একরাতে যশোরে সাইকেল বাজারে বিক্রে বাইসাইকেলের

0
332

এ্যান্টনি দাস অপু : সারাদেশে হঠাৎ জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে যশোরের বাজার গুলোতে বাইসাইকেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সমানতালে বেড়েছে বিক্রিও। ক্রেতাদের দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাইসাইকেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছে বিক্রেতারা।এদিকে বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের ন্যায় বিশ্ববাজারে বাইসাইকেলের কাঁচা মালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া এবং কিছু পার্টস আমদানি কমে যাওয়ার কারনে বাইসাইকেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বের বাজারমূল্যের তুলনায় এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বাইসাইকেল। তবে অযৌক্তিক দামে বাইসাইকেল বিক্রয়ে বাজার তদারকি চলবে বলে জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রোববার সকাল থেকে যশোর শহরের বিভিন্ন বাইসাইকেলের দোকান ঘুরে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার হিরো কোম্পানির বাইসাইকেল বিক্রি হয়েছে ৭ হাজার ২শ টাকা করে। এর পরের দিন শুক্রবার রাতেই বৃদ্ধি পায় জ্বালানি তেলের মূল্য। এরপরের দিন শনিবার থেকে আজ রোববার পর্যন্ত সেই সাইকেল বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার ৫শ থেকে ৯শ টাকায়, ছোটদের ২০ ইঞ্চি, ১৬ ইঞ্চি এবং ১২ ইঞ্চি বাইসাইকেলের মূল্য বেড়েছে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা । এছাড়া এভোন ১০ হাজার টাকা থেকে ১১ হাজার ৯শত টাকা, গিয়ার সাইকেল ১৩হাজার থেকে বেড়ে ১৫ হাজার টাকা হয়েছে। ফনিক্স ১০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১১ হাজার ৯শত টাকা। ক্যাপ্টেন সাইকেল ৭ হাজার ৩শ টাকা থেকে বেড়ে দাড়িয়েছে সাড়ে ৮ হাজার টাকা ।
মনিরামপুর থেকে সাইকেল কিনতে আসা ক্রেতা রশিদ রহমান বলেন, ‘তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাইকেল কেনার উদ্দেশ্যে শহরে এসেছি। একদিনেই দাম বেড়ে যাবে কল্পনাও করতে পারিনি।
আরেক ক্রেতা রবিউল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে সুযোগ একটা পাইলে এক একটি খাতের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। তেলের দাম বৃদ্ধিতে অনেকে সাইকেলের দিকে ঝুঁকছে এমন সময় সাইকেল বিক্রেতারা এই সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছে। বাজার তদারকির কোন নামগন্ধই নেই সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের।
বাইসাইকেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে শহরের দড়াটানা মোড়ের দোস্ত এন্ড কোম্পানির মালিক জাফর আলী বলেন, বিশ্ব বাজারে ডলার, তেল, লোহার কাঁচা মালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার প্রভাব বাইসাইকেলের উপরে পড়েছে।এদিকে গাড়িখানা সড়কে নাফা সাইকেল স্টোরের প্রোপ্রাইটর শেখ সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘অধিকাংশ বাইসাইকেল বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এবাদে কিছু বাইসাইকেল দেশে উৎপাদন করা হয়। এর কাচা মাল বিদেশ থেকে আনতে হয়। তাই বাইসাইকেল বাহন খরচ, দোকান খরচ, কর্মচারী বেতনসহ বিভিন্ন খরচ মিলিয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
মুন এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার শাহ আলম বলেন, ‘তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে বাইসাইকেল ও সাইকেলের পার্টস্ আমদানি কমে গেছে। এ কারণে সাইকেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।’
যশোর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব বলেন, অযৌক্তিক দামে বিক্রেতা বাইসাইকেল বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ বিষয়ে বাজার তদারকি চলমান থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here