ভারতের নোমান্সল্যান্ডে ভারত ফেরত যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে # সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে জটিলতা

0
232

এ্যান্টনি দাস অপু : দেশের সর্ববৃহত বেনাপোল স্থল বন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার যাত্রী বাংলাদেশ- ভারতে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করে। এর মধ্যে অনেকে ভারতে যান চিকিৎসার উদ্দেশ্য আবার কেউ যান আত্মীয় স্বজনদের কাছে। বর্তমানে বেনাপোল কাস্টমস্ কতৃপক্ষের উদ্দ্যেগে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট যাত্রীদের সবরকম হয়রানি, দালাল চক্র নির্মুল করে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হলেও পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে ভারত ফেরত যাত্রীদের বাংলাদেশ প্রবেশের আগে চরম ভোগান্তি শিকার হতে হচ্ছে।
সরজমিনে বেনাপোল বন্দরে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ থেকে ভারতে যান প্রায় আড়াই হাজার যাত্রী। এবং ভারত থেকে দেশে ফেরেন প্রায় তিন হাজার যাত্রী। নোমান্সল্যান্ডে প্রবেশের অনুমতি য়ে প্রায় তিন ঘন্টা অপেক্ষা করার পর প্রবেশের অনুমতি পেলে ভারতের নোমান্সল্যান্ডে প্রবেশ করে দেখা যায় ভারত ফেরত যাত্রীদের দূর্বীসহ ভোগান্তি। খোলা আকাশের নীচে লাইনে দাঁড়িয়ে রোদে পুড়ছে আবার কখনো বৃষ্টিতে ভিজছে যাত্রীরা। কেউ কেউ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়েও পড়ছেন।
ভারত ফেরত যাত্রীদের অভিযোগ, ভারতীয় ইমিগ্রেশনে ১২টি বুথে মাত্র ২-৩ জন স্টাফ সার্ভিস দেওয়ায় এবং ইমিগ্রেশনের মধ্যে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের আগ মুহুর্তে পেট্রাপোল বন্দরের নোমান্সল্যান্ডে চেকিং এবং ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য দীর্ঘ লাইন দিয়ে বাহিরে খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ছোট শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়স্ক যাত্রীদের। ফলে তীব্র রোদ আর গরমে যাত্রীদের অসুস্থ হয়ে পড়তে হয়। আবার কখনো ইমিগ্রেশনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে নিয়েই বাহিরে লাইনে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। তবে মেডিকেল ভিসায় ভ্রমণকারী যাত্রীদের এসব ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার থাকায় তাদের দূর্ভোগ কম হলেও রেহাই পাননা অনান্য ভিসায় ভ্রমন করা যাত্রীরা। এদিকে পেট্রাপোল বন্দরে কুলি ও দালালদের বিরুদ্ধে জনপ্রতি যাত্রীদের নিকট থেকে টাকা নিয়ে সিরিয়াল ভঙ্গ করে আগে আগে ইমিগ্রেশন পার করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় এ বন্দরে বিএসএফ এর দূূর্ব্যবহারের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
ভারতে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরা এক যাত্রী চট্রগ্রামের ফারজানা জাবির বলেন, “আমরা বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় পেট্রাপোলে এসে পৌছাই। সেখানে সোহাগ পরিবহনে করে আসি। তারাও আমাদের কাঙ্খিত সেবাটা দেয়নি। নোমান্সল্যান্ডে আমাদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। এদিকে সোহাগ পরিবহনের ওপাশের দায়িত্বে থাকা স্টাফ এবং কুলিরা আগে আগে ইমিগ্রেশন পার করে দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নিয়েছেন। তবুও তারা টাকা নিয়ে কিছুই করেনি, শুধু মাত্র আমাদের মালামালটা বহন করে দিয়েছে। অন্যদিকে বিএসএফ এর সদস্যদের দূর্ব্যাবহারের শিকার হতে হয়েছে।”
ভারতের নবদীপ দর্শন শেষে দেশে ফেরা রাঙামাটির সংকর ঢালী বলেন, “সকাল ৮টা থেকে আমি ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশনে লাইনে দাড়িয়ে বিকেল ৩টায় বাংলাদেশে প্রবেশ করলাম। পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে ১২ টি বুথে মাত্র ২ থেকে ৩ জন কাজ করছে। ফলে তাদের জনবল কম এবং কাজে ধীরগতির কারনে যাত্রীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করাসহ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।”
ভারতে থেকে ঈদের ছুটি কাটিয়ে দেশে ফেরত চট্রগ্রামের ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, “বেনাপোল বন্দরে আগে যেমন ভোগান্তি ছিলো তেমন ভোগান্তি এখন আর নেই। এ বন্দরে যথেষ্ট জনবল প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে পেট্রাপোলের ভারতীয় ইমিগ্রেশনে কর্মচারীদের কাজে ধীরগতির কারনে আমাদের দীর্ঘ ৬ থেকে ৭ ঘন্টা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। এর আগে দুবার গিয়েছি একই সমস্যায় পড়েছি।”
মেডিকেল ভিসায় ভারত ভ্রমণ এবং ভারত ফেরত যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মেডিকেল ভিসায় যাতায়াত করা রোগীদের খুব বেশি চেকিং করা হয় না। বন্দরের দু-পাশের ইমিগ্রেশনেই তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।গোপালগঞ্জের মালতি বিশ্বাস বলেন, “আমি মেয়েকে নিয়ে ভারতে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলা। দুই মাস পর ফিরছি। ক্যান্সারের রোগী বলে আমাদের আগে আগে চেকিং করে ছেড়ে দিয়েছে। তবে ওপারে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনান্য ভিসার যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছে।”এদিকে বেনাপোল বন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সামনের অংশের বহিঃবিভাগ থেকে শুরু করে ইমিগ্রেশনে ভেতরে সাংবাদিকদের ছবি তুলতে অনুমতি নিতে হচ্ছে। এছাড়া সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ইমিগ্রেশনের ভেতরে প্রবেশের জন্য এবং নোমান্সল্যান্ডে প্রবেশের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে ইমিগ্রেশন ওসি, কাস্টমস্ কতৃপক্ষ এবং বিজিবি ব্যাটেলিয়ন প্রধানের অনুমতি সাপেক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।
তবে প্রতিবেদক সংবাদ সংগ্রহের জন্য ইমিগ্রেশন ও নোমান্সল্যান্ডে প্রবেশের অনুমতি চাইলে প্রায় তিন ঘন্টা অপেক্ষা করার পর বিজিবির ব্যাটেলিয়ন কর্মকর্তার নিকট হতে অনুমতি মেলে। তবে ইমিগ্রেশনের ভেতরে ছবি বা ভিডিও ধারনের অনুমতি পাওয়া যায়নি। বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি আবুল কালাম আজাদের নিকট অনুমতি চাইলে তিনি রাজস্ব কর্মকর্তার সাথে কথা বলে অনুমতি নিতে বলেন। রাজস্ব কর্মকর্তার অনুমতি চাইতে গেলে তাকেও অফিস কক্ষে পাওয়া যায় না। ফলে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের দূর্ভোগ না থাকলেও সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বেনাপোল কাস্টমস্ সূত্রে জানা যায়, গত ঈদুল আজহা’র আগে এবং পরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় সাত-আট হাজার যাত্রী ভারতে যায়। ভোগান্তি কথা চিন্তা করে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে এ সময় যাত্রীদের কোন প্রকার ভোগান্তি হয়নি। ঈদের আগে বেনাপোল বন্দরকে দালাল ও সিন্ডিকেট করেছে কাস্টমস্ কতৃপক্ষ। তবে ভারতের পেট্রাপোলে ভারত ফেরত যাত্রীদের দূর্ভোগের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বেনাপোল কাস্টমস্ কমিশনার আজিজুর রহমান জানান, “পেট্রাপোল বন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ ওপাশের ব্যাপার। তবে আমাদের বেনাপোল বন্দরে যাত্রীরা স্বছন্দে চলাচল করছে। নোমান্সল্যান্ডে যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি নিয়ে এর আগেও তাদের সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। তারা বলছেন যে যাত্রীদের জন্য বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি প্রতিবেদককে ভারতীয় দূতাবাসের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here