নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ তুলে ইউপি চেয়ারম্যানকে ফাঁসানোর পায়তারা

0
263

যশোর প্রতিনিধি : যশোরের শার্শা উপজেলার ৮নং বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বামুনিয়া-সনাতনকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক এবং পরিচ্ছন্ন কর্মী পদে প্রার্থী নিয়োগে ওই বিদ্যালয়ের ম্যনেজিং কমিটির সভাপতি বাগআঁচড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে আনিত নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন বলে দাবী করছেন স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযোগ কারী মোছাঃ ইয়াছমিন খাতুন পরিছন্নকর্মী পদে আবেদন করেছিলেন। গত বুধবার(২৭ জুলাই) ইয়াছমিন অভিযোগ করেন, তার নিয়োগপত্র প্রাপ্তিতে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি’র সভাপতি ও বাগআঁচড়ার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল খালেকের নিকট নগদ চার লক্ষ টাকা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে আরও জানতে, পরদিন বৃহস্পতিবার(২৮ জুলাই) ইয়াছমিন খাতুনের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তার স্বামী জানান, “নগদ চার লক্ষ টাকা আমরা স্কুলের অফিস সহকারী মুছা আহম্মদের হাতে দিয়েছি”। “নিয়োগ প্রাপ্তিতে চার লক্ষ টাকা দিতে হবে চেয়ারম্যান আব্দুল খালেককে এমন কোন নির্দেশনা আপনাদের কাছে আছে কিনা” এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইয়াছমিনের স্বামী ফোন কেটে দেন।
চেয়ারম্যান আব্দুল খালেকের বলেন, “নিয়োগ প্রাপ্তিতে আমার এবং আমার কমিটি’র পক্ষ থেকে কোন প্রকার নিয়োগ বানিজ্য হয়নি বা আমি কোন প্রার্থীর নিকট থেকে নিয়োগ প্রাপ্তি বাবদ কোন টাকা পয়সা লেনদেন করিনি”।
তিনি আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কিছু দুষ্কৃতকারীরা মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে আমার এবং স্কুলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার চক্রান্ত চালাচ্ছে”। ঐ সকল চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে আমি অচিরেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো”। নিয়োগের ক্ষেত্রে আমার এবং আমার কমিটি’র পক্ষ থেকে যদি কেউ টাকা-পয়সা লেনদেন করে থাকে, উপযুক্ত প্রমানাদি পেলে তার বিরুদ্দে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।
টাকা লেনদেনের বিষয়ে আরেক পরিছন্নকর্মী পদের চাকুরী প্রার্থী রেক্সোনা খাতুন বলেন, “নিয়োগ প্রাপ্তির ব্যাপারে চেয়্যারম্যান আব্দুল খালেক কোন টাকা-পয়সা চাননি বা আমার কাছে এ ব্যাপারে কেহ টাকা-পয়সা দাবীও করেনি, তবে যোগ্যতার ভিত্তিতে লোক নিয়োগ দিলে তার কোন অভিযোগ থাকবে না”।
প্রার্থী শাহানাজ খাতুন বলছেন,” আমি গত ২ জুলাই যশোর জেলা স্কুলে গিয়ে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে এসেছি, আমি পরীক্ষায় খুব ভাল করেছি, আশা করি যোগ্যতার মাপকাঠিতে আমি নিয়োগ পাবো। তিনি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে টাকা লেনদেনের বিষয়টি একটি মিথ্যা অভিযোগ জানিয়ে নিয়োগ প্রাপ্তিতে স্কুল কমিটি’র পক্ষ থেকে কোন প্রকার টাকা-পয়সা দাবী করা হয়নি বলে দাবি করেন”।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, নির্ধারিত পদের অনুকুলে নিয়োগ প্রাপ্তিতে স্কুল কমিটির পক্ষ থেকে কোন প্রকার টাকা-পয়সা দাবী করা হয়নি বা চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক কারও নিকট থেকে কোন প্রকার টাকা-পয়সা গ্রহণ করেননি। গত ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান খালেকের প্রতিপক্ষ নির্বাচনে হেরে গিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে তার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য। কিন্তু সাধারণ জনগণ তার পাশে আছে, কেউ তার ক্ষতি করতে পারবে না। পরিচ্ছন্ন কর্মী প্রার্থী ইয়াছমিনের মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাখান করে এলাকাবাসী বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব একজন সৎ প্রকৃতির মানুষ, তিনি এই স্কুলের জন্য নিজের পকেট থেকে বহু টাকা খরচ করছেন আর তিনি কিনা নিয়োগ বাণিজ্য করবেন, এটা হাস্যকর।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বলেন,”দুটি পদের অনুকূলে মোট ১৪ জন প্রার্থী আবেদন পত্র জমা দেন এদের মধ্যে মোট ১২ জন আবেদন কারী লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। যশোর জেলা স্কুলে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানকার প্রধান শিক্ষক সোয়াইব হোসেন নির্বাচিতদের তালিকা এখন পর্যন্ত আমাদের স্কুলে পাঠাননি। উক্ত তালিকা যাচাই-বাছাই করে স্কুল কমিটি দুই পদের জন্য দুই জনকে নিয়োগ পত্র প্রদান করবেন। এই পদের অনুকুলে আমার স্কুল কমিটির পক্ষ থেকে কারও নিকট থেকে কোন প্রকার টাকা গ্রহণ করা হয়নি বা কোন প্রার্থীর নিকট টাকা দাবীও করা হয়নি। বরং একটি পক্ষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ানোর জন্য আমাকে ফোন করে আমাকে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here