মাবিয়া রহমান,মনিরামপুর (যশোর)প্রতিনিধিঃ চেক জালিয়াতি মামলায় ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড হওয়ায় যশোরের মনিরামপুরের চাঁদপুর-মাঝিয়ালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন মুন্নাকে চাকরি থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ আজ রোববার তাকে বহিস্কার করে সহকারী শিক্ষক সংকর রায়কে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মামুন অর রশীদ জুয়েল দৈনিক যশোর পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামুন অর রশীদ জুয়েল জানান, প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন মুন্নাকে আদালত চেকের মামলায় ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও নগদ ৮ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর গত ৬ সেপ্টেম্বর আমরা সদস্যদের নিয়ে সভায় বসেছি। সেখানে তাঁকে সাময়িক বহিস্কারের সিদ্ধান্ত হয়।
সভাপতি বলেন, আজ রোববার থেকে বহিস্কারাদেশ কার্যকর হবে।পত্রের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানানো হয়েছে।তাঁকে নিয়মিত স্কুলে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি করে তিনি স্ব-পদে যোগদান না করলে তাঁর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চাঁদপুর-মাঝিয়ালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সংকর রায় বলেন,আমাকে পত্রের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার মাতৃভাষা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হাসানুল কবিরের স্ত্রীকে নিজের প্রতিষ্ঠিত গাঙ্গুলিয়া প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৩-৪ বছর আগে ৮ লাখ টাকা নেন প্রধান শিক্ষক মুন্না।পরে চাকরি দিতে না পারায় অধ্যক্ষ হাসানুল কবির প্রধান শিক্ষক মুন্নাকে চাপ দিলে তিনি গত বছরের ১ ও ২৫ জুন মুন্না আল আরাফাহ ব্যাংকের মনিরামপুর শাখায় তাঁর নিজের হিসাব নম্বরে অধ্যক্ষকে দুটি চেক দেন। মুন্নার হিসাব নম্বরে টাকা না থাকায় ওই মাসের ১৬ তারিখ চেক দুটো ডিজঅনার হয়।এরপর টাকা পরিশোধের জন্য অধ্যক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে মুন্নাকে উকিল নোটিশ করেন।নোটিশের সাড়া না পেয়ে গেল বছরের ৪ অক্টোবর মুন্নার বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা করেন হাসানুল কবির।
দীর্ঘ পর্যবেক্ষনের পর গত চলতি বছরের ৩১ জুলাই যশোর আদালতের যুগ্ম দায়রা জজ শিমুল কুমার বিশ্বাস জামাল উদ্দিন মুন্নার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন।আদালত তাঁকে পলাতক দেখিয়ে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।















