যশোরের অভয়নগরের নৈশপ্রহরী মিন্টু তরফদার হত্যার দুইদিনের ব্যবধানে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন

0
266

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের অভয়নগরের নৈশপ্রহরী মিন্টু তরফদার হত্যার দুইদিনের ব্যবধানে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। একই সাথে হত্যায় জড়িত দুই আসামিকে মেহেরপুর জেলা থেকে আটক করেছে ও নিহত মিন্টু তরফদারের ব্যবহৃত দুইটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পিবিআই। আটককৃতরা হলেন, নড়াইল জেলার রুখালী গ্রামের ইনাজ বিশ্বাসের ছেলে ও অভয়নগরের বাশুয়াড়ী সুকপাড়ার বাসিন্দা রায়হান এবং সাতক্ষীরা জেলার কাউনডাঙ্গা গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে আশিকুর রহমান। আটকের পর সোমবার তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা হত্যার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার দালাল আসামিদের জবানবন্দি গ্রহন শেষে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নিহত মিন্টু তরফদার উপজেলার বেঙ্গল টেক্সটাইল মিল এলাকার মৃত মুসা তরফদারের ছেলে। পিবিআই ও আদালত সূত্র জানায়, গত ১৯ আগস্ট আটক রায়হান বিশ^াস ও আশিকুর রহমান চাকুরির জন্য অভয়নগরের ‘সরদার এন্টারপ্রাইজ’ কয়লার ডিপোতে যা। কিন্তু তাদের জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকায় কর্তৃপক্ষ চাকরি দেয় না । তারা ফিরে আসার পথে নৈশ প্রহরী মিন্টু তরফদারের হাতে দুইটি মোবাইল ফোন দেখতে পায়। আসামিরা ওই ফোন দুইটি চুরির পরিকল্পনা করে। এক পর্যায় ওই নৈশ প্রহরীর সাথে ভাব জমায়। রাতে তারা অফিস কক্ষে থাকার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু নৈশ প্রহরী রাজি না হওয়ায় আকুতি মিনতি করে আসামিরা। এক পর্যায় রাজি হন মিন্টু। রাত নয়টার পর গল্পের ছলে তারা মিন্টু তরফদারের গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে মোবাইল দুইটি নিয়ে দুজনে পালিয়ে যায়। আাসামিরা জানায়, পরের দিন তারা মিন্টুর একটি মোবাইল ফোন খুলনা সোনাডাঙ্গা নিউ মার্কেট বাইতুন নুর জামে মসজিদ মার্কেটের একটি দোকানের কর্মচারীর কাছে বিক্রি করেন। অপরটি মেহেরপুর জেলার গাংনী থানাধীন আসামী রায়হানের খালার বাড়ী কাজীপুরে যেয়ে বিক্রি করে। এদিকে, গত শনিবার সরকার গ্রুপের ঘাটের অফিসের ভেতর থেকে মিন্টুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জুলেখা বেগম অজ্ঞাত আসামি করে অভয়নগর থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। পুলিশ সুপার রেশমা শারমিনে নির্দেশে, পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) দেবাশীষ মন্ডল , এসআই স্নেহাশিস দাশ, এসআই ডিএম নূর জামাল, এসআই মিজানুর রহমান-১ এর সমন্বয়ে একটি টিম খুলনা জেলায় অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। পরে সেখান থেকে তথ্য নিয়ে পুলিশ পরিদর্শক শামীম মুসা . এসআই রেজোয়ান, এসআই গোলাম আলীর সমন্বয়ের আরেকটি টিম মেহেরপুর জেলায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের আটক করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here