আলাউদ্দীন ও তার পুত্র, ভাইদের হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। আসামিরা জমিতে থাকা সকল কলাগাছ কেটে সাবাড় করেছে। অথচ কাঁদিসহ কলা উঠাতে আর মাত্র বাকি কয়েকদিন। এমন সময় কলাগাছ কেঁেট আসামিরা তাদের চরম আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। রুপদিয়ার সমাজসেবী বাবলু মিয়া জানান, আলাউদ্দীনের ক্রয়কৃত জমি সকলের চোখের সামনেই বেড়া দিয়ে ঘিরে দখল করে নিয়েছে খালেক রাজাকার ও তার পুত্ররা। গ্রামের কয়েকজন সুধীজন নিষেধ করলেও তা থোড়াই কেয়ার করে আইন ভঙ্গ করেছে। এখন প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া পরিবারটির আর করনীয় কি হতে পারে তা আমরা বুঝতে পারছিনা। কিভাবে একজন রাজাকার এখনো এতটা বেপরোয়া হতে পারে তা আমাদের বোধগম্য হয়না।














