অফ সিজন তরমুজে বাম্পার ফলন, উপকূলীয় কয়রায় ক্লাইমেট স্মার্ট, পদ্ধতির,তরমুজ চাষে সাড়া ফেলেছে

0
234

শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন কয়রা (খুলনা) : তরমুজের মৌসুম না থাকলেও অসময়ে তরমুজ চাষ হচ্ছে উপকূলীয় কয়রার লবণাক্ত ঘেরের আইলে। অফ সিজনে তরমুজ চাষ করে কৃষকরা পেয়েছে সফলতা। অফ সিজন তরমুজ চাষ লাভজনক হওয়ায় উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকার কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে । মাছের ঘেরের আইলে অসময়ের এ তরমুজ চাষ সম্প্রসারিত করা গেলে এ অঞ্চলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে,পাশাপাশি অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঘেরে মাছ ও ধান চাষ হলেও ঘেরের পাড় (আইল) থেকে 8/10 হাত পর্যন্ত পানির উপরে মাচা করে এ তরমুজ চাষ হচ্ছে । উপজেলার আমাদি কিনু কাটি গ্রামের কৃষক অমল কৃষ্ণ মিস্ত্রি নিজের 6 বিঘা ঘেরের চারপাশের আইলে তিনশতাধিক মাদায় ইস্পাহানি কোম্পানির কালো মানিক রংধনু ও রঙ্গিলা জাতের ছয় থেকে 700 গাছে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন বাদে এ পর্যন্ত 25 মন বিক্রি করেছে। বাগালি ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কৃষক তৌহিদুর রহমান আট বিঘা জমির চারপাশের ঘেরের আইলে একই জাতের তরমুজ চাষ করে 45 মন বিক্রি করেছে। মণপ্রতি 16 শ টাকা দরে বিক্রি করে মহা খুশি । বগা গ্রামের শাহিনুর রহমান,জয়দেব মিস্ত্রি,অসীম বিশ্বাস, যোগেশ বারোপোতা গ্রামের বঙ্কিম মাস্টার ইসলামপুরের রুহুল মোড়ল আজিজুল গাজী ও জহুরুল তারাও ঘেরের আইলে প্রথমবারের মতো অফ সিজন তরমুজ চাষ করে সফল।এতে করে ধান ও মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের আইলে অফ সিজন তরমুজ চাষ করে লাভবান হওয়ায় এলাকায় এই পদ্ধতির তরমুজ চাষে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কৃষকরা বলেন, কয়রা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো ক্লাইমেট স্মার্ট পদ্ধতিতে ঘেরের আইলে অফ সিজন তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছি। মে মাসের শেষ সপ্তাহে এই তরমুজের বীজ বপন করি 60/70 দিন অর্থাৎ আগস্টের মাঝামাঝিতে ফল উঠানো শুরু করি অদ্যবধি ফল বিক্রি চলমান আছে এ মাসের শেষ পর্যন্ত বিক্রি করতে পারব । প্রথম পর্যায়ে তরমুজ শেষ হলে দ্বিতীয়বার বীজ বপন করবেন শীত পড়লে আবারো তরমুজ কাটা শুরু হবে। কৃষকরা বলেন উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ প্রশিক্ষণ এবং মাটি ও সার ব্যবস্থাপনার ফলে তরমুজের বাম্পার ফলন সম্ভব হয়েছে। এলাকাসহ পাশের গ্রামের লোকজন প্রতিনিয়ত দেখতে এসে তারাও এই পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে । উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আসাদুজ্জামান বলেন,বর্ষাকালে ঘেরের পাড়ে তরমুজ চাষ করায় সেচের প্রয়োজন হয় না,পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পাওয়া যায়। ক্লাইমেট স্মার্ট পদ্ধতিতে ফসল আবাদ করায় পোকামাকড়ের আক্রমণ ও কম হচ্ছে। এই প্রকল্পের প্রযুক্তি উপকূলীয় এলাকায় ছড়িয়ে দিতে পারলে শুধু তরমুজ নয় ঘেরের পাড়ের আইলের পতিত জমিতে সিম,টমেটো,হলুদ,মানকচু,লাউ কুমড়া সহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা হলে উপকূলীয় কয়রা অঞ্চলের কৃষিতে নব দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here