ভোমরায় রাজস্ব ফাঁকির হোতা ও চাঁদাবাজ জাকিরের খুটির জোর কোথায় ?

0
270

মোতালেব সরদার,ভোমরা প্রতিনিধি: ভোমরা গ্রামের মিয়ারাজ গাজির ছেলে মোঃ জাকির হোসেন(৩২) ভাড়া মটরসাইকেল চালক এবং ভোমরা পেশাজীবি মটরসাইকেল চালক সমিতির সভাপতি। কাষ্টমস পাসপোর্ট যাত্রীর ল্যাগেজ শাখার গেটের পাশে মটর সাইকেল সমিতি ও গ্যারেজকে পুজি করে জাকির রমরমাভাবে চালিয়ে যাচ্ছে ল্যাগেজ পার্টির বাণিজ্য, সরকারী রাজস্ব ফাঁকির বানিজ্য। ভারত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রী ল্যাগেজ পার্টির কাস্টমসের ব্যাগেজ শাখার ভিতর না নিয়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা চুক্তি করে সে তার সমিতির মটর সাইকেল চালকদের মাধ্যমে ল্যাগেজ পার্টির গন্তব্যস্থানে পৌঁছে দেবে। ঐ ল্যাগেজ পার্টির মালামাল ভারত থেকে আসা বেনারশী শাড়ি, দামী থ্রিপিস, গরম কাপড়, শাট, গেঞ্জি, কাশ্মীরের শাল, প্রসাধনী, কসমেটিক্স, বেটসিট, ঔষধ, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, জুতা, গুড়ো দুধ সামগ্রী ও বিভিন্ন প্রকার পণ্য, ব্যাগ ভর্তি করে নিয়ে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশনে প্রবেশ করে। ইমিগ্রেশনের পাসপোর্ট এন্ট্রি করার পর এই ল্যাগেজ পার্টি যাত্রীর কাস্টমস অফিসে যাওয়ার কথা থাকলেও পাসপোর্ট ল্যাগেজ পার্টি যাত্রী ইমিগ্রেশন থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে ওত পেতে থাকা রাজস্ব ফাঁকির হোতা চাঁদাবাজ দালাল জাকির যাত্রীদের নিয়ে আসে তাদের গ্যারেজে। গ্যারেজে নিয়ে এসে যাত্রীদের উঠায় দেয় মটর সাইকেলে। মটর সাইকেল চালক গাড়ি টান দিয়ে কুলিয়া আশুমার্কেট রোডে নিয়ে চলে যায় সাতক্ষীরা, কালিগঞ্জসহ বিভিন্ন থানা বা জেলায়। প্রতিদিন জাকিরের ল্যাগেজ পার্টি ভারত থেকে আসে ১৫ থেকে ২০ জন। জাকির প্রতিটি ল্যাগেজ পার্টির কাছ থেকে বিভিন্ন প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে নিচ্ছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। একজন যাত্রী যদি কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা দেয় জাকিরকে তাহলে ঐ যাত্রীর কাছে যে মালামাল আছে তার রাজস্ব আসে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এভাবে প্রতিবছর সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এই কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির হোতা জাকির স্থানীয় রাজনীতির নেতার ছত্রছায়ায় থাকে। সে রাজস্ব ফাঁকিতেও ক্ষ্যন্ত নয়। ভারত থেকে আসা যাওয়া পাসপোর্ট যাত্রীদের কাছ থেকে মালামাল চেক করে আটশত থেকে একহাজার টাকা নেয়। যারা টাকা না দেয় তাদের বিভিন্ন প্রশাসন দিয়ে হেনস্তা করে। জাকিরের নামে একাধিক মাদকের মামলা আছে। প্রতিনিয়ত পাসপোর্ট যাত্রী এই চাঁদাবাজ দালালের হাতে হয়রানির শিকার হচ্ছে। সে কিছু সরকারী অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনীতিবীদ নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে প্রভাব বিস্তার করে চালিয়ে যাচ্ছে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি, চাঁদাবাজি, দালালী বানিজ্য। জাকিরের চলাফেরায় সাধারন যাত্রীদের সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে টাকা আদায় এবং সে বলে এই টাকা আমি একা খাইনা, সবাইকে দিয়ে খাই। আমার কেউ কিছুই করতে পারবে না। আমার হাত অনেক লম্বা, আমি চাইলে অনেক কিছুই করতে পারি। আমার পিছে যে লাগবে আমি তার গুষ্টি উদ্ধার করে ছেড়ে দেব। আমার পিছে কেউ লাগতে এসেও পারবে না। আমি সবকিছুই ম্যানেজ করে চলি। কাষ্টমস মোড়ে জাকিরের অত্যাচারে সাধারন ভ্যান, ইজিবাইক, মাহিন্দ্র, লেগুনাচালকগুলো অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। আর যদি বাইরের কোনো ভ্যান, ইজিবাইক, প্রাইভেটকারে পাসপোর্ট যাত্রী নিয়ে এসে কাষ্টমসের গেটের সামনে একটু দাড়ায় তাকে সে মারমুখী হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলে তোকে যেনো এই এলাকায় না দেখি, সোজা চলে যা। যদি এখান থেকে ভাড়া নিয়ে যাস তাহলে ভাড়ার ৪ ভাগের একভাগ দিয়ে যেতে হবে। এভাবে গাড়ির থেকেও সে চাঁদা নেয়। চাঁদাবাজীর হাত থেকে কেউ তার কাছ থেকে রেহাই পায়না। সরকারী রাজস্ব ফাঁকি, পাসপোর্ট যাত্রীদের অহেতুক হয়রানী, চাঁদাবাজী, দালাল, একাধিক মাদক মামলার আসামী জাকির কাউকে তোয়াক্কা না করেই রমরমাভাবে চালিয়ে যাচ্ছে তার এসব দূর্ণীতি কার্যক্রম। এই দূর্ণীতিবাজ জাকিরের খুটির জোর কোথায়। এভাবে চলতে থাকলে সে খুব তাড়াতাড়ি এরশাদ শিকদারের মত ভয়াবহ মানুষে পরিণত হবে। সে টাকার জন্য পারেনা এমন কোনো কাজ নেই। এ মুহূর্তে ভারত-বাংলাদেশের পাসপোর্ট যাত্রীদের অহেতুক হয়রানী, অসদাচারন বন্ধ না হলে পাসপোর্ট যাত্রীর গমনাগমন কমে যাবে এবং সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব অর্জন থেকে বঞ্চিত হবে। এ বিষয় কাষ্টমস সহকারী কমিশনার এবং প্রশাসনিক উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করা হলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here