ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: বিশ্ব বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় মালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মণিরামপুরসহ দেশে সর্বস্তরে মালের দাম বৃদ্ধির কারণে হত-দরিদ্র মানুষেরে ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের টিসিবি কার্ডের মাধ্যমে প্রথম ধাপে সয়াবিন তেল ২লিটার, চিনি ২ কেজি ও মুসরি ডাল ২ কেজি মোট ৪৬০ টাকায় দামে বিক্রি করার জন্য ওয়ার্ডে হত-দরিদ্রদের চিিহ্নত করে কার্ডের আওতায় আনা জন্য নির্দেশ দেওয়া থাকলেও মণিরামপুর উপজেলার ৪নং ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আইযুব আলী গাজী স্বজন প্রীতির মাধ্যমে ইউনিয়নের ১২৮৯ টি টিসিবি কার্ড বিতরণ করেছে। যে কারণে আসহয় গরীব লোকজন বাদ পড়েছে টিসিবি কার্ডের তালিকা থেকে। আর স্থান পেয়েছে শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও ধনি লোকের নাম। ঢাকুরিয়ায় প্রথম ধাপে টিসিবির মাল বিতরণ করেন ২০র্মাচ। দ্বিতীয় ধাপে টিসিবির মাল বিতরণ করেণ ৬ এপ্রিল সয়াবিন তেল ২লিটার, চিনি ২ কেজি, মুসুরি ডাল ২ কেজি ও সোলা ২ কেজি মোট ৫৬০ টাকা দামে বিক্রি করেণ ডিলারা। যারা টিসিবি কার্ডের তালিকায় নাম আছে। তাদের বাড়ি ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার দেওয়া আছে। কিন্তু মেম্বর ও চেয়ারম্যানদের রশিটানাটানির কারণে অর্ধশত লোকজন মাল তুলতে পারেনি। গোপনে টিসিবির মাল বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জয়পুর গ্রামের মোন্তাজ হোসেন জানায়, প্রথম ধাপে টিসিবির মাল বিতরণ করা হবে খবরটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পেয়ে একটি মুরগি বিক্রি করে ৪৬০ টাকা দিয়ে কিনে ছিলাম। পরের ধাপে টিসিবির মাল বিতরণ করা হবে সে খবর আমাকে কেউ দেয়নি বলে অনেকেই ক্ষোভের সাথে জানায়। সবচে মজার বিষয় হলো, আইযুব আলী গাজী আ’লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রাথী আনারস প্রতীক নিয়ে ইউনিয়নে কিছু নয়া আ’লীগ সাথে নিয়ে জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের মটিমিশন করে নৌকার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে বিজয়ী হয়ে আ’লীগ নেতা কর্মীরা কোলঠাষা হয়ে পড়েছে। যে কারণে ইউনিয়ন আ’লীগ, যুবলীগদের বাদ দিয়ে তার নির্বাচনী জামায়াত ও বিএনপি নেতা কর্মীদের টিসিবির কার্ড ভাগ করে দিয়ে তালিকা তৈরি করেছে। টিসিবির মাল বিতরণ সময় সাংবাদিক মোন্তাজ আলীর সাথে দেখা হয় ঢাকুরিয়া গ্রামের যুবদল নেতা জালালের সাথে। তার হাতে দেখি টিসিবির কার্ড। প্রশ্ন করা হলে জালাল বলে ভাই চেযারম্যানের নির্বাচন করে ছিলাম। সে কারণে চেয়ারম্যান আমাকে ডেকে বল্লো জালাল তুমি ৫টি টিসিবির কার্ডের তালিকা নাম দিবা। তাই আমি একটি নিয়েছি, আর ৪ বন্ধুদের চারটি দিয়েছি। জালালের ঢাকুরিযা বাজারে ৩টি ফাট বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাড়া দেওয়া আছে। ইউনিয়ন পরিষদে ৯জন পুরুষ মেম্বর ও ৩ জন সংরক্ষিত মহিলা মোট ১২ জন মেম্বর। তাদের মাঝে টিসিবির কার্ড বিতরণ করেছে ৬০০ মত। আর বাকি টিসিবির ৬৮৯টি কার্ড বিতরণ করেছেন চেয়ারম্যান তার নির্বাচনী ক্যাডারদের মাধ্যমে। যে কারণে শেখ হাসিনার পরিকল্পনা ঢাকুরিয়ায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ঢাকুরিয়া স্বজন প্রীতির মাধ্যমে তালিকা তৈরি করে দু’ধাপে মাল বিতরণ করা হয়েছে। ইউপি সদস্য নাছির উদ্দিন জানায়, টিসিবির মাল বিতরন করার শেষে ৬০জন মাল নিতে আসেনি। চেয়ারম্যান ১ মেম্বরদের ৩টি করে ৩৬টি ভাগ করে দেয়। আর বাকি সব চেয়ারম্যান তুলে নেয়। ঢাকুরিয়া ২নং ওযার্ডের মেম্বর বিলাল হোসেন জানায়, পরিষদের চেয়ারম্যান আমাকে ২৭ টিসিবির কার্ড দিয়ে তালিকা করতে বলে। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় স্বাক্ষর করতে গিয়ে দেখি ১৬৬ জনের নামে আমার স্বাক্ষর করতে হলো। ৭ নং ওযার্ডের মেম্বর শরিফুল ইসলাম জানায়, আমাকে ৩৮ টি টিসিবির তালিকা করতে বলে। চুড়ন্ত তালিকায় ১২০ জনের স্বাক্ষর করতে হলো। ইউপি মেম্বর আবু কালাম, হুমায়ন কবির, ফসিয়ার রহমান ও সাথী খাতুন ক্ষোভের সাথে বলেন, আমরা নির্বাচিত মেম্বর চেয়ারম্যান যদি অন্য লোক দিয়ে তালিকা করে তাহলে আমাদের আর পরিষদে আসার দরকার কি ? সব কাজ এবার থেকে চেয়ারম্যান করে নিকগে। ঢাকুরিয়া গ্রামের আব্দুল লতিফ ও তার স্ত্রী শাহানুর, জয়পুর গ্রামের ভ্যান চালক রবিউল, আজিজুর, দিন মুজুরী স্বামী পরিত্যক্তা সালেহা খাতুনের নাম টিসিবির তালিকায় আসেনি। বিষয়গুলো নিয়ে জয়পুর গ্রামের আ’লীগ নেতা আব্দুর সালাম গাজী, জিয়া, রিজভী, আব্দুর রাজ্জাকসহ ৭/৮ জন লোকজন মঙ্গলবার বিকালে চেয়ারম্যানের অফিসে যায় টিসিবির মালের তালিকা অনিযমের কথা বলতে। কিন্তু কথা বলার মধ্যে চেযারম্যান ওদের বলে আমি দূর্গপদ চেয়ারম্যান না আমি আইযুব আলী গাজী। একথা শুনে তারা মন খারাপ করে অফিস থেকে বের হয়ে চলে আসে। ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান এরশাদ আলী সরদার জানান, টিসিবির কার্ড সর্ম্পকে চেয়ারম্যান আমাকে কিছু বলিনি। চেয়ারম্যান জামায়াত ও বিএনপি নেতা কর্মীরা নির্বাচন করেছিল। তাদের মাধ্যমে টিসিবির কার্ডের তালিকা করে মাল বিতরণ করেছে। যে কারণে সাধারণ অসহয় মানুষ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। আর ধনীদের নাম তালিকায় চলে এসেছে। আমরা ক্ষমতায় থাকার পরও আসহয় মানুষের জন্য কিছু করতে পারলাম না। ইউনিয়ন আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক জিএম মঞ্জুরুল হাসান সাজ্জাদ জানান, চেয়ারম্যান আ’লীগের সাথে কোন পরামর্শ না করে তার লোকজনের মাধ্যমে অনিয়ম ভাবে তালিকা তৈরি করে মাল বিতরণ করেছে। তাতে অসহয় লোকজনের নাম বাদ পড়েছে অনেক। ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি জয়ন্ত বসু জানান, ইউনিয়ন যুবলীগ সব সময় আ’লীগের পক্ষে থাকার কারণে বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনিয়নে কোন কার্যক্রমে ডাকে না। এবার টিসিবির কার্ডের তালিকা চেয়ারম্যান দ্বায়িত্ব দিয়ে ছিল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে। তাদের লোকজনের মাঝে টিসিবির তালিকা তৈরি করে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আইযুব আলী গাজী জানান, আমি আ’লীগ নেতা কর্মীদের মাধ্যমে টিসিবির কার্ডের তালিকা করে মাল সঠিক ভাবে বিতরণ করেছি।
যশোর-৩ আসনে জুয়েলের মনোনপত্র জমা নেওয়ার নির্দেশ এনসিপি প্রার্থীর
যশোর অফিস : যশোর-৩ (সদর) আসনে এসসিপির প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ জুয়েলের মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি...
মণিরামপুরে রানা প্রতাপ হত্যা মামলায় সাদ্দাম আটক
যশোর অফিস : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে চরমপন্থী নেতা রানা প্রতাপ হত্যা মামলার সন্দিগ্ধ আসামি সাদ্দাম মন্ডলকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। বুধবার রাতে...
মোংলায় পাওনা টাকা চাওয়ায় নারীকে কুপিয়ে যখম
মাসুদ রানা,মোংলা : বাগেরহাটের মোংলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে লাইলী বেগম (৫৫) নামে এক নারীকে কুপিয় মারাত্মক যখম করেছে শেখ রাজু মোল্লা নামে...
নওয়াপাড়ায় বিদ্যুতের তার চোরচক্র সক্রিয়, উদ্বেগে পৌরবাসী
মিঠুন দত্ত: অভয়নগর উপজেলার পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি বিদ্যুতের তার চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌর এলাকার সাধারণ...
জামায়াত প্রার্থী সর্বাত্মক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানালেন
স্টাফ রিপোটার,কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহ-৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনিত প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ঝিনাইদহ সড়কের...















