চেক জালিয়াতি মামলায় প্রধান শিক্ষকের এক বছরের কারাদণ্ডসহ ৮ লক্ষ টাকা জরিমানা

0
263

মাবিয়ার রহমান মনিরামপুর প্রতিনিধিঃ যশোরের মনিরামপুরে চেক জালিয়াতি মামলায় জামাল উদ্দিন মুন্না নামে এক প্রধান শিক্ষককে এক বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত।একই সাথে আদালত তাঁকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।
জামাল উদ্দিন মুন্না উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের মাঝিয়ালি গ্রামের মৃত সুজাউদ্দিনের ছেলে।তিনি চাঁদপুর-মাঝিয়ালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
মুন্নার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলার বাদী একই উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের মাতৃভাষা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হাসানুল কবির।
অধ্যক্ষর স্ত্রীকে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে মুন্না ৮ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ।
চলতি বছরের ৩১ জুলাই যশোর আদালতের যুগ্ম দায়রা জজ শিমুল কুমার বিশ্বাস জামাল উদ্দিন মুন্নার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন। পরে ১০ আগস্ট রায়ের কপি প্রকাশ পায়। বিষয়টি গোপন থাকায় আজ বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রায়ের কপি গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে পৌঁছেছে।রায়ের বিবরণীতে জানা যায়, কয়েক বছর আগে মনিরামপুরের রোহিতা ইউনিয়নে ‘গাঙ্গুলিয়া প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন জামাল উদ্দিন মুন্না। এরপর মাতৃভাষা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হাসানুল কবিরের স্ত্রীকে সেখানে চাকরি দেওয়ার কথা বলে অধ্যক্ষর কাছ থেকে ৮ লাট টাকা ঘুষ নেন তিনি। চাকরি না হলে ৩ মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অধ্যক্ষর স্ত্রীর চাকরি না হওয়ায় চাপাচাপির এক পর্যায়ে গত বছরের ১ ও ২৫ জুন মুন্না আল আরাফাহ ব্যাংকের মনিরামপুর শাখায় তাঁর নিজের হিসাব নম্বরে অধ্যক্ষকে দুটি চেক দেন। মুন্নার হিসাব নম্বরে টাকা না থাকায় ওই মাসের ১৬ তারিখ চেক দুটো ডিজঅনার হয়। এরপর টাকা পরিশোধের জন্য অধ্যক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে মুন্নাকে উকিল নোটিশ করেন। নোটিশের সাড়া না পেয়ে গেল বছরের ৪ অক্টোবর মুন্নার বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা করেন হাসানুল কবির। রায়ে আরো জানা যায়, আদালত থেকে জামিন নেন মুন্না। জামিনের মেয়াদ শেষে তিনি আর আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালত তাঁর অনুপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে চলতি বছরের ৩১ জুলাই যশোর আদালতের যুগ্ম দায়রা জজ শিমুল কুমার বিশ্বাস ‘হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন ১৮৮১’ এর ১৩৮ ধারায় জামাল উদ্দিন মুন্নাকে অভিযুক্ত করে তাঁকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৮ লাখ টাকা জরিমানা করে রায় ঘোষণা করেন।
অধ্যক্ষ হাসানুল কবির বলেন, প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে আমার দুই আত্মীয়কে চাকরি দেবেন বলে জামাল উদ্দিন মুন্না ৮ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। পরে চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে তিনি আমাকে দুটো চেক দেন। কিন্তু ব্যাংকের নির্ধারিত শাখায় যেয়ে দেখি তাঁর হিসাব নম্বরে টাকা নেই। পরে আমি মামলা করি।
জামাল উদ্দিন মুন্না বলেন, চাকরির বিষয় না সুসম্পর্কের কারণে হাসানুল কবিরের কাছ থেকে লাভের বিনিময়ে আমি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিই। পরে তাঁকে খালি চেক দিলে তিনি ৮ লাখ টাকা বসিয়ে নেন।
মুন্না বলেন, রায় পেয়ে আমি (বৃহস্পতিবার) আদালতে জরিমানার অর্ধেক অর্থাৎ ৪ লাখ টাকা জমা দিয়ে জামিনের আবেদন করেছি। আশা করছি আগামী রোববারের দিকে জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাব।
অভিযোগ রয়েছে, ৩-৪ বছর আগে মুন্না উপজেলার মাঝিয়ালি ও গাঙ্গুলিয়ায় দুটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে বহু মানুষকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
এদিকে আদালতে সাজা হওয়ায় জামাল উদ্দিন মুন্নার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন চাঁদপুর-মাঝিয়ালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ।
বিদ্যালয়ের সভাপতি মামুনুর রশীদ জুয়েল বলেন, ‘আমরা শুনেছি প্রধান শিক্ষকের সাজা হয়েছে। রায়ের কপি হাতে পেলে বিষয়টি নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেব।’
মনিরামপুর থানার ইনচার্জ (ওসি) নূর-ই-আলম সিদ্দীকি বলেন, জামাল উদ্দিন মুন্না নামে কারো বিরুদ্ধে থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে কিনা তা খুঁজে দেখতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here