স্বর্ণালংকারের লোভে রোশনিকে খুন করে আপন ভাগ্নে

0
294

যশোর প্রতিনিধি : যশোর শহরের রেল রোড আশ্রম মোড়ে গৃহবধূ রওশন আরা রোশনী হত্যায় জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোর।
উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু, রক্তমাখা কাপড় ও স্বর্ণালংকার। বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন।
গেফতাকৃতরা হলেন- যশোর উপশহরের মৃত মাহমুদুল আলম চৌধুরীর ছেলে রিয়াজুল আলম চৌধুরী ওরফে হৃদয় (১৯) ও আব্দুল হাকিমের ছেলে বোরহান উদ্দিন (২০)। এর মধ্যে হৃদয় নিহত রোশনীর বোনের ছেলে।
মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বুরহানকে বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার ঝনঝনিয়া গ্রামে তার মামা হরমুজ আলীর বাড়ী থেকে এবং একইদিন বিকাল ৫টার দিকে হৃদয়কে ঢাকা ভাষানটেক থানাধীন ক্যান্টনমেন্ট গ্যারিসন এলাকায় তার খালু ইঞ্জিনিয়ার মোক্তার হোসেন এর ভাড়া বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা জানায়, নিহত রোশনী রিয়াজুল আলম চৌধুরী ওরফে হৃদয়ের সম্পর্কে আপন খালা। হৃদয় মাঝে মধ্যে তার খালা রোশনীর বাড়ীতে যাওয়া আসা করত। তার খালা রোশনী বাড়ীতে একা থাকার বিষয়টি সে অবগত ছিল। রোশনী বাড়ীতে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা পয়সা কোথায় রাখতো হৃদয় তা জানত।
হত্যাকান্ডের কয়েকদিন পূর্বে হৃদয় তার বন্ধু বুরহানকে সাথে নিয়ে খালা রোশনীকে হত্যা করে স্বর্ণালংকার ও টাকা পয়সা লুন্ঠনের পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৯ আগস্ট সকালে হৃদয় তার বন্ধু বুরহানকে সাথে নিয়ে তার খালা রোশনীর বাড়ীতে যায় এবং রোশনীর সাথে বিভিন্ন কথাবার্তা বলে। আলাপচারিতার একপর্যায়ে তারা অতর্কিতভাবে ধারালো চাকু দিয়ে রোশনীর পেটে বুকে ও গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করে মৃতদেহ ঘরে থাকা বক্স খাটের কাঠের চালার নিচে লুকিয়ে রাখে। হত্যার পর রোশনীর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও আলমারীতে থাকা
স্বর্ণের ও ইমিটেশনের গহনা বের করে নিয়ে পালিয়ে যায়। পিবিআই পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার পর আসামীরা রোশনীর আত্মীয়স্বজনের সাথে মিলে চলা ফেরা করে যাতে কেহ তাদের সন্দেহ না করে। হত্যাকন্ডের পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের তৎপরতা বৃদ্ধি পেলে তারা গ্রেফতার এড়াতে যশোর থেকে তাদের নিজ নিজ আত্মীয়ের বাড়ীতে কৌশলে গা-ঢাকা দেয়। পরবর্তীতে তাদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদকালে তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তাদের দেখানো মতে লুন্ঠিত স্বর্ণালংকার, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু ও হত্যার সময় তাদের পরনে থাকা ফেলে দেওয়া কাপড় উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্ত বুরহান ও হৃদয়কে বুধবার যশোর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম এর আদালতে সোপর্দ করা হলে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন যশোর পিবিআই পুলিশের এ কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, গত ২৯ আগস্ট বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে রোশনীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রোশনী একই এলাকার সাবেক প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মরহুম মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী। হত্যার ঘটনায় নিহতের মা সেবিনা বেগম গত ৩০ আগস্ট রাতে অজ্ঞাত আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here