ঈদের আগে আরেক দফা বাড়ল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সয়াবিন তেল লিটারে বাড়লো ২০ টাকা

0
300

মিঠুন দত্ত: যশোরের অভয়নগরে ঈদের আগে আরেক দফা বাড়ল নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম। খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন,পাম অয়েল, মসুর ডাল, ময়দা থেকে শুরু করে পেঁয়াজ, রসুন ও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সয়াবিন ও পাম অয়েলের। ঈদের মাত্র কয়েক দিন আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে সাধারন মানুষ। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ।
সয়াবিন তেলের দাম নিয়ে বেশ কিছু দিন আগে বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করেছিল। পরর্বতী সময়ে সরকারের প থেকে বিভিন্ন পদপে নেওয়ার পরে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আছে। সর্বশেষ ঈদকে সামনে রেখে আবারও তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সয়াবিনসহ সব ধরনের ভোজ্য তেলের দাম লিটারে ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে সয়াবিন তেলের ১ লিটারের বোতল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল শুক্রবার বিভিন্ন বাজারে ২০০টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ক্রেতাদের অভিযোগ প্রতি লিটার তেলের দাম ২০ টাকা বেশি রাখছেন। আর বাজারে বোতলজাত সোয়াবিন তেলের দেখা মিলছেনা। গতকাল বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে খোলা তেল মিললেও বোতলের দেখা নেই। কারণ জানতে দোকানীদের কথা কোম্পানি বোতলজাত তেল দিচ্ছে না। তেল কিনতে আসা মাসুম বলেন,কয়েক দোকান ঘুরে বোতলজাত সোয়াবিন পায়নিভ । খোলা ১লিটার সয়াবিন তেল পেয়েছি,দাম রেখেছে ২০০ টাকা। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ চাহিদার অনুযায়ী ভোজ্য তেলের অর্ডার করলে কোম্পানিকে দিচ্ছে তার চার ভাগের এক ভাগ। তেল বিক্রেতা রফিকুল বলেন, সপ্তাহে ২০০ লিটার ভোজ্য তেলের অর্ডার দেওয়া হয়। কিন্তু কোম্পানি থেকে তাকে দেওয়া হয়ে ৪৮ লিটার। অথচ তার এক দিনেই বিক্রি হয় ৫০ লিটার। তাই আপাতত তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছেন তিনি। নওয়াপাড়া বাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, ঈদের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় ডিলাররা। আমাদের েেবশি দামে কিনতে হয় এসব পণ্য। তাই বেশি দামে কিনে, বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। আজকের বাজারে সয়াবিন তেল নাই, ঈদের আগে সংকট তৈরি করে দিয়েছে। প্রতি বছরই ঈদকে সামনে রেখে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। এখানে আমাদের মত ব্যবসায়ীদের কিছুই করার থাকে না। সবজি বিক্রেতা লিটন বলেন, সারা দেশ থেকে সঠিক সময় পৌঁছাতে পারছে না মালবাহি গাড়িগুলো। রাস্তার যানজটের কারনে সবজি আসতে দেরি হয়। তাই বেশি দামে আড়ৎ থেকে আমাদের কিনে আনতে হচ্ছে। প্রতিটি সবজিতে ৩ থেকে ৮ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে আমাদের। তাছাড়া গত সপ্তাহে বেগুনের দাম ৬০ টাকা ছিল তা এ সপ্তাহে ৮০ টাকায় এসে দাড়িয়েছে। নওয়াপাড়া বাজার করতে আসা মোঃ জুলহাস তরফদার বলেন, বাজারে সয়াবিন সংকট তৈরি করেছে ব্যবসায়ীরা। ১ লিটারে তেল আমার কাছে দাম রাখা হয়েছে ২০০ টাকা, যা গত সপ্তাহের থেকে ২০ টাকা বেশি। এছাড়াও মসলা, ডাল, চিনি, সকল পণ্যের দামই বেশি রাখা হচ্ছে। গতকাল কেজিতে তিন টাকা বেড়ে বড়োদানা মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯৮ থেকে ১০৫ টাকা। বেড়েছে খোলা ময়দার দামও, কেজিতে তিন টাকা বেড়ে গতকাল বাজারে তা ৫৫ থেকে ৫৮ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। দেশে বেশ কিছুদিন ধরে পেঁয়াজের বাজার শুধু স্থিতিশীলই নয়, নিম্নমুখীও। কিন্তু গতকাল বাজারে সব ধরনের পেঁয়াজই কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩০টাকা । পেঁয়াজের পাশাপাশি প্রতি কেজি দেশি রসুন ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১০ টাকা বেড়ে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here