চুকনগর গণহত্যা বিচারের বাণী নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

0
249

গাজী আব্দুল কুদ্দুস,ডুমুরিয়া : বিচারের বাণী নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ডুমুরিয়ার এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। স্বাধীনতার ৫১ বছর অতিবাহিত হলেও পিতা হত্যার আজও কোন বিচার পায়নি এ পরিবারটি। বরং সেই সব রাজাকার,যুদ্ধাপরাধী,নরহত্যাকারী ও লুটেরাজরা এখনো বেশ দাপটের সাথে স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করছে। অথচ এ পরিবারটি পিতা হত্যার বিচার না পেয়ে বিবেকের দংশনে তিলে তিলে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। মামলা করেও আজও কোন বিচার পায়নি এ পরিবারটি।
প্রাপ্ত মামলার বিবরণে জানাযায় ১৯৭১ সালে সিরাজ উদ্দিন শেখ এ অঞ্চলে মুক্তি ফৌজের ট্রেনিং রত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে এ এলাকার মানুষের সুখ দুঃখের সাথী হতেন। তিনি আবাল বৃন্ধ বনিতা সকলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত করতেন। দেশকে স্বাধীন করার জন্য সর্বদা জন সাধারণকে সাহস ও শক্তি যোগাতেন। আর এটাই ছিল তার অপরাধ। এ কারণে রাজাকার,যুদ্ধাপরাধী,নরহত্যাকারী ও লুটেরাজদের রোষানলে পড়েন সিরাজ উদ্দিন। মামলায় যে ৫জনের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন নরনিয়া গ্রামের মৃত ওহেদ আলী সরদারের পুত্র আবুল কাসেম সরদার,মালতিয়া গ্রামের মৃত শুকুর আলী গাজীর পুুত্র লুৎফার রহমান গাজী,নরনিয়া গ্রামের মৃত তয়েজ মোড়লের পুত্র মোঃ আবু মোড়ল,একই গ্রামের মৃত ছফর মোড়লের শাহাদাৎ হোসেন মোড়ল এবং রোস্তমপুর গ্রামের মৃত মুনছুর সরদারের পুত্র আব্দুর রশিদ সরদারর। তারা লুৎফার রহমান গাজীর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে সিরাজের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মালতিয়া কাশিনাথের চালের মিলের চাতাল বর্তমানে ভিআইপি ফিলিং স্টেশনের দনি পাশে খুলনা সাতীরা মহাসড়কের পূর্ব পাশে সংযুক্ত দুটি তাল গাছের সাথে হাত,পা,মুখ বেঁধে লাঠি ও বন্দুকের বাট দিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে গুরুত্বর জখম করে। এতে সিরাজের মূত্যু না হলে প্রথমে আবুল কাশেম ডান কানে গুলি করে। এতেও তার মূত্যু না হলে লুৎফার গাজী ক্রোধের বশে মাজায় ও পেটে এক নাগাড়ে গুলি করতে থাকলে গুলি করা অবস্থায় সিরাজ শেখ মূত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তখন উপরোল্লেখিত ব্যক্তিরা তার নিশ্চিত মৃত্যু জেনে পাকিস্থান জিন্দাবাদ বলতে বলতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে উত্তর দিকে চুকনগর বাজার সংলগ্ন পাকিস্থানী ক্যাম্পে চলে যায় । এ সংবাদ তখন মালতিয়া গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত সিরাজ শেখের স্ত্রী হামিদা বেগম,৩পুত্র আব্দুল জলিল শেখ,খলিল শেখ,আব্দুর রশিদ শেখ,২কন্যা বেবী বেগম ও মারুফা বেগমের কাঁন্নার শব্দে আকাশ বাতাস সেদিন ভারী হয়ে গিয়েছিল। নিহত সিরাজের ৩পুত্র সেদিন ছিল নাবালক। তাই তাদের কান্নার দৃশ্য দেখে এলাকার কিছু হৃদয়বান মানুষের মন কেঁদে উঠলে তারা সকল ভয় উপো করে তার লাশ বাড়িতে নিয়ে দাফনকার্য সম্পন্ন করেন। সেদিন নিহত সিরাজের পুত্ররা নাবালক থাকায় ২০১০ সালে তার বড় পুত্র আব্দুল জলিল শেখ বাদী হয়ে খুলনা চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত রির্পোটে তাদের ৫জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে একটি প্রতিবেদন পেশ করা হয়। কিন্তু আজ দীর্ঘ ১১বছর অতিবাহিত হলেও এ মামলার কোন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়নি। অথচ সেই কুখ্যাত লুৎফার রাজাকারা ১৯৭১সাল থেকে শুরু করে আজও পর্যন্ত মানুষের সম্পদ লুটে খাচ্ছে। গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। এখনো পর্যন্ত তাদের সম্পর্কে কেউ কিছু বললে তার জীবনে নেমে আসে ৭১সালের মত সেই নির্মম নির্যাতন। যদি কেউ তাদের নিয়ে কোন ধরণের মন্তব্য করে তাহলে তার নামে যে কোন উপায়ে মামলা দিয়ে তাকে রাস্তার ফকির বানিয়ে ছাড়েন। তাই এ এলাকার গণ মানুষের প্রাণের দাবি যতদ্রæত সম্ভব কুখ্যাত লুৎফার রাজাকার সহ সকল রাজাকারদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কমুক্ত করা হোক। এ ব্যাপারে গনহত্যা ৭১স্মৃতিরা পরিষদের সভাপতি অধ্য এবিএম শফিকুল ইসলাম বলেন,মুক্তিযুদ্ধের সরকার মতায় তাই রাজাকারদের মা নাই। ইতো মধ্যে এ সরকার ৫/৬জন রাজাকারকে ফাঁসি দিয়ে মূত্যুদন্ড কার্যকর করেছে। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। তাই সরকারের প্রতি আমার দাবি বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত যত রাজাকার আছে তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কমুক্ত করা হোক। এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলাম মানিক বলেন,আমরা ডুমুরিয়া উপজেলায় রাজাকারদের তালিকা তৈরি করেছি। যা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে লুৎফার রাজাকারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বেশ রশিকতার সাথে বলেন, আমি কোন মানুষ ঠানুষ মারিরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here